
খুলনার ফুলতলার দামোদর ৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে সাব্বির (১৮) নামে এক ডিস লাইন কর্মী খুন হয়েছে। এ সময় নিরব (১৭) ও স্বাধীন (১৮) নামে অপর এক বন্ধু গুরুতর জখম হয়। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাব্বিরের লাশের ময়না তদন্ত শেষে শুক্রবার বিকালে দাফন সম্পন্ন। আহত দুইজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, ফুলতলার বাসস্ট্যান্ডে মটরগাড়ির কলারম্যান ও দামোদর পূর্বপাড়ার বাসিন্দা মোস্তফার পুত্র সাব্বির তার বন্ধু নিরব ও স্বাধীনকে নিয়ে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ৮নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিয়ন ভূমি অফিসের পশ্চিম পাশে তাদের অপর বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে যায়। একটা মেয়েলী ঘটনাকে কেন্দ্র করে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে কিশোর গ্যাংয়ের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে ছুরিকাঘাতে সাব্বির, নিরব ও স্বাধীন গুরুতর জখম হয়। দ্রুত তাদের উদ্ধার করে প্রথমে ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরন জনিত কারণে হাসপাতালে নেয়ার পর পরই সাব্বিরের মৃত্যু ঘটে এবং গভীর ক্ষতের কারণে নিরবের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। শুক্রবার সাব্বিররের লাশের ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বাদ আছর দামোদর পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাযা শেষে উপজেলা সরকারি গোরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।
ফুলতলা নেট ভিশনের সত্ত্বাধিকার প্রদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, সাব্বির অত্যন্ত বিনয়ী ও ভদ্র গোছের ছেলে। তাকে মাসিক ৮ হাজার টাকা বেতনে ডিস লাইন রক্ষণ-বেক্ষণের কাজ করত। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার আগেই সে কর্মস্থল থেকে চলে যায়। জরুরী প্রয়োজনে তাকে একাধিকবার ফোন কল দিয়ে এবং ক্ষুদ্র বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সে সাড়া দেয়নি।
নিহত সাব্বিরের পিতা মোস্তফা জানান, ঘটনার সময় আমি তখন বাজারে ছিলাম। ডিস লাইন অফিসের কাজ সেরে সাব্বির বাসায় যায়। সন্ধ্যার পর বাসা থেকে খেয়ে বাড়ির বাইরে আসে। এরই মধ্যে একটা ছেলে আমাকে ফোন দিয়ে জানান সাব্বির জখম হয়েছে, তাকে হাসাপাতালে নেয়া হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে আমি সাইকেল চালিয়ে ফুলতলা হাসপাতালে যাই। ডাক্তাররা জরুরী ভিত্তিতে খুলনায় নেয়ার পরামর্শ দিলে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।
ফুলতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মোস্তফা কামাল বলেন, বন্ধুদের মধ্যে আভ্যন্তরিন দ্বন্দের কারণে সাব্বির খুন হয়েছে। থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। সন্দেহভাজন আসামিদের গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।