অসহায় শিশু রিয়ার পাশে পুলিশ কর্মকর্তা

সাঈমন আহম্মদ, চাঁদপুর  :মানবিক মূল্যবোধের অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন, চাঁদপুরে মতলব উত্তর থানার ওসি কবির হোসেন। রিয়া মণি নামে অভিভাবকহীন স্কুল পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়িয়ে সব ধরনের সাহায্যের হাত বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেন দয়ালু এই পুলিশ কর্মকর্তা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মতলব উত্তরের জহিরাবাদ ইউনিয়নের শিকিরচর এলাকার সানকিভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী রিয়া মনি (৯)। খুব ছোটবেলায় বাবা-মাকে হারায় সে। তারপর নানা সাদেক আলীর আশ্রয়ে লালিত পালিত হয়েছে রিয়া মণি। এর মধ্যে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ছিল সে। পড়াশোনা কষ্টে চললেও খাবার ও পোশাক নিয়ে সঙ্কটে পড়ে রিয়া মনি। মতলব উত্তর থানায় সদ্য যোগদানকারী ওসি কবির হোসেন তার এমন দুর্ভোগের কথা শুনে পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন। রবিবার সন্ধ্যায় তিনি রিয়া মণিকে থানায় ডেকে আনেন। এ সময় তাকে বিদ্যালয়ের দুই সেট পোশাক, শিক্ষা উপকরণ ও উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করান। একপর্যায়ে ওসি কবির হোসেন প্রতিশ্রুতি দেন, ভবিষ্যতে রিয়া মণি‘র সকল দায়দায়িত্ব তিনি বহন করবেন।

ফরাজিকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য খোকন প্রধান জানান, খুব ছোটবেলায় রিয়ার মা তার বাবাকে ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়। পরে বৃদ্ধ নানা সাদেক আলী কাছে লালিত পালিত হতে থাকে। এর মধ্যে অভাবের সংসারে রিয়ার ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত ছিলেন নানা সাদেক আলী। এই প্রসঙ্গে বৃদ্ধ সাদেক আলী জানান, আমার অসহায় নাতনির ওপর মহান আল্লাহ‘র রহমত নেমে এসেছে। তাই একজন পুলিশ কর্মকর্তা রিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছেন।

সানকিভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা জানান, পড়াশোনার প্রতি রিয়া মণির বেশ আগ্রহ রয়েছে। কিন্তু উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে তার সুন্দর আগামী অনিশ্চিত হতে চলেছিল। তবে ওসি সাহেব এখন রিয়া মণির পাশে দাঁড়ানোয় তার জীবনে আশা আলো দেখা দিল।

মতলব উত্তর থানার ওসি কবির হোসেন বলেন, নিছক প্রচারের জন্য কিংবা বাহবা নিতে নয়। মানবিক মূল্যবোধ থেকে অসহায় এই শিশুর পাশে দাঁড়িয়েছি। তিনি আরো বলেন, সারাদেশে এমন আরো অসংখ্য রিয়া রয়েছে, যাদের জন্য খোলা মনের মানুষজন এগিয়ে যেতে পারেন। তবেই আমাদের মানবিক মূল্যবোধের দ্বার আরো সমৃদ্ধ হবে।