আজ - রবিবার, ২৭শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৩রা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি, (হেমন্তকাল), সময় - ভোর ৫:৩২

আটকদের না ছাড়লে সারা দেশে দাবানল ছড়াবে-কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন

আজ সোমবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে আন্দোলনকারীদের সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা এ কথা বলেন।

সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রাশেদ খান সাংবাদিকদের বলেন, আমরা পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) বলতে চাই যারা আন্দোলন করছেন তাঁরা আপনার ভাই বা সন্তানের মতো। তাঁরা কারও বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন না। তাঁরা অধিকারের প্রশ্নে আন্দোলন করছেন। তাই আজ দুপুরের মধ্যেই আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দেন। তা না হলে আন্দোলনে দাবানল সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে।

‘ক্যাম্পাসে গুলি কেন? উপাচার্য ঘুমিয়ে কেন’

‘ক্যাম্পাসে গুলি কেন?’, ‘পুলিশ কেন?’, ‘উপাচার্য ঘুমিয়ে কেন?’—গতকাল রোববার গভীর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামানকে এই প্রশ্ন করেন সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা। তাঁর বাসভবনে ঢুকে তাঁকে এ প্রশ্ন করেন তাঁরা। একপর্যায়ে তাঁরা উপাচার্যের বাসভবনে ভাঙচুর চালান। তছনছ করেন বাসভবনের শোয়ার ঘর, বাথরুম ও রান্নাঘর।

গতকাল রোববার দিবাগত রাত দেড়টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত এই ভাঙচুর চলে। এ সময় উপাচার্য ছিলেন নিশ্চুপ। কিছু বলতে চান কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কার সঙ্গে কথা বলব? এরা তো কথাই শুনছে না।’

ভিসির বাসভবনের সামনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ছবি: তানভীর আহম্মেদ

ভিসির বাসভবনের সামনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। 

কোটা সংস্কারের দাবিতে ঢাকায় গতকালের দিনভর আন্দোলন কর্মসূচি ছিল শান্তিপূর্ণ। শাহবাগে অবস্থান নেওয়া আন্দোলনকারীদের পুলিশ তুলে দিতে চাইলে দুই পক্ষে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। পুলিশ লাঠিপেটা করে; গরম পানি ছিটিয়ে, রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

পুলিশের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা উপাচার্যের বাসায় ঢুকে পড়েন। বাসভবনের শোয়ার ঘর থেকে বাথরুম, রান্নাঘরসহ সবখানে ভাঙচুর চলে।

আন্দোলনকারীদের একাংশ উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করে। তারা গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে যায়। ফুলের টব ভেঙে ফেলে। শতাধিক শিক্ষার্থী নিচতলার তিনটি কক্ষে ভাঙচুর চালান। বাড়ির আসবাবপত্র ও ছবি ভাঙচুর করেন। বাথরুমের কমোড, বেসিন ভেঙে ফেলেন।

এরপর আন্দোলনকারীরা দোতলায় শোয়ার ঘরের জানলা, দরজা ভাঙেন। রান্নাঘরে ভাঙচুর চালান।

 

উপাচার্যের পরিবার বাসভবনের পেছন দিকে অবস্থান করে বলে প্রত্যক্ষর্দশীরা জানান।

আন্দোলনকারীরা উপাচার্যের কাছে জানতে চান, তিনি কোটার পক্ষে না বিপক্ষে?

উপাচার্যের বাসভবনে ভাঙচুর ও আন্দোলনের একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন সহকারী প্রক্টর, মোহসীন হলের প্রাধ্যক্ষ নিজামুল হক ভূঁইয়া ও আরও কয়েকজন শিক্ষক যান। এ সময় সাংবাদিকেরাও সেখানে ছিলেন। সেখানে উপাচার্যকে বিধ্বস্ত অবস্থায় দেখা যায়। সেখানে ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেনকেও দেখা যায়।

শিক্ষকেরা আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেন। পরে উপাচার্যকে বাইরে এনে চেয়ারে বসানো হয়। রাত আড়াইটার দিকে সেখানে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক যান। তিনি পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন।

পরে পুলিশ আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেয়। আন্দোলনকারীদের একাংশ টিএসসি ও একাংশ কার্জন হলের দিকে চলে যায়।

উপাচার্যের বাসার গ্যারাজে রাখা দুটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। এ সময় আগুন ধরে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসকে আগুন নেভাতে দেখা যায়।

এ ছাড়া সংঘর্ষের সময় উপাচার্যের বাসভবন ও আশপাশের এলাকায় বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

আরো সংবাদ
যশোর জেলা
ফেসবুক পেজ
সর্বাধিক পঠিত