‘আমি টেন্ডুলকার-ম্যাকগ্রা না যে মানুষ আমাকে মনে রাখবে’: মাশরাফি

রাজনীতিতে নামার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে। আর সেখানে রাজনীতিতে নামার ব্যাখ্যায় মাশরাফি দাবি করলেন, তিনি মহাতারকা নন যে ক্রিকেট ছাড়ার পর সবাই তাঁকে মনে রাখবে

মাশরাফি বিন মুর্তজা সুপার স্টার নন! মাশরাফি খেলা ছাড়ার পর খুব বেশি মানুষ তাঁকে মনে রাখবে না! আজ সংবাদ সম্মেলনে এই দুই দাবি করলেন খোদ মাশরাফি বিন মুর্তজাই। খেলার এই বর্ণাঢ্য জীবনটাকে একরকম ইতি টেনে দিয়ে রাজনীতিতে কেন নেমে পড়ছেন, এর ব্যাখ্যায় মাশরাফি বলেছেন, ‘আমি শচীন টেন্ডুলকার বা ম্যাকগ্রা না যে মানুষ আমাকে মনে রাখবে।’

বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। সে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নড়াইল থেকে নির্বাচন করছেন মাশরাফি। তবে নির্বাচনের আগেই আরেক পরীক্ষা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের ওয়ানডে সিরিজ। যে তিন ম্যাচ দিয়েই মাশরাফি সম্ভবত ঘরের মাঠ থেকে বিদায় নেবেন। বর্তমান সূচি অনুযায়ী বিশ্বকাপের আগে মাশরাফি আর দেশের মাটিতে খেলার সুযোগ পাবেন না।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজটা হবে নির্বাচনী ডামাডোলের মধ্যেই। তখন যেন ক্রিকেটের বাইরে কোনো প্রশ্নের মুখে না পড়তে হয়, মাশরাফি এ জন্য এখনই সংবাদ সম্মেলন করলেন অনেকটা ব্যক্তিগত উদ্যোগে। আজ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম অঙ্গনেই জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলন করেছেন মাশরাফি।

রাজনীতিতে নামার ব্যাখ্যায় মাশরাফি বলেছেন, ‌‘আমি বিশ্বকাপকে ধরে পরিকল্পনা করছিলাম। আর সাত থেকে আট মাস বাকি আছে। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরের সাড়ে চার বছরে আমি জানি না আমার অবস্থা কী হবে। আমার একটা সুযোগ এসেছে। মানুষের জন্য কাজ করা আমি সব সময়ই উপভোগ করি। আমি একটা ফাউন্ডেশনও করেছিলাম। আমার জন্য একটা সুযোগ এসেছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে সে সুযোগটা দিয়েছেন। আমার এলাকার জন্য কিছু কাজ করার। আমার মনে হয়েছে এটা আমার জন্য বড় সুযোগ তাদের জন্য কাজ করার। সাত মাস বা আট মাস পর তো আর জাতীয় নির্বাচন হবে না। তাই মনে হয়েছে এই সুযোগটা নেওয়া উচিত।’

কিন্তু এখনই কেন? তিনি তো তাঁর ভাষ্যমতেই আরও অন্তত আট মাস ক্রিকেটে সক্রিয় থাকবেন। মাশরাফির ব্যাখ্যা, ‘আমার ক্যারিয়ার শেষের দিকে। এর পরে হয়তো বা…আমি শচীন টেন্ডুলকার বা গ্লেন ম্যাকগ্রা না যে মানুষ আমাকে মনে রাখবে। আমি আমার মতো করেই ক্রিকেটটা খেলেছি, আমার স্ট্রাগলিং লাইফে যতটুকু পেরেছি খেলেছি। তবে সব সময় উপভোগ করেছি মানুষের জন্য কাজ করতে পারা। এটা আমার একটা ছোটবেলার শখ ছিল, ছোটবেলার চাওয়া ছিল। সুযোগটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে দিয়েছেন, বড় পরিসরে যদি কিছু করা যায়।’

রাজনীতিতে নামার পর একটা বড় অংশের মানুষের কাছ থেকে যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাচ্ছেন, সেটা মাশরাফির অজানা নেই। তবে তিনি মনে করেন কেউ কোনো রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাস করলে তা নিয়ে লুকোছাপার কিছু নেই, ‘আপনার নিজস্ব ধ্যানধারণা থাকা উচিত। আপনি যদি কোনো দল সমর্থন করেন, প্রকাশ্যে সেটা বলা উচিত। এমন অনেকে আছে, সমর্থন করে কিন্তু বলতে পারে না। আমার কাছে মনে হয় যে, প্রত্যেকে যে যে দল করে, সেই সম্মানটা তাঁর থাকা উচিত। তার মতো করে সে দেশের জন্য কাজ করবে, এই মানসিকতা থাকা উচিত। যারা যে মন্তব্য করছে, সেগুলো তো আমার নিয়ন্ত্রণে নেই। তবে আমার সম্মান অবশ্যই তাদের প্রতি থাকবে।’

এখনো ক্রিকেট থেকেও আগাম বিদায়ের ঘোষণা তিনি দিচ্ছেন না। এমনকি বিশ্বকাপের পরেই অবসর নেবেন কি না, তাতেই একটু ফাঁক রেখে দিলেন। মাশরাফি মনে করেন না মানুষ ক্রিকেটের কারণে আজীবন তাঁকে মনে রাখবে। খেলা ছাড়ার পর অন্য কিছু করতেই হতো। রাজনীতিকেই তিনি সেই ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিয়েছেন, ‘আমার লক্ষ্য বিশ্বকাপ পর্যন্তই খেলা। বিশ্বকাপ এখনো আট মাস পর। চেষ্টা করব এই আট মাসে যেভাবে খেলে এসেছি সেভাবেই খেলার। আগেও বলেছি, আমার ব্যক্তিগত লক্ষ্যই ছিল বিশ্বকাপ। এরপরও খেলা চালিয়ে যেতে পারব কি না, সেটা সেই সময়টাই বলে দেবে। তবে আমার উদ্দেশ্যটা আমার কাছে পরিষ্কার। আমি মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। সে সুযোগটা যদি পাই, কাজ করব। আর আগেও বলেছি, আমি বিশ্ব ক্রিকেটের এমন কোনো মহাতারকা না যে খেলা ছাড়ার পর প্রতিটা মানুষ আমাকে মনে রাখবে।’

মাশরাফি মহাতারকা নন, এমন কথা শোনার পর সংবাদ সম্মেলনেই মৃদু আপত্তির গুঞ্জন উঠল। এই মুহূর্তে অভিমান বা হতাশায় মাশরাফির তীব্র সমালোচনা করছেন তাঁর যে ভক্তটাও, তিনিও হয়তো তীব্র প্রতিবাদ করবেন। সবচেয়ে প্রতিবাদ উঠবে এ কথায়, ক্রিকেট ছাড়ার পর মাশরাফিকে অনেকেই ভুলে যাবে!