আজ - শুক্রবার, ৯ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি, (হেমন্তকাল), সময় - সকাল ৮:৪৯

ইজিবাইক চালক রুবেল হত্যাকাণ্ড ম্যানসেল স্যোন এরেস্ট – সিআইডি

স্টাফ রিপোর্টার॥ যশোর শহরের রেলগেট এলাকার ইজিবাইক চালক রুবেলের খুনি ম্যানসেলকে এবার স্যোন এরেস্ট দেখাবে সিআইডি পুলিশ। গত ২৮ জানুয়ারি রাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ম্যানসেল বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন আছেন। এদিকে স্বামী হারা রুবেলের স্ত্রী সাথী খাতুন এনজিও ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে সাত বছরের মেয়ে নুসরাত জাহানকে নিয়ে জীবন জীবিকার সন্ধানে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
যশোর শহরের রেলগেট পশ্চিমপাড়ার শহিদ ড্রাইভারের ছেলে রুবেল হোসেন পেশায় ইজিবাইক চালক ছিলেন। ষষ্ঠীতলার শীর্ষ সন্ত্রাসী বাহিনী প্রধান বিএনপি নেতা আলমাস হোসেনের ছেলে মেহেবুবুর রহমান ম্যানসেল এলাকায় নানা অপরাধ অপকর্মের সাথে জড়িত। রেলগেট পশ্চিমপাড়ার মাদক দম্পতি রেখা-ফায়েকের ছেলে সাগর-রমজান সন্ত্রাসী ম্যানসেলের পক্ষে একই ধরনের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়। তারা একত্রে মুজিব সড়কের রেলগেটে প্রতিনিয়ত ইজিবাইক থেকে চাঁদা আদায়, ছিনতাই করে থাকে। রুবেল ইজিবাইক থেকে চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তার উপর ক্ষিপ্ত হয় সাগর-রমজান ও তাদের বাহিনী প্রধান ম্যানসেল। এক পর্যায়ে তারা রুবেলকে খুন করতে ফন্দি ফিকির শুরু করে। তারই অশং হিসেবে গত বছরের ২০ এপ্রিল বিকেলে অপিরিচিত একটি নম্বর থেকে রুবেলকে ফোন করে বাড়ি থেকে ডেকে নেয়। বাড়ি থেকে দু’শ গজ দুরে একটি ফাঁকা যায়গায় নিয়ে যায়। এরপর ম্যানসেলের হুকুমে রেলগেট পশ্চিমপাড়ার মাদক দম্পতি রেখা-ফায়েকের দুই ছেলে সাগর ও রমজান, শংকরপুর এলাকার কাজী তৌহিদের ছেলে ভাইপো রাকিব, গোলপাতা মসজিদ এলাকার ফারুক হোসেনের ছেলে সাহেদ হোসেন নয়ন ওরফে হিটার নয়ন, চাঁচড়া রায়পাড়ার জিহাদ আলীর ছেলে বাবু, মৃত লতিফ শেখের ছেলে আশরাফুল কবির শিকদার, রেলগেট এলাকার কানা বাসারের ছেলে তুহিন, ষষ্ঠীতলাপাড়ার ঝন্টুর ছেলে রানা, রেলস্টেশন পাড়ার টুলুর দুই ছেলে জাফর ও জাহিদ, রেলগেট কলাবাগান এলাকার মৃত নজির আলীর ছেলে পলাশ, মৃত কফিল উদ্দিনের ছেলে মোহন আলী এবং রায়পাড়ার বাবুসহ আরো কয়েকজন রুবেলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে ফেলে রেখে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন সেখান থেকে রুবেলকে উদ্ধারের পর যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে এবং অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেয়া হয়। আর সেখানেই ২৪ এপ্রিল রুবেল মারা যান। এঘটনায় নিহতের বোন নাজমা খাতুন বাদী হয়ে যশোরের ২৫ এপ্রিল জুডিসিয়াল আদালতে ম্যানসেলসহ ১৩জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেন। আদালতের নির্দেশে থানা পুলিশ মামলাটি রেকর্ড করে।

সন্ত্রাসী ম্যানসেল

এঘটনায় কয়েকজন আসামি পুলিশ গ্রেপ্তার করে এবং এর মধ্যে থেকে কেউ কেউ হত্যার দায় স্বীকার এবং গডফাদারদের নাম উল্লেখ করে আদালতে জবানবন্দি দেয়।
উল্লেখ্য, এ হত্যাকা-ের হুকুমদাতা শীর্ষ সন্ত্রাসী ম্যানসেল গত ২৮ জানুয়ারি রাতে নিজ বাড়িতে বিরোধে প্রতিপক্ষের দ্বারা গুলিবিদ্ধ হন। পরে পুলিশ অস্ত্র-গুলিসহ ম্যানসেল ও তার আরেক সহযোগী সন্ত্রাসী মেহেদী হাসান অনিককে আটক করে। এঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলায় তারা দুইজন আটক রয়েছে।
এদিকে রুবেল হত্যা মামলায় ম্যানসেলকে স্যোন এরেস্ট দেখানো হবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক হারুন অর রশিদ। কিন্তু এ মামলার অন্য আসামি ভাইপো রাকিব, হিটার নয়ন, রেলগেট কলাবাগানের পলাশ, আশরাফুল কবির সিকদার ও বাবুসহ কয়েকজন এখনো প্রকাশ্যে এলাকা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। ফলে আতংকিত হয়ে পড়েছে নিহতের পরিবার তথা মামলার বাদী। তারা বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সূত্রে আরো জানা গেছে, খুন হওয়ার পর সাত বছরের এক মাত্র নুসরাত জাহানকে নিয়ে জীবন জীবীকার সন্ধানে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন রুবেলের স্ত্রী সাথী খাতুন।
রুবেলের স্ত্রী সাথী খাতুন জানিয়েছেন, এক মাত্র মেয়ে নুসরাত জাহানকে লেখাপড়া করানোসহ তার ভবিষ্যতের কথা ভেবে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে অসহায়ত্বের মধ্যেই দিনাতিপাত করছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক হারুন অর রশিদ বলেছেন, রুবেল হত্যাকাণ্ডে ম্যানসেলকে স্যোন এরেস্ট দেখানো হবে।

আরো সংবাদ