কুরুক্ষেত্র ফরিদপুর-৪: আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : নানা জল্পনা কল্পনা আর নাটকীয়তার শেষে এবারের নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় নেমে পড়েছেন সবাই। মূল দুটি দল আওয়ামী লীগ আর বিএনপির পাশাপাশি ছোট দলগুলোর প্রার্থীরাও এবারের নির্বাচনে হুঙ্কার দিচ্ছেন। বাদ যাচ্ছেন না স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও। বেশ কয়েকটি আসনেই স্বতন্ত্র প্রার্থীরা কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হবেন বলেই মনে করা হচ্ছে। ফরিদপুর-৪ তেমনি একটি আসন। এই আসন থেকে মহাজোটের মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী কাজী জাফরুল্লাহ। আর তাঁর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী।

কাজী জাফরুল্লাহ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য। অন্যদিকে নিক্সন চৌধুরী বঙ্গবন্ধুর নাতি, ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরীর পুত্র। তিনি ফরিদপুর-৪ আসনটির বর্তমান এমপি। নিক্সন চৌধুরীর আরেকটি পরিচয় হলো, তিনি জেপি’র চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু’র মেয়ের জামাই। দলীয় সমর্থন না থাকলেও তিনি আওয়ামী পরিবারের সন্তান। সে হিসেবে ফরিদপুর-৪ আসনের ভোটযুদ্ধকে আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগের লড়াই হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

ফরিদপুর-৪ আসনটি ভাঙ্গা, চরভদ্রাসন এবং সদরপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত। এটি জাতীয় সংসদের ২১৪নং আসন। এই আসনটিকে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি বলা যেতে পারে। স্বাধীনতার পর এই আসনে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে তার প্রায় সবগুলোতেই জয়ী হয়েছেন আওয়ামী প্রার্থীরা। ১৯৭৩ সালে এই এখান থেকে জয় পান আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী আবদুস সালাম মিয়া। এরপর ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে পরপর দুটি নির্বাচনে জয় পান এড. মো. মোশাররফ হোসেন। আর ২০০১ এ অষ্টম জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হন অ্যাড. মো. আবদুর রাজ্জাক। ওয়ান ইলেভেনের ঘটনা প্রবাহের পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে ফরিদপুর-৪ আসনের সাংসদ হন কাজী জাফরুল্লাহর স্ত্রী নিলুফার জাফরুল্লাহ। এরপর ২০১৪ সালের সর্বশেষ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পান কাজী জাফরুল্লাহ। ওই নির্বাচনেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আবির্ভূত হন নিক্সন চৌধুরী। নির্বাচনী যুদ্ধে অভিষেকেই বাজিমাৎ করেন তিনি। অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ জাফরুল্লাহকে হারিয়ে সাংসদ নির্বাচিত হন নিক্সন।

ফরিদপুর-৪ আসন থেকে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম। এই আসন থেকে দলটি প্রাথমিকভাবে চিত্র নায়িকা শাহারিয়ার ইসলাম শায়লাকেও মনোনয়ন দিয়েছিল। তবে গতকাল রোববার তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। এই আসনে ছোট কয়েকটি দলের প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় থাকলেও তারা ভোটারদের মধ্যে তেমন প্রভাব ফেলবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। আসনটিতে কাজী জাফরুল্লাহ ও নিক্সন চৌধুরীর মধ্যেই মূল লড়াই হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জয় পাবেন নাকি আওয়ামী পরিবারের সন্তান শেষ হাসি হাসবেন সেটাই দেখার অপেক্ষা।