খালেদা জিয়ার তৃতীয় শক্তি উত্থানের ষড়যন্ত্র সফল হবে না: শাহীন চাকলাদার

নাইম সাব্বির, স্পেশাল করসপন্ডেন্ট(পলিটিক্স)॥যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার বলেছেন, ‘আন্দোলন সংগ্রামে দেশের মানুষকে সাথে না পেয়ে বর্তমানে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বেছে নিয়েছেন বিএনপি-জামায়াত নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সেই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তিনি লন্ডনে গিয়েছেন। সেখানে বসে বিভিন্ন জঙ্গি ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সাথে চক্রান্ত করছেন। তাদের উদ্দেশ্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করে যে কোনভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করা। কিন্তু দেশে আর কোন ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া হবে না। এদেশের মানুষ আর কোন অসাংবিধানিক সরকার মেনে নেবে না। আগামী নির্বাচন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ হবে।’ 

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে যশোর জেলা ছাত্রলীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাহীন চাকলাদার এসব কথা বলেন। শহরের চিত্রা মোড়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভাস্থলে নির্ধারিত চেয়ার না পেয়ে শত শত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মী রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে যান। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা বেশ কয়েকটি মিছিল শেষ পর্যন্ত মঞ্চের কাছাকাছি পৌঁছাতে না পেরে দড়াটানায় অবস্থান নেয়। অর্থাৎ চিত্রা মোড়ের সমাবেশের লোকসমাগম ছিল দড়াটানা পর্যন্ত।

এসময় শাহীন চাকলাদার আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যখন মধ্য আয়ের দেশের দিকে ধাবমান, ২০৪১ সালের মধ্যে আমরা যখন উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত দেশের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি, তখন খালেদা জিয়া দেশবিরোধী চক্রান্ত করছেন। একাধিবার রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকলেও খালেদা জিয়া দেশের কোন উন্নয়ন করেননি। কিন্তু তার ছেলেদের বিদেশের ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা জমা হয়েছে। তারেক রহমান হাওয়া ভবন খুলে কোটি কোটি টাকা কমিশন বাণিজ্য করে বিদেশে পাচার করেছেন। আর এখন তারা দেশের উন্নয়নে বাধা দিচ্ছেন। বিদেশে বসে চক্রান্ত করছেন। তাদের দেশ বিরোধী সব চক্রান্ত আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করতে হবে।’

একুশে আগস্ট প্রসঙ্গে প্রধান অতিথি শাহীন চাকলাদার বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি আর দেশময় সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের প্রতিবাদে তখন রাজপথে নেমেছিলেন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এজন্য বিএনপি-জামায়াত জোটের টার্গেটে পরিণত হন তিনি। তাই আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশুন্য করতে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট এক জনসভায় শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে যুদ্ধ ময়দানে ব্যবহার করা গ্রেনেড মারা হয়। এভাবে বারবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য হামলা করা হয়েছে। সেই ষড়যন্ত্র এখনো অব্যাহত আছে। ষড়যন্ত্রকারীরা বাংলাদেশেকে পিছনের দিকে নিয়ে যেতে চায়। তারা এদেশকে আফগানিস্তান-পাকিস্তান বানাতে চায়। তবে তাদের কোন চক্রান্ত বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না। এদেশের ঐক্যবদ্ধ জনতা তাদের সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে।’

 

যশোর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রওশন ইকবাল শাহীর সভাপতিত্বে এসময় আরো বক্তব্য রাখেন যশোর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী রায়হান, যশোর পৌরসভার মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু, জেলা যুবলীগের সভাপতি মোস্তফা ফরিদ আহম্মেদ চৌধুরী, সহ-সভাপতি সৈয়দ মেহেদী হাসান, জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি মঞ্জুন্নাহার নাজনীন সোনালী, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম জুয়েল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল, আসাদুজ্জামান আসাদ প্রমুখ।

যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছালছাবিল আহমেদ জিসানের পরিচালনায় আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা একেএম খয়রাত হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম আফজাল হোসেন, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক রেজাউল ইসলাম, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান মনি, দপ্তর সম্পাদক এসএম মাহমুদ হাসান বিপু, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক রেজাউল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শেখ রোকেয়া পারভীন ডলি, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. এমএ বাশার, উপ-প্রচার সম্পাদক জিয়াউল হাসান হ্যাপি, কার্যকরী সদস্য আমিরুল ইসলাম রন্টু, ইমাম হাসান লাল, এহসানুর রহমান লিটু, শাহারুল ইসলাম, মশিয়ার রহমান সাগর, কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফা, কাজী আলমগীর হোসেন আলম, কবিরুল আলম, কাজী শাহীন, শফিউদ্দিন অরুণ, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নূর জাহান ইসলাম নীরা, জেলা যুবলীগের প্রচার সম্পাদক জাহিদ হাসান মিলন, যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি নিয়ামত উল্যাহ, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সুব্রত বিশ্বাস, যশোর সদর উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক রবিউল ইসলাম, যুগ্ম-আহবায়ক এসএম জাবেদ উদ্দিন, মুমেল হোসেন, যশোর শহর ছাত্রলীগের আহবায়ক মেহেদী হাসান রনি, যশোর সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মারুফ হোসাইন ইকবাল, সরকারি এমএম কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান, সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রলীগের সভাপতি শায়েদ আলী খান পালাশ, সাধারণ সম্পাদক ইমরান সিকদারসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা প্রমুখ।