আজ - শুক্রবার, ৯ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি, (হেমন্তকাল), সময় - সকাল ৮:০৮

খালেদা জেলে যেতে না যেতেই দলে ভাঙ্গনের সুর!

ঢাকা অফিস:  বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই দলে স্পষ্ট কোন্দল দেখা দিলো। কোনো নেতৃত্ব না থাকায় যে যা খুশি তাই বলছেন। বিএনপির নেতারা পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন এবং বক্তব্য দিচ্ছেন। এই মুহুর্তে তারেক রহমান রয়েছেন প্রচন্ড চাপের মুখে। একদিকে তার এবং তার মায়ের সাজা হওয়ার বিষয় অন্যদিকে এতো দুরে বসে কিভাবে দলকে নেতৃত্ব দেবেন সেটা নিয়ে তিনি বেশ চিন্তিত বলে জানা গেছে। তাছাড়া তিনি ফোনে দলের শীর্ষ নেতাদের কোনো নির্দেশ দিলে তা আগেই গোয়েন্দাদের কাছে চলে যাচ্ছে। সেজন্য তারেক রহমান মুলত দলের এই দুঃসময়ে তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে পারছেন না। এদিকে রায় ঘোষণার পরপরই কারও সঙ্গে পরামর্শ না করেই বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সংবাদ সম্মেলন করলেন। এ সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছিলেন আদালতে। রায়ের পর পর মির্জা ফখরুল ব্যারিস্টার মওদুদ কে নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে যান। এসময় তিনি বলেন, আমি সংবাদ সম্মেলন করব। তখন বিএনপির আরেক নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘রিজভী ভাই তো সংবাদ সম্মেলন করে ফেলেছে।’ এতে মওদুদ আহমেদ অত্যন্ত ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠেন এ সময় বিএনপি মহাসচিব আবার সংবাদ সম্মেলন করেন। মির্জা ফখরুলের সংবাদ সম্মেলনের আগেই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, বেগম জিয়ার অবর্তমানে তারেক জিয়াই বিএনপির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।’ বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য নজরুল ইসলাম খানের এই বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেন। স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তিনি চিৎকার করে বলতে থাকেন ‘নজরুলকে কে একথা বলতে বলেছে? এরকম কোনো সিদ্ধান্ত স্থায়ী কমিটিতে হয়নি। গঠনতন্ত্রে কোথায় আছে এটা? বেগম জিয়ার রায় এবং গ্রেফতারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এভাবেই কার্যত: বিভক্ত হয়ে পরেছে দলটি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করছেন, লন্ডন থেকে বিএনপি পরিচালনা তারেক জিয়ার জন্য অসম্ভব একটা কাজ। এভাবে দল পরিচালনা করা যায়না। বিএনপির একাধিক নেতা বলছেন, ‘কয়েকদিনের মধ্যেই বিএনপিতে নেতৃত্বের কোন্দল প্রকাশ্য রূপ পাবে। কেউ কাউকে মানবে না। অবিশ্বাস, মতদ্বৈততা আর কোন্দলে খুব শিগগিরই হয়তো দলটি বিভক্তির পথে হাটবে। অবশ্য বিএনপির তারেকপন্থী একজন নেতা বলেছেন, ‘বিএনপির ভাঙ্গনের প্রস্তুতি আগে থেকেই ছিল। বেগম জিয়াকে গ্রেফতার করেই ভাঙ্গন প্রক্রিয়া শুরু হবে এটা সবাই জানতো, এখন দেখছে। ওই নেতা বলেন ‘খুব শিগগিরই যদি বেগম জিয়া মুক্তি না পান তাহলে শুধু দুই ভাগ নয়, বিএনপি কয়েক টুকরো হতে পারে।

আরো সংবাদ