আজ - বুধবার, ২৩শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৩ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি, (বর্ষাকাল), সময় - রাত ১১:৩৭

খালেদা নন, আগামী নির্বাচনে হাসিনার প্রতিদ্বন্দ্বী ড. ইউনূস

খানজাহান আলী নিউজঃ আগামী নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ভয় পান না। কিন্তু গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বিশেষ বিবেচনা করছেন।

ভারতের তেহেলকা ডটকমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন মন্তব্য করেছেন ভারতের গৌহাটির বিশিষ্ট সাংবাদিক নভ ঠাকুরিয়া। সাংবাদিক নভ ঠাকুরিয়া জার্নালিস্ট কমলা সাইকিয়া মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সদস্য ও গৌহাটি ভিত্তিক মিডিয়া কমেনটেটর।

তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কে বেশি জনপ্রিয়- একজন নোবেল পুরস্কার বিজয়ী নাকি তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশের একজন প্রধানমন্ত্রী? তার ভাষায়, এমন প্রশ্ন বাংলাদেশের মানুষের কাছেও একটি প্রধান প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি তার প্রতিবেদনে বলেন, গত এক দশক ধরে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটিকে শাসন করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশি অর্থনীতিবিদ ইউনূস ব্যাংকার থেকে সামাজিক বিজ্ঞানী হিসেবে পরিচিতি পান এবং তার নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর থেকে তিনি দেশের মানুষের নজর কাড়তে শুরু করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা দারিদ্রপীড়িত দেশটিতে তার রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখেছেন। বাংলাদেশের মানুষ আগামী দিনের নির্বাচনের জন্যে অপেক্ষা করছে যখন বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতিতে দৃশ্যত তার অবস্থান হারিয়েছেন।

আওয়ামী লীগ প্রধানের জন্যে প্রফেসর ইউনূস তাই শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী যিনি শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তাকে চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। এবং ইউনূস বাংলদেশের ১৭ কোটি মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা রাখেন। বিভিন্ন সময়ে শেখ হাসিনা ইউনূসের সমালোচনা করেছেন। মুসলিম অধ্যুষিত দেশটির একজন নোবেল বিজয়ী সরকার প্রধানের সমালোচনার বাইরে নন। সংসদে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন, মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের উন্নয়নের বিরুদ্ধে কাজ করছেন। বিদেশ ভ্রমণেও হাসিনা ইউনূসকে গরিব মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত সুদে ঋণদাতা বা রক্তচোষা ব্যক্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন।

অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে গরিব নারীদের জন্যে ক্ষুদ্র ঋণ দেওয়ার জন্যে প্রফেসর ইউসূসের দীর্ঘদিনের ইতিহাস রয়েছে। কয়েক দশক আগে তিনি গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন এবং ২০০৬ সালে তার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তিনিও নোবেল পুরস্কার পান। গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণ গ্রহণের পর অন্তত ৫০ মিলিয়ন নারী দারিদ্র থেকে মুক্তি পেয়েছে। স্বপ্নদর্শী এই ব্যাংকার যিনি তার জন্মদিনে জাতীয় নায়ক হিসেবে আবির্ভূত হন তিনি শেখ হাসিনার সরকারের সময় গ্রামীণ ব্যাংক থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর আওয়ামী লীগের অনেক নেতা তার সমালোচনা শুরু করেন। উন্নয়নশীল দেশটির ভেতরে এবং বাইরে অনেক পর্যবেক্ষও অনাকাঙ্খিত এই বিতর্কের স্বাক্ষী হয়ে ওঠেন।

এক বছর আগে প্রফেসর ইউনূসের সাক্ষাতকার নেওয়ার সময় তিনি ইঙ্গিত করেন স্থানীয় গণমাধ্যমে কিছু উপাদান যা তাদের প্রতি শত্রুতা সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু ঢাকায় এমন যুক্তি দেখেছি, যেখানে মনে করা হয় পার্বত্য শান্তি চুক্তির জন্যে শেখ হাসিনাই প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে নোবেল পুরস্কার পেতেন যা প্রফেসর ইউনূস পাওয়ায় বাধাগ্রস্ত হয়।

এখন গরিবের ব্যাংকার হিসেবে পরিচিত ইউনূস সামাজিক ব্যবসার ধারণা ছড়িয়ে দিচ্ছেন যেখানে লাভের বিষয়টি টাকার বিচারে নয় বরং তা বিবেচনা করা হয় সামাজিক উন্নয়ন হিসেবে। ইউনূস গরিবের জন্যে দান পছন্দ করেন না বরং তিনি মনে করেন প্রতিটি মানুষ সম্ভাবনা নিয়েই জন্মায়। এবং সামাজিক ব্যবসা তাদেরকে সেই সম্ভাবনাকে উন্নতির এক অমোঘ সুযোগ করে দিতে পারে।

ইউনূস সেন্টার মিডিয়ায় তাকে নিয়ে বিভিন্ন বিতর্কে সাড়া দেয়, সচিবালয় হিসেবে কাজ করে, প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনার জবাব দেয়। ঢাকা ভিত্তিক এ সেন্টার দেশে ও দেশের বাইরে সামাজিক ব্যবসা নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সর্বশেষ ঢাকায় আয়োজিত তাদের এমন একটি অনুষ্ঠান পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবে বাতিল হয়ে যায়। ইউনূস সেন্টার এ ব্যাপারে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে একটি বিবৃতি দেয়। জাতিসংঘের এ্যাসিসটেন্ট সেক্রেটারি জেনারেল থমাস গ্যাস’এর এ সম্মেলনে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপনের কথা ছিল।

বাংলাদেশের পুলিশ প্রধান একেএম শহিদুল হক দাবি করেন শেষ মুহূর্তে ইউনূস সেন্টার এ আয়োজনের কথা জানায়। হঠাৎ করেই তারা ওই আয়োজনে পুলিশ নিরাপত্তা দেওয়ার কথা জানান। তিনি বলেন, সরকার এধরনের একটি আন্তর্জাতিক আয়োজনকে স্বাগত জানায় এবং পুলিশও নিরাপত্তা দিতে সক্ষম কিন্তু সময় স্বল্পতার কারণে নিরাপত্তার প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয়ে ওঠেনি। আয়োজনের মাত্র ৩ দিন আগে বিষয়টি সম্পর্কে জানানো এবং বিষয়টি সম্পর্কে অন্ধকারে থাকায় কোনো সাহায্য করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তিনি এও বলেন, সরকার এধরনের সম্মেলন ভন্ডুল করার সঙ্গে জড়িত ছিল না। তবে ইউনূস সেন্টারের পক্ষ থেকে ওই সম্মেলনে নিরাপত্তা চেয়ে আবেদনটি ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারিন্ডেন্ট’এর কাছে জমা দেওয়া হয় গত ২০ জুলাই। সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল ২৮ ও ২৯ জুলাই।

ওই সম্মেলনে সামাজিক ব্যবসায়ী উদ্যোক্তাদের মধ্যে আলোচনা, বিতর্ক ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের উদ্দেশ্য ছিল। বিশেষ করে সম্পদের অসম বন্টন মোকাবেলা কিভাবে উদ্ভাবনী উপায়ে করা যায় তার কৌশল নির্ধারণই ছিল ওই সম্মেলনের একটি উদ্দেশ্য।

সম্মেলনে আমন্ত্রিত অতিথির কয়েকজন ছিলেন, ওয়ার্ল্ড অলিম্পিয়ান এ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট জোয়েল বিউজো, সুইজ্যারল্যান্ডের কেইথ টাফলে, ফ্রান্সের জ্যাকুয়েস বার্জার, যুক্তরাষ্ট্রের রাঙ্গু সালগেম,কানাডার রিচার্ড সেন্ট-পিয়েরে, ফ্রান্সের নিকোলাস হ্যাজার্ড, অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ল্যান্ডার্স, মালয়েশিয়ার দাতো চ্যারন মোখজানি, আজারবাইজানের মাতিন কারিমলি, চীনের বেই ডুওগুয়াং এবং ওয়াং ঝেইনইয়াও, ভারতের শঙ্কর ভেঙ্কটেশ্বরান, অনিল কুমার গুপ্ত, আচ্যুত সামন্ত ও রাহুল বোস প্রমুখ।

সম্মেলনে হাজার দুই আমন্ত্রিতদের মধ্যে ৫০টি দেশের ৪০০ অতিথির অংশ নেওয়ার কথা ছিল। ফেসবুক ব্যবহার করে সম্মেলন চলাকালে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনাও ছিল।

ইংরেজিতে প্রকাশিত প্রতিবেদন 

Who is more famous — a Nobel peace laureate and a Prime Minister of a third world country? This seems to be a major question faced by Bangladesh public for quite sometime now. For the incumbent, PremierSheikh Hasina, who has been ruling the South Asian country for nearly a decade, it has emerged as a vital point since the Bangladeshi economist-turned-banker-turned-social scientist Professor Muhammad Yunus was honoured with the Nobel award.

 

PM Hasina, daughter of Bangladesh’s Father of the Nation Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman, continues her political supremacy in the poverty-stricken country for the consecutive second term. Moreover, as the troubled nation is waiting for another national election in the coming days, her arch rival Begum Khaleda Zia of Bangladesh Nationalist Party has almost lost her visibility in the political space.

 

So for the chief of Awami League, it seems only Prof Yunus remains in the country, who can challenge Hasina’s popularity and influence among 170 million Bangladeshi people. And it was indicated by none other than Hasina herself in various occasions. At least nobody can deny that Hasina now makes a habit of criticizing Prof Yunus without having the sense of ambiguity. In fact, one may come to Bangladesh to see how a government head goes on scolding the lone Nobel laureate of the Muslim dominated country without any sense of dignity. The arrogant PM even claimed in their Parliament that that Prof Yunus was relentlessly working against the development of Bangladesh. In some of her foreign visits too, Hasina exposed her hatred against the Nobel laureate as being the ‘blood sucker of poor people’.

 

Prof Yunus has a long history of advocating micro loans to the poor women (without collateral) for economic empowerment. He created Grameen Bank of Bangladesh decades back and eventually won the Nobel Prize jointly with the financial institution in 2006. The unique bank, owned by poor lady borrowers, has been credited for lifting over 50 million such women out of poverty.

 

The visionary banker, who emerged as a national hero in his native Bangladesh, was however sacked by the Hasina led government in Dhaka and soon he became the target of the Premier and her followers. The people of the developing country and its international observers soon started witnessing an unwanted tussle between the two well-known septuagenarian Muslim Bangladeshi nationals.

 

Years back, when I interviewed Prof Yunus at his Grameen bank office in Mirpur locality, he hinted that there were few elements including in the local media, which grew enmity towards him, reasons best known to them only. But I encountered logics in Dhaka itself that Ms. Hasina was expecting the Nobel award for her successful peace initiative in the southern part of the trouble-torn country and become the first Bangladeshi national to win the coveted prize, which was eventually ruined by Prof Yunus.

 

Now the ‘banker to the poor’ has floated the idea of social business where the net profit would count not in terms of money, but social developments. Prof Yunus, who does not prefer charity initiative for the poor, argues that every human has the immense potentiality to grow and the social business activities can offer the human beings a rare opportunity to prosper.

 

Yunus Centre, which functions as his secretariat, often responds to the media debates over Hasina’s unusual allegations against Prof Yunus. The Dhaka based centre has also been organizing various social business events in different parts of the globe. Lately a two-day event marking Social Business Day was organized in the Bangladesh capital city itself, but the authority did not sanction necessary security arrangements for the participants, which finally compelled the organizers to cancel the event. “With a heavy heart we inform you that we are cancelling the 7th international conference organized on 28-29 July 2017 on the occasion of Social Business Day due to unavoidable circumstances. The conference was to be inaugurated at Samajik convention centre at Zirabo (Savar locality),” said a press statement issued on 27 July by the Yunus Centre.

 

It also added, “The guests and participants invited and registered for the opening ceremony and also to participate in the conference are requested to cancel their plans to attend the conference. We humbly apologize to the guests and participants, local and from around the world, who have spent their time and money to take part in this conference.”

It may be noted that over 200 international participants including Thomas Gass, assistant secretary general of the United Nations for policy coordination & inter-agency affairs, had arrived in Dhaka to participate in the conference. Gass, who remains the focal person to implement the sustainable development goals undertaken by the UN, was scheduled to deliver the keynote address.

 

However, the Bangladesh police chief AKM Shahidul Hoque claimed that the Yunus Centre informed about the event at the last minute. All of a sudden, the organisers informed the Dhaka police about the guests who were arriving for the international conference, asserted Hoque.

 

“The government welcomes such international events, and the police are capable of providing security, but adequate time is needed for preparations. It doesn’t help if we are kept in the dark and informed only three days before the event,” stated the senior police officer. He also did not forget to clarify that the government in Dhaka was not involved in shutting down the conference.

 

Even though he claimed that only ‘three days’ before the event the police had received the application from the Yunus Centre, the organizers clarified that they approached the police long back. The Dhaka district police superintendent officially received the Yunus Centre’s application on 20 July itself.

 

The annual event was aimed at bringing social business entrepreneurs from around the world to discuss, debate and exchange ideas. This year’s event was designed to focus on wealth concentration and look for ways to narrow the widening wealth gap and innovative ways to achieve that.

 

The event, which Prof Yunus would have inaugurated, was scheduled to be addressed by Joël Bouzou (World Olympians Association president), Keith Tuffley (from Switzerland), Jacques Berger (France), Rangu Salgame (USA), Richard St-Pierre (Canada), Nicolas Hazard (France), David Landers (Australia), Dato’ Charon Mokhzani (Malaysia), Matin Karimli (Azerbaijan), Bei Duoguang & Wang Zhenyao (China), Shankar Venkateswaran, Anil Kumar Gupta, Achyuta Samanta & Rahul Bose (India) etc.

 

“Roughly 2,000 people, among them about 400 foreigners from 50 countries registered to participate in the conference,” informed the organisers adding that some of the programs were however organized over the alternate media. The Facebook page of Yunus Centre was used as a platform to webcast the point of views extended by various speakers for the benefit of the participants along with other onlookers around the world.

আরো সংবাদ
যশোর জেলা
ফেসবুক পেজ
সর্বাধিক পঠিত