
দেশের সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন পরিষদ এলাকাগুলোতে ব্যাটারিচালিত রিকশা বা ই-রিকশা ব্যবস্থাপনায় একটি কার্যকর ও সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রাজধানীসহ সারা দেশের নগর ব্যবস্থাপনা, যান চলাচলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় নীতিমালার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান যে, স্থানীয় সরকার আইন ও আইন সংশোধনী ২০২৬-এর আলোকে ই-রিকশা ব্যবস্থাপনার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। তিনি উল্লেখ করেন যে এই নীতিমালা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন নগরের দীর্ঘদিনের যানজট নিয়ন্ত্রণে আসবে, তেমনি যানবাহন চলাচলে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। এছাড়া স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিবন্ধিত ও লাইসেন্সধারী যানবাহনের সংখ্যা বাড়লে সরকারি কোষাগারে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব জমা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
বিদ্যমান বিধিমালা সময়োপযোগী করার অংশ হিসেবে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের জন্য একটি একক ও সমন্বিত লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ গঠনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে আইন ও প্রচলিত বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগও গ্রহণ করেছে বিভাগটি। সিটি করপোরেশন এলাকায় এসব রিকশার নিবন্ধন এবং চালকদের লাইসেন্স প্রদানের সুযোগ সৃষ্টি করতেই ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় আইনি পরিবর্তন আনা হয়েছে।
উক্ত মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা ই-রিকশার কারিগরি দিক ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। সভায় দুই ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, ট্রাফিক বিভাগের ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগীয় প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সকলের মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে শিগগিরই একটি পূর্ণাঙ্গ ই-রিকশা নীতিমালা বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।