
চিকিৎসার কথা বলে এক পরিবারের কাছ থেকে ধাপে ধাপে প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা নেওয়া, পরে নারীকে প্রভাবিত করে নিয়ে গিয়ে তার স্বামীকে ডিভোর্সে বাধ্য করা এবং বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সজীব সিকদার সবুজ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারটির দাবি, চিকিৎসার নামে দীর্ঘদিন তাদের সঙ্গে যোগাযোগের পর ওই নারীকে ‘কালো জাদু’ করা হয়েছে বলেও তাদের বিশ্বাস করানো হয়।
অভিযোগকারী পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী মারিয়া রহমান , পিতা আহসান হাবিব, ফুলতলা দামুদার, খুলনার বাসিন্দা। আর অভিযুক্ত সজীব সিকদার সবুজ, পিতা ইলিয়াস সিকদার, দিঘীরপার, অভয়নগর এলাকার বাসিন্দা।
মারিয়ার পরিবারের অভিযোগ, তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের গাড়ির চালকের মাধ্যমে সজীব সিকদার সবুজের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। পরে সজীব নিজেকে কবিরাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিয়ে মারিয়ার চিকিৎসা শুরু করেন। চিকিৎসার খরচ ও বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে একাধিক দফায় ৫০ হাজার, এক লাখসহ বিভিন্ন অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।
মারিয়ার বাবা আহসান হাবিবের অভিযোগ, শুরুতে চিকিৎসার পর মেয়ের কিছুটা উন্নতি হওয়ায় তারা সজীবকে বিশ্বাস করতে শুরু করেন। পরিবারের সেই আস্থার সুযোগ নিয়ে সজীব তার মেয়েকে প্রভাবিত করেন। একপর্যায়ে মারিয়াকে গাড়িতে করে খুলনা থেকে নড়াইলে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরিবারের দাবি, ওই সময় মারিয়া নিজের অবস্থার বিষয়ে স্বাভাবিকভাবে বুঝতে পারছিলেন না। নড়াইলে নিয়ে যাওয়ার পর তাকে দিয়ে তার স্বামী মাহমুদুর রহমানকে ডিভোর্স দেওয়ানো হয় এবং পরে সজীব তাকে বিয়ে করেন বলে পরিবারের অভিযোগ।আরো অভিযোগ করেন এই সজিবের একাধিক বিয়ে।
মারিয়ার মা লাবণী হাবিব বলেন, তিনি অসুস্থ থাকার সময় মেয়ের চিকিৎসার জন্য সজীব সিকদার সবুজের কাছে যান। তখন সজীব দাবি করেন, মারিয়াকে ‘বান মারা’ হয়েছে এবং ‘কালো জাদু’ করা হয়েছে। এ থেকে মুক্ত করতে ব্যয়বহুল চিকিৎসা প্রয়োজন—এমন কথা বলে তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরিবারটির আরও অভিযোগ, পরবর্তীতে মারিয়া সজীবের কথা না শুনলে তার বাবাকে হত্যা, বাড়িতে বোমা হামলা ও অস্ত্র দেখিয়ে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে মারিয়াকে নড়াইলে নিয়ে গিয়ে কিছুদিন সেখানে রাখা হয় বলেও দাবি পরিবারের।
পরে মারিয়া পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেখান থেকে চলে আসেন এবং সজীবের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবসান ঘটান বলে জানান স্বজনরা। এরপরও সজীব বিভিন্নভাবে তাদের হয়রানি ও হুমকি দিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ পরিবারের। এমনকি যশোরসহ যশোরের বাইরে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
তবে পরিবারের এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন সজীব সিকদার সবুজ। তার দাবি, তিনি কোনো কবিরাজ নন এবং মারিয়ার চিকিৎসা বা ‘কালো জাদু’র বিষয়েও পরিবারের অভিযোগ সঠিক নয়। মারিয়া তাকে একাধিকবার বিয়ে করেছেন এবং একাধিকবার ডিভোর্স দিয়েছেন দাবি করে সজীব বলেন, এসব ঘটনার জন্য মারিয়ার পরিবারই দায়ী।
অভিযোগের বিষয়ে সজীব সিকদার সবুজ আরও বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে, তার সবই মিথ্যা।
এদিকে, পুরো ঘটনায় চিকিৎসার নামে অর্থ লেনদেন, নারীকে নিয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি, হুমকি এবং মামলার বিষয়গুলো তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই ও আইনগতভাবে কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভ।