আজ - মঙ্গলবার, ৩১শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৯ই রজব, ১৪৪৪ হিজরি, (শীতকাল), সময় - রাত ৪:১৫

পরিবহন ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনে ভোগান্তি চরমে!

নিউজ ডেস্ক : সড়ক পরিবহন আইন সংস্কারসহ ৮ দফা দাবিতে গতকাল রোববার সকাল ৬টা থেকে সারাদেশে চলছে ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে এই ধর্মঘটের ফলে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় বন্ধ হয়ে গেছে বাস চলাচল। সাধারণ মানুষ পড়েছে চরম ভোগান্তিতে। সবচাইতে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে স্কুলগামী শিশু ও চাকুরীজীবীরা। ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও গণপরিবহন না পেয়ে বিপাকে পড়েছেণ তারা।

গতকালের মতো আজও সড়কে সরকারের মালিকানাধীন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) কিছু সংখ্যক বাস দেখা মিললেও গণপরিবহনের দেখা মেলেনি। আবার বিআরটিসি বাসগুলোও ডিপো থেকে সড়কে নামার সঙ্গে সঙ্গেই ভর্তি হয়ে যায়। যার ফলে এসব বাসে মাঝপথ থেকে ওঠার কোনো সুযোগ পাচ্ছে না যাত্রীরা।

অন্যদিকে, ধর্মঘটের কারণে রিকশা অথবা ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল বা অন্যান্য পরিবহনের ভাড়া বেড়েছে তিন থেকে চার গুণ। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে চলাচল করছেন সাধারণ যাত্রীরা।

গত ২৯ জুলাই রাজধানীতে বাস চাপায় দুই স্কুল শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর সারা দেশে শিক্ষার্থীদের নজিরবিহীন আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সরকার সড়ক পরিবহন আইন পাস করে। কিন্তু ওই আইনের কয়েকটি ধারা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে সেগুলো বাতিল করার দাবি তুলেছেন পরিবহন শ্রমিকরা।

তাদের দাবিগুলো হলো- সড়ক দুর্ঘটনার সব মামলা জামিনযোগ্য করা, দুর্ঘটনায় চালকের পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান বাতিল, চালকের শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণির পরিবর্তে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত করা, ৩০২ ধারার মামলার তদন্ত কমিটিতে শ্রমিক প্রতিনিধি রাখা, পুলিশি হয়রানি বন্ধ, ওয়ে স্কেলে জরিমানা কমানো ও শাস্তি বাতিল এবং গাড়ি নিবন্ধনের সময় শ্রমিক ফেডারেশন প্রতিনিধির প্রত্যয়ন বাধ্যতামূলক করা।

এর আগে, গত ৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদে পাস হওয়া সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনসহ সাত দফা দাবিতে পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকা ধর্মঘট শুরু হয়েছিল। ওই সময় ৯ অক্টোবর, বিকাল ৪টায় সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের আশ্বাসে ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছিলেন ট্রাক পরিবহন শ্রমিকরা। কিন্তু গত ২৬ অক্টোবর কেরানীগঞ্জে ট্রাকচালক-শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিবহন শ্রমিকরা আবার একই দাবি নিয়ে ফুঁসে উঠেছে।

আরো সংবাদ
যশোর জেলা
ফেসবুক পেজ
সর্বাধিক পঠিত