আজ - রবিবার, ২৩শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৭ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি, (বর্ষাকাল), সময় - দুপুর ২:৩৭

প্রেমিকার বাড়িতে প্রেমিকের বিষপান।

যশোর সদর উপজেলার হৈবতপুর ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রামে প্রেমিকার বাড়িতে মারুফ হোসেন (৩০) নামে এক প্রবাসী বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। ঘটনাটি গোপন করার চেষ্টা করা হলেও ফাঁস হয়ে গেছে। মারুফ চুড়ামনকাটি গ্রামের উত্তরপাড়ার আব্দুল আজিজের ছেলে।

মারুফের দাবি, প্রেমের সম্পর্ক থাকায় দুর্বলতার সুযাগ নিয়ে মা ও মেয়ে মিলে তার কাছ থেকে ১২ লাখ হাতিয়ে নিয়েছেন। মোবাইল ফোনে বিয়ের নাটকও করা হয়। কিন্তু তিনি দেশে ফেরার পর সম্পর্ক অস্বীকার করা হচ্ছে। দিশেহারা হয়ে তিনি বিষপান করেন। তবে প্রেমিকার মা কল্পনা বেগম ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা হাতানোর সত্যতা স্বীকার করেছেন।

মারুফ হোসেন জানিয়েছেন, ৬ বছর আগে তিনি কুয়েত যান। প্রবাসে থাকাকালীন মোবাইলে পরিচয় হয় যশোর সদরের এনায়েতপুর গ্রামের কল্পনা বেগমের সাথে। কথা বলার এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে সু-সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কল্পনা বেগমের সাথে কথা বলার সূত্র ধরে তার ছোট মেয়ে মিমের সাথে পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘ ৪ বছর মিমের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক চলছিলো। এরই মধ্যে মুঠোফোনে বিয়ের নাটক করে তারা। এটা যে প্রতারণার ফাঁদ তা কখনোই ভাবতে পারেননি।

মারুফ আরও জানান, গত ৪ বছরে তিনি কল্পনা বেগমের নামে ১২ লক্ষাধিক টাকা পাঠিয়েছেন। যার প্রমাণ তার কাছে রয়েছে। গত ৫ মে কল্পনা বেগমের বাড়িতে যান মারুফ। এ সময় তার মেয়ে মিমের সাথে তার সম্পর্ক অস্বীকার করা হয়। এ সময় টাকা ফেরত চাইলে তাকে লাঞ্ছিত করে তাড়িয়ে দেয়া হয়। ৬ মে ফের সেখানে যান মারুফ। এ সময় তার সাথে মিমকে বিয়ে দেবে না বলে জানালে তিনি সেখানেই বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরিবারের লোকজন তাকে সাতমাইল বাজার থেকে উদ্ধার করে আনেন। পরে চুড়ামনকাটি বাজারের পল্লী চিকিৎসক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকে ওয়াশ করে তাকে বাড়িতে আনা হয়। বর্তমানে মারুফ নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন আছেন। সুস্থ হয়ে তিনি এই ঘটনায় মামলা করবেন বলে জানান।

এই বিষয়ে মিম জানান,  ফোনে সবসময় মারুফকে বলতো তাকে পছন্দ না। কখনোই তাকে বিয়ে করবে না। এরপরেও ভিডিও কলে কথা বলতে বাধ্য করা হতো।

মিমের মা কল্পনা বেগম জানান, তার মেয়ের সাথে মুঠোফোনে বিয়ের বিষয়টি সত্য না। ১২ লাখ টাকা হাতানোর বিষয়টি সঠিক না। তার নামে যে টাকা পাঠানো হতো তা মারুফের পরিবারকে দিয়ে দিতেন। মারুফের সাথে তার মা-ছেলে সম্পর্ক ছিলো। তাই ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা নিজেদের সংসারে খরচ করেছেন।  মারুফের পিতা আব্দুল আজিজ জানান, মারুফের পাঠানো কোনো টাকা কল্পনা বেগম তার কাছে দেননি। মেয়ের সাথে তার ছেলেকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

এই বিষয়ে সাজিয়ালী পুলিশ ক্যাম্পের এ এস আই মনির হোসেন জানান, মুঠোফোনের মাধ্যমে হৈবতপুর ইউনিয়নের এক মেম্বর তাকে বিষয়টি অবগত করেছিলেন। এ সময় তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন

আরো সংবাদ