আজ - বুধবার, ১০ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১২ই মহর্‌রম, ১৪৪৪ হিজরি, (বর্ষাকাল), সময় - দুপুর ১২:০৪

ফের মাদকের স্বর্গরাজ্য যশোরের বারান্দীপাড়া !

স্বামী-স্ত্রী ও মা-ছেলে সহ শতাধিক বিক্রেতা বেপোরোয়া

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ যশোর শহরের বারান্দীপাড়া এলাকায় আবারো মাদকের রমরমা ব্যবসায় মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। যশোরের কুখ্যাত মাদক সম্্রাট তালেবের মৃত্যুর পর আবারো মাথা চেড়ে উঠেছে স্বামী-স্ত্রী ও মা-ছেলে সহ শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী বেপোরোয়া চালাচ্ছে রমরমা মাদকের ব্যবসা। মোবাইলের মাধ্যমে গন্তব্য স্থানে পৌছে যাচ্ছে মাদক। কেউ কেউ মুদি দোকানের আড়ালে চালিয়ে যাচ্ছে  মাদকের ব্যবসা।

বাবুর বাগান বাঁশঝাড় এলাকা

পুলিশের কড়া পাহারায় বেশ কয়েকমাস এ এলাকায় মাদক বিকিকিন বন্ধ থাকলে ও সাম্প্রতি আবারো ওই এলাকায় পূর্বের পরিবেশ ফিরে এসেছে। মোড়ে মোড়ে বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা, ফেন্সিডিল, গাঁজা সহ হরেক রকম মাদক। মাদক নির্মূলে নিয়মিত মিটিং , সেমিনার , অভিযান ও পত্র পত্রিকায় লেখালেখি আগেরমতই চলছে। মাঝে মধ্যে লোক দেখানো অভিযান পরিচালিত হলেও চুনোপুঁটিরা ও মাদক সেবনকারীরা ধরা পড়ছে কিন্তু রাঘববোয়ালরা থাকছে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। এ বিষয়ে প্রশাসনের উর্দ্বোতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করছে এলাকাবাসী।

এডাস এ ওয়ান স্কুলের সামনে সন্ধ্যা হলেই মাদকের আখড়া বসে।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন এ এলাকায় খুচরা ও পাইকারী হারে লাখ লাখ টাকার মাদকের বড় চালানের আনাগোনা চলছে। ইয়াবা, ফেনসিডিল থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের মাদকের আখরায় পরিনত হয়েছে যশোরের এ এলাকাটি। বিশেষ করে গাঁজাপট্রি, সরদার পাড়া, নাথ পাড়া, লিচুতলা, বৌ বাজার, মাঠপাড়া, বাবুর বাগান, মেঠো পুকুর, শতদল স্কুল মোড়, কদমতলা, ফুলতলা, কোলোনী বাঁশতলা সহ একাধিক স্থানে মাদক ব্যবসায়ীরা তৈরী করেছে ডিলার পয়েন্ট। আর এ সব জায়গা থেকে চক্রটি মাদক পাচার করছে বিভিন্ন এলাকায়।

নিহত মাদক সম্রাট তালেবের ভাইপো টুটুলের আখড়ার একাংশ।

স্থানীয় সুত্র জানায়, মাঠ পাড়া এলাকার কসাই মনি ও তার বৌ শ্যামলী ওই এলাকায় মাদকের প্রধান সিন্ডিকেট হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। তাদের ছত্রছায়ায় রয়েছে আরো দু’ ডর্জন উঠতি বয়সী মাদক ব্যবসায়ী। এছাড়াও কোলনী বাশঁতলা এলাকার আছিয়া ও তার ছেলে সজল, মাদক সম্্রাট তালেবের ভাইপো টুটুল, সরদার পাড়া এলাকার কানাপুকুর পাড়ের সুমন ওরফে চৌধুরী সুমন, মন্ডলের ছেলে আরমান, মতলেবের ছেলে ইমরান, মেঠো পুকুর এলাকার কাসেমের ছেলে ছোট সুমন, রাশেদার ছেলে লিটন, ইউনুসের ভাগ্নে সাগর ওরফে চোর সাগর, সলেমানের ছেলে সালাম , আকুল , সরদার পাড়ার ভুট্রো রিপন ওরফে জোলা রিপন, নাথ পাড়ার সিদ্দিক, ধামা রিপন,বসির, জসিম, গাঁজাপট্রির টুটুলের ভাই শিপুল, টুটুল ওরফে পাগলা টুটুল, শাহাজানের ছেলে রাজন ওরফে ফিল্টার রাজন, লিচু তলা এলাকার চোর রিপনের মা, বাবুর বাগান এলাকার আজিজের ভাই ফয়সাল,মাঠপাড়া এলাকার সেলিম সহ শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

বারান্দীপাড়া মাঠপাড়া এলাকার সেলিম মুদি দোকানের আড়ালে চালাচ্ছে মাদকের রমরমা ব্যবসা।

এদের অধিকাংশই মাদক সহ একাধিক মামলা । এদের বিষয়ে মুখ খোলার সাহস পাইনা কেউ। তাছাড়া এদের কারো কারো বিরেুদ্ধে চাদাবাজির অভিযোগ ও রয়েছে বলে একাধিক সুত্রের দাবী। প্রশাসনিক তরফ থেকে মাদককে জিরো টলারেন্সে আনার প্রত্যয় থাকলেও ওই অনচলে মাদকের হরহামেষ ব্যবহার আবারো নিজ গতিতেই চলতে শুরু করেছে। অভিযোগ রয়েছে মাঝে মধ্যে লোক দেখানো অভিযান পরিচালিত হলেও চুনোপুঁটিরা ও মাদক সেবনকারীরা ধরা পড়ে কিন্তু রাঘববোয়ালরা থাকে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। ফলে দিন দিন এলাকার উঠতি বয়সের ছেলেরা বিপথগামী হচ্ছে। স্থানীয় ক্ষমতাশীল কয়েকজন নেতার পৃষ্টপোষকতা ও পুলিশ কে ম্যানেজ করে তাদের ব্যাবসা ব্যাপক আকারে বিস্তার লাভ করছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এদের আটকের দাবী জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সহ এলাকার সাধারন মানুষ।

সরদার পাড়া কানাপুকুর এলাকার সুমন ওরফে চৌধুরী সুমনের বাড়ির মুল ফটক। বাড়ির ভিতরে দিনরাত চলে মাদকের ব্যবসা।

এ বিষয়ে ১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলার জাহাঙ্গির আহম্মেদ শাকিল বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এদের পিছনে কয়েকজন রয়েছে যাদের হাত অনেক বড়। আমি বেশ কয়েকবার মাদক ব্যবসায়ীকে পুলিশের হাতে মাদক সহ তুলে দিয়েছি। কয়েকদিন পর তারা আবারো ছাড়া পেয়ে যায়। আমাকে হুমকি দেওয়ার মত ঘটনাও ঘটেছে। এ এলাকায় প্রশাসন যদি আবারো কড়া নজরদারি দেয় তবে এ সমস্যা অনেকটা লাঘব হবে বলে তিনি মনে করেন।

বারান্দীপাড়া ফুলতলা এলাকার বিভিন্ন ব্যবসার আড়ালে চালাচ্ছে মাদকের বানিজ্য।

এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ এ কে এম আজমল হুদা বলেন, আমরা মাদক নির্মূলে যথাযত ভূমিকা পালন করছে। ওই এলাকায় নিয়মিত অভিযান চলছে। অসংখ্য মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। এছাড়াও এখনো যারা গোপনে ব্যবসা চালাচ্ছে তাদেরকে আটকে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে। শীগ্রই তাদেরকে আটক করা হবে বলে তিনি জানান।

আরো সংবাদ
যশোর জেলা
ফেসবুক পেজ
সর্বাধিক পঠিত