ফের মূসার দম্ভে জিম্মি ঝিকরগাছা-মাঠ চষছে সন্ত্রাসীরা :: প্রশাসন সেটা কি?

এমপি মনির দারুন অসহায় বলছে স্থানীয়রা…

নাঈম সাব্বির, (স্পেশাল করসপন্ডেন্ট জনদূর্ভোগ ও পলিটিক্স): যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপেজেলা আওয়ামিলীগের সাধারন সম্পাদক মূসা মাহমুদের দুষ্কৃতির কৃতিত্বে, সাংসদ এ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম এখন অনেকটাই প্রশ্নবোধক চিহ্নের মত রয়েছেন তাঁর নির্বাচনী এলাকায়। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজী, ভূমি দখল সহ প্রাণনাশের হুমকির মত গুরুতর অভিযোগ রয়েছে মূসা মাহমুদের বিরূদ্ধে, অভিনব কায়দায় কখনো পুলিশ ব্যবহার করে কখনো আবার সিনেমার ভিলেনের মত স্বয়ং নিজেই নিশ্চিন্তে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড অব্যাহত রেখেছেন। ঝিকরগাছার মানুষের কাছে কতিপয় মূসা মাহমুদের জন্য প্রায়সই মানুষ আ’লীগের সংজ্ঞা হারাচ্ছে, কেউ সন্ত্রাসী কেউ আবার লুটেরার দল আখ্যা দিচ্ছেন। ঝিকরগাছা আ’লীগের কর্মী বলতে এখন গোটা কয়েক সন্ত্রাসী ছাড়া আর কেউ নেই। পলিটিক্যালি ইয়াতিম এখন ঐ এলাকার কর্মী সমর্থকরা তার উপর চলছে মূসার শোষণ। খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, ব্যবসায়ী ও বসবাসকারী রা নির্ভরতার এক পর্যায়ে বুঝতে পারেন যে তাদের জন্য এমপি মনিরের কিছুই করার নেই। তবে মূসার খুঁটির জোর কোথায়? তারও উত্তর পাচ্ছেন না ভূক্তভোগীরা, নিরাবতাকেই উত্তর ভেবে নিচ্ছেন তারা, প্রশাসনের পদক্ষেপের দীর্ঘ প্রতিক্ষার পরও যখন নির্বাক সবাই তখন শোষণ আর লুটের নাম রাজনিতি এই বলে নিজেদের শান্তনা দিচ্ছেন তাঁরা, স্বাধীনতার মানে খুঁজে পাচ্ছেন না এলাকার মুক্তিযোদ্ধারা, তারা গভীর উদ্বেগ নিয়ে বলছেন কার জন্য? কাদের এনে দিলাম স্বাধীনতা? যারা নিজেরাই এটাকে রক্ষা করতে পারেনা? এমন প্রশ্ন স্বয়ং মুক্তিযোদ্ধার মুখে শুণে কিংকর্তব্যবিমূড় হয়ে পড়েন এ প্রতিনিধি। কবি রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ তাই হয়তো বলেছিলেন “স্বাধীনতা একি তবে নষ্ট জন্ম ?একি তবে পিতাহীন জননীর লজ্জার ফসল ?জাতির পতাকা আজ খাঁমচে ধরেছে  পুরোনো শকুন “। কবির দূরদর্শিতার হিসাব করতে আমরা আসিনি,কবি হয়ত আজকের দিনটির কথাই বলতে চেয়েছিলেন ,তবে আশাতো করতেই পারি প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষ ঝিকরগাছার উপর নজরদারি বাঁড়াবেন বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন। আইন শৃংঙ্খলা রক্ষাবাহীনি সমাজের প্রতি ক্ষেত্রে প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা রয়েছে এটা শুধু ঝিকরগাছার চিত্রনই এটা প্রত্যেকটি জেলা শহরের চিত্র।অনুসন্ধান বলছে,২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর থেকে ঝিকরগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুছা মাহমুদ, তার ভাই ইলিয়াসসহ তাদের ক্যাডারদের হাতে ঝিকরগাছা উপজেলার আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ, হাজারো নেতা-কর্মী লাঞ্ছিত হয়েছেন।সড়ক পরিবহন নির্বাচনে ভিন্ন অবস্থান নিয়া সহ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে চাঁদা বাবদ লাখ লাখ টাকা নিয়েছে। ঝিকরগাছা উপজেলায় বিএনপি শাসনামলে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের এতোটা নির্যাতনের শিকার হতে হয়নি তার কাছে সকলে জিম্মি অভিযোগ খোদ আ’লীগ কর্মী সমর্থকদের।ঝিকরগাছা উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিয়ার রহমানকে পিস্তলের বাট দিয়ে পেটানো,  ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিনের হাত-পা ভেঙে দেয়া অনেকটাই পুরাতন আর অমিমাংশিত ঘটনা হওয়ায় মূসার বর্তমান বেশ দম্ভে কেটে যাচ্ছে।বহু হত্যার নায়ক মূসার কাছে বর্তমানে হত্যা কোন ব্যাপারইনা সম্প্রতি র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত পালসার বাবুও মূসার সৃষ্টি প্রশাসন ব্যবহার করে বিনাশও তারই হাতে। মতের অমিল হলেই আবারও লাশ পড়বে ঝিকরগাছায় এমন শঙ্কাও রয়েছে জনমনে। রাজনৈতিক স্বার্থে লিটন বাবু থেকে পালসার বাবু বানিয়েছেন মূসা।বাবু তো ক্রসফায়ারে মারা গেল কিন্তু তার উত্থানের জন্য যারা দায়ী তাদের কি কোন বিচার হবে এদেশে? একজন মুজিব সৈনিককে যারা স্বীয় স্বার্থে সন্ত্রাসী বানালো তারা কি কোনদিন আসবে আইনের আওতায়? এমন প্রশ্ন জনৈক ব্যক্তির। তার দাবি যেন পালসার বাবু হ‌য়ে আর কোন আওয়ামীলীগ কর্মী না ম‌রে, যে কর্মী মারা গে‌লে তার লাশ নি‌য়ে মি‌ছিল করা যায় না, যে লাশ কে কেউই নি‌জের কর্মীও দাবী ক‌রে না। দলীয় প্রতীক নৌকার বিপক্ষে কাজ করার পরেও মূসা কিভাবেএখনো দলের অন্তর্গত আছেন তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে ঝিকরগাছা উপেজেলা  আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের। যশোর জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক এসএম মাহমুদ হাসান বিপু  স্বাক্ষরিত ঐ চিঠিতে বলা হয়েছিলো, ইউপি নির্বাচনে ঝিকরগাছার পানিসারা ইউনিয়ন, শিমুলিয়া ইউনিয়ন, গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়ন, গদখালী ও মাগুরা ইউনিয়নে দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক মনোনয়ন প্রাপ্তদের বিপক্ষে কাজ করছেন ঝিকরগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুছা মাহমুদ ও সহসভাপতি রমজান শরীফ বাদশা। এই দুই নেতা নৌকা প্রতীকের পক্ষে যারা কাজ করছেন তাদেরকে মুঠোফোনেও হুমকি দিয়ে বিরত রাখার চেষ্টা করছেন। আর বিদ্রোহীদের পক্ষে কাজ করছেন। যা গঠনতন্ত্র বিরোধী।গঠনতন্ত্র বিরোধী কাজ করায় তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা কেন নেওয়া হবে না এই মর্মে তিন দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। এই চিঠির অনুলিপি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ইউপি নির্বাচনী মনোনয়ন বোর্ড, সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক এমপি বরাবর প্রেরণ করা হয়েছিলোউল্লেখ্য গেল ৩ জানুয়ারি উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেনের ভাই আব্বাস আলী (৪০) কে বোমা ও ছুরি মেরে হত্যা করে পালসার বাবুসহ ২০-২২ যুবক আর ৬ জানুয়ারি র‌্যাবের সাথে কথিত বন্ধুক যুদ্ধে নিহত হয় পালসার বাবু। এটা কিসের ইঙ্গিত এমন প্রশ্ন স্থানীয়দের।