আজ - মঙ্গলবার, ২৮শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২০শে জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি, (গ্রীষ্মকাল), সময় - রাত ১০:৪৪

বনে ফেলে আসা ‘পরীর’ মাকে শনাক্ত, বাবা গ্রেপ্তার


মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল জানকিছড়া বন থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া নবজাতক ‘পরীর’ বাবা-মাকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড় উঠলে আটক করা হয়েছে ওই লম্পট বাবাকে।পুলিশ জানায়, শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের বাগলপুর গ্রামের এক বিধবার কিশোরীর সঙ্গে পাশের বাড়ির সিএনজিচালক দুই সন্তানের জনক অরুণ কর নানা প্রলোভন দেখিয়ে গত এক বছর ধরে ধর্ষণ করে আসছিল। এইর মধ্যে কিশোরীটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। গত ২৩ এপ্রিল ওই কিশোরী এক কন্যা শিশু জন্ম দেয়। এরপর শিশুটিকে পলিথিনে করে বনে ফেলে আসে অরুণ ও তার অপর দুই সহযোগী।এ ঘটনায় গতকাল রোববার বিকেলে শিশুটির দিদিমা পারুল কর বাদী হয়ে শ্রীমঙ্গল থানায় তার মেয়েকে ধর্ষণ ও নাতনীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে শ্রীমঙ্গল থানায় মামলা করেন। পারুল কর বলেন, আমার কিশোরী মেয়েকে নিয়ে আমি শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের ভাগলপুরে থাকি। স্বামী না থাকায় খুব কষ্ট করেই চলছিল তার সংসার। জীবীকার সন্ধানে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সুযোগে তার কিশোরী মেয়েকে পাশের বাড়ির সিএনজি ড্রাইভার দুই সন্তানের জনক অরুণ কর নানা প্রলোভন দেখিয়ে গত এক বছর ধরে ধর্ষণ করে আসছে। আমার মেয়ে কিছু বুঝে উঠার আগেই সন্তান সম্ভবা হয়ে উঠে। এসময় তার গর্ভপাত ঘটানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু জন্মের আগে তাকে পৃথিবী থেকে তাড়িয়ে দিতে না পারলেও জন্মের পর তাকে নির্জন লাউয়াছড়া বনে নির্বাসনে দেয় অরুণ ও তার অপর দুই সহযোগী। বনরক্ষীদের সহযোগিতায় পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে। শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শিশুটির বাবা-মাকে শনাক্ত করি। পরে কিশোরী মেয়ের মা বাদী হয়ে তার মেয়েকে ধর্ষণ ও নাতনীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে মামলা করেছেন। ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলায় অরুন করকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিশুটির বিষয়ে এখন আদালত সিদ্ধান্ত নিবে। বর্তমানে শিশুটি মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

আরো সংবাদ