আজ - মঙ্গলবার, ৩১শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৯ই রজব, ১৪৪৪ হিজরি, (শীতকাল), সময় - সকাল ৭:২৫

মনিরামপুরে সুইসাইড নোট লিখে গ্রাম পুলিশের আত্মহত্যা

  • বারংবার মিথ্যা মামলায় জড়ানোর অভিযোগ।

মনিরামপুরে বারবার মিথ্যা মামলায় জড়ানো এবং মিমাংশিত একটি মামলায় আদালত থেকে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করায় অভিমানে গ্রাম পুলিশ ইউসুফ আলী গাজী আত্মহত্যা করেছে।

রোববার বিকেলে উপজেলার কপালিয়া গ্রামের নিজ বাড়িতে তিনি সুইসাইড নোট লিখে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পুলিশ লাশ উদ্ধারের পর ময়না তদন্তের জন্য সোমবার সকালে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করে।

নিহত গ্রাম পুলিশ ইফসুফ আলী উপজেলার কপালীয়া গ্রামের আবদুল মজিদ গাজীর ছেলে। সে মনোহরপুর ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার রোববার রাতে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেন।

নিহতের ভাগ্নে নূর ইসলাম জানান, রোববার বিকেলে ইউসুফের স্ত্রী নাজমা বেগম বাড়িতে না থাকায় নিজ ঘরের আড়ার সাথে গলায় রশি জড়িয়ে মামা আত্মহত্যা করেন। খবর পেয়ে বিকেল ৫টার দিকে প্রতিবেশীরা তার মরদেহ নামিয়ে আনেন।

নিহতের বোন সুফিয়া বেগম জানান, ২০১৮ সালের জুন মাসে প্রতিবেশী রবিউল ইসলামের মেয়ে মিম আক্তার সুমি কেশবপুর উপজেলার বাকাবড়শি গ্রামের বিলাত সরদারের ছেলে কামাল সরদারের সাথে পালিয়ে যায়। ইউসুফের ভাগ্নে বিলাত সরদারের ছেলে এই কামাল সরদার। সেই সূত্রধরে কামাল, ইউসুফ ও তার স্ত্রী নাজমার বিরুদ্ধে আদালতে একটি অপহরণ মামলা করেন রবিউল। বিষয়টি নিয়ে এসপি অফিস, থানা ও নেহালপুর ফাঁড়িতে একাধিকবার ডাক পড়ে ইউসুফের। পরে ছেলে মেয়েকে খুঁজে পাওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে আপোষ হয়ে যায়।

কিন্তু সেই আপষের কপি আদালতে যথা সময়ে উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত ওই তিন আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেন। এর আগেও গ্রাম পুলিশ ইউসুফ আলীকে দুটি মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়। একই গ্রামের মফিজুর রহমান ও তার স্ত্রী রেক্সনা বেগম ওই মামলা দুটি করেন।

সুইসাইড নোটে তিনি উল্লেখ করেন বার বার তার বিরুদ্ধে রবিউল ও তার স্ত্রী নাসরিন খাতুন মিথ্যা মামলা করে হয়রনি করে আসছে। এমনকি ওই রেক্সনা বেগম ও রবিউলের স্ত্রী নাসরিন বেগম মৃত ইউসুফ আলীকে আবারও মিথ্যা মামলায় ফাসানোর ভয় দেখিয়ে রোববার সকালে বাড়ি থেকে বের হন। আর এসব কারনে ইউসুফ আলী অভিমানে আত্মহত্যা করেন বলে উদ্ধারকৃত সুইসাইড নোটে উল্লেখ করা হয়েছে। রোববার বিকেলে খবর পেয়ে নেহালপুর পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই হাসান লাশ উদ্ধার করেন। মনিরামপুর থানার ওসি(সার্বিক) রফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় আপাতত অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। সুরতহাল রিপোর্ট এলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরো সংবাদ
যশোর জেলা
ফেসবুক পেজ
সর্বাধিক পঠিত