মহানবী কে কটুক্তি-উত্তাল রংপুর-বাড়ী ঘরে আগুন- নিহত ১,আহত ২০

কয়েকটি বাড়িতে আগুন তদন্ত কমিটি গঠন

রংপুর জেলা প্রতিনিধি : রংপুরে মহানবী হযরত মুহাম্মদকে (সাঃ) নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তি করার প্রতিবাদে বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুব্ধ মুসল্লিরা। এসময় পুলিশ বাধা দিতে গেলে মুসল্লিদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে একজন নিহত এবং পুলিশসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর রংপুর সদর উপজেলার খলেয়া ইউনিয়নের শলেয়া শাহ বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ রাবাট বুলেট ও টিয়ার শেল ছুঁড়ে।

স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন আগে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে কর্মরত রংপুরের পাগলাপীর ঠাকুরবাড়ি গ্রামের টিটু চন্দ্র নামে এক ব্যক্তি মহানবীকে (সাঃ) নিয়ে ফেসবুকে কটুক্তি ও আপত্তিকর ছবি পোস্ট করে। এরই প্রতিবাদে গতকাল শুক্রবার নামাজের পর স্থানীয় মুসল্লিরা একজোট হয়ে পাগলাপীর বাজারে মানববন্ধন কর্মসূচি শুরু করেন। এসময় কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে আশেপাশের কয়েক হাজার মুসল্লি সমবেত     হন। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ মানুষজন ঠাকুরপাড়ার কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এতে পুলিশ বাধা দিলে মুসল্লিদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়।

  পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এতে অন্তত ১৫ জন মুসল্লি আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে হাবিব (২৭) নামে এক যুবক রংপুর মেডিকেলে মারা যায়। অন্যদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত রংপুর দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এসময় যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত  এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল-এ) সাইফুর রহমান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে। আমরা জনতাদের শান্ত করছি। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

মন্ত্রীর ঘটনাস্থল পরিদর্শন : মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে নিয়ে ফেস বুকে অবমাননাকর বক্তব্য লিখে ষ্টাটাস দেবার ঘটনায় সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা গতকাল শুক্রবার  রাতে পরিদর্শন করেছেন  স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা ।  তিনি ক্ষতিগ্রস্থদের বাড়িঘর পরিদর্শন করে দোষিদের বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্থার আশ^াস দেন।  সেই সাথে মন্ত্রী সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সকল সহযোগীতা করা হবে বলে জানান। তিনি বলেন, দোষি যে  হোক না কেন পুলিশ তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসবে। বাড়ি ঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনায় পুলিশ এ পর্যন্ত ৫ জনকে আটক করেছে।  রংপুরের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের জানান, আমরা এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সকল ধরনের চেষ্টা আব্যাহত রেখেছি।

বর্তমানে সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে।  তিনি জানান এ ঘটনায় রংপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আবু রাফা মোহাম্মদ আরিফকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন রংপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম। আগামী ৭ দিনের মধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জামা দিতে বলা হয়েছে।