মোহিত নাথের ইন্ধনে অমিতের উপর হামলা: নিন্দা।

বিশেষ প্রতিনিধি : ‘যশোর-৩ (সদর) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে ছুরি মেরে খুন করার চেষ্টা করা হয়েছে’- আজ বিকেলে শহরের মুড়লি এলাকায় নির্বাচনী টেন্ট উদ্বোধন করতে গিয়ে তিনি এই পরিস্থিতির শিকার হন বলে অভিযোগ করেছেন এর পর পরই আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে।
বিকেলে ওই এলাকায় দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় একই সন্ত্রাসীদের হাতে আক্রান্ত হন চার সাংবাদিক। সন্ত্রাসীরা এই সময় সংবাদকর্মীদের মারধর ছাড়াও সময় টিভির ক্যামেরা ভেঙে ফেলে। আর বিএনপি নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদকসহ বেশ কয়েক নেতাও মারধরের শিকার হন।
এর আগে দুপুরে সদর উপজেলার হালসা বাজারে অমিতের সভাস্থলে বোমা হামলা, চেয়ার ভাঙচুর ও মাইক ছিনিয়ে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। তারা সেখানে বিএনপির ৮-১০ কর্মীকে মারধর করে; যাদের পাঁচজনকে জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া বোমা হামলা হয়েছে ঝিকরগাছায়ও।
আজ সন্ধ্যার কিছুসময় আগে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে অমিত জানান, বিকেলে শহরের মুড়লি ক্লাব হাউজের কাছে তার নির্বাচনী টেন্ট উদ্বোধনের নির্ধারিত সময় ছিল। বিকেল চারটার দিকে তিনি খবর পান, তৈরি করা টেন্টে হামলা করেছে আওয়ামী লীগ আশ্রিত সন্ত্রাসীরা। এর পর তিনি ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হন। সেখানে তিনি নিজেও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের তোপের মুখে পড়েন। এক সন্ত্রাসী ছুরি নিয়ে তেড়ে আসে তাকে মারতে। সেই সময় দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে ঘিরে ধরে রক্ষা করেন।
অমিত অভিযোগ করেন, কোতয়ালী থানার একজন অফিসারের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে পুলিশ ছিল। কিন্তু তারা দর্শকের ভূমিকা পালন করে। নৌকার নির্বাচন পরিচালনাকারীদের অন্যতম প্রধান সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোহিতকুমার নাথকে ফোনে অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
তিনি জানান, নৌকা সমর্থক সন্ত্রাসীরা প্রথমে ধানের শীষের টেন্ট ভেঙে দেয়। এরপর ওই এলাকায় অবস্থানরত বিএনপি কর্মীদের গণহারে মারধর শুরু করে। কয়েকটি মোটরসাইকেলও ভেঙে ফেলে তারা।
ঘটনাটি সঙ্গে সঙ্গে কোতয়ালী থানার ওসি অপূর্ব হাসানকে জানান অমিত। কিছু সময় পর ওসি ফোর্স নিয়ে মুড়লি যান।
মুড়লির ঘটনায় বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী জখম হয়েছেন বলে জানান অমিত। এদের মধ্যে দুইজনকে জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আর নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুনীর আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চুকে কাঠ দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বাচ্চু তার ওপর হামলার বর্ণনা দেন। কোমরের কাছে আঘাতপ্রাপ্ত স্থান সাংবাদিকদের দেখানও তিনি।
এর আগে দুপুরে হালসা বাজারের সন্ত্রাসী ঘটনা সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন ধানের শীষের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামসুল হুদা, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন খোকন, নগর সভাপতি মারুফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু, জেলা সহসভাপতি গোলাম রেজা দুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে সন্ত্রাসী হামলার শিকার সংবাদকর্মীদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করা হয়। আর নির্বাচন কমিশন, রিটার্নিং অফিসার, পুলিশ সুপারের প্রতি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির আহ্বান জানান অমিত। বলেন, এর আগে রিটার্নিং অফিসারকে পাঁচটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। কোনো কাজ হয়নি।
এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ গণপ্রতিরোধ ডেকে আনছে। শাসক দলের সন্ত্রাসীরা গণপ্রতিরোধের মুখে টিকতে পারবে না।’

সরকার জল ঘোলা করে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই কেন্দ্রীয় নেতা।
এদিকে, সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়েছে শুনে অনেক সহকর্মী ছুটে আসেন প্রেসক্লাবে। সন্ধ্যার পর প্রেসক্লাব কনফারেন্স রুমে সভায় বসেন সংবাদকর্মীরা। সেখানে সাংবাদিকদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের বিচার দাবি করা হয়।