আজ - শুক্রবার, ৯ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি, (হেমন্তকাল), সময় - সকাল ৯:১৫

যশোরের মন্ডলগাতিতে আগুনে ১৯টি ঘর ভস্মীভূত বিতর্কিত ফায়ার সার্ভিস

  • খবর পাওয়ার দেড় ঘন্টাপর ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস!
  • ৩০ লাখ টাকার মালামাল ছাই – এলাকাবাসীর ক্ষোভ!
  • ফায়ার সার্ভিসের বিরূদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস চেয়ারম্যান শাহারুল ইসলামের।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর সদর উপজেলার মন্ডলগাতি গ্রামে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকান্ডে ১৯টি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সোমবার সন্ধ্যার আগে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন লাগার খবর পেয়েও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে যেতে গড়িমসি করায় তিনটি পরিবারের এই সর্বনাশ হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

এলাকাবাসীরা জানান, সোমবার বিকাল ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে ওই আগুনের সূত্রপাত হয়। এসময় যশোর ফায়ার সার্ভিসে বারবার ফোন দেওয়া হলেও গুরুত্ব দেয়া হয়নি। এসময় স্থানীয়রা চাঁচড়া পুলিশেও খবর দেয়। এরই মধ্যে জরুরি সেবার হটলাইন ৯৯৯-এ ফোন দেয় এলাকাবাসী। সেখান থেকে যশোর ফায়ার সার্ভিসে ফোন দিয়ে আগুন লাগার খবর দেওয়া হয়। কিন্তু কন্ট্রোলরুমের খবর পেয়েও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুনে নেভাতে যেতে গড়িমসি করে। তারা সন্ধ্যার পরে ( ৭টার দিকে) ঘটনাস্থলে গিয়ে পৌঁছায়। কিন্তু ততক্ষণে আব্দুল মাজেদের ছেলে তরিকুল ইসলাম, রবিউল ইসলাম, আশিক ইসলামের সাতটি ঘর ও তিনটি রান্না ঘর, পাশের নওশের আলীর ছেলে মামুন ও মফিজুরের তিনটি ঘর ও দুটি রান্নাঘর এবং মৃত শমসের আলীর মেয়ে ফরিদা বেগমের তিনটি ঘর ও একটি রান্না ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তাদের ঘরে থাকা ফ্রিজ, টিভি, টাকা পয়সাসহ যাবতীয় জিনিসপত্র ভস্মীভূত হয়। আগুন নেভাতে গিয়ে আহত হয় এক যুবক। স্থানীয় আব্দুর রবের ছেলে গোলাম রসুল জানান, যশোর ফায়ার সার্ভিসে আগুন লাগার খবর দিলে তারা বিভিন্ন প্রশ্নবানে জর্জারিত করেন।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বলতে থাকেন ‘রান্না ঘর থেকে আগুন লাগলে পানি দেন নিভে যাবে’ ইত্যাদি কথাবার্তা বলতে থাকেন এক পর্যায়ে হটলাইন নম্বর ৯৯৯-তে ফোন দিয়ে ঘটনা জানানো হয়। এরপর কন্ট্রোল রুম থেকে ভুক্তভোগীদের ফোনে রেখেই দ্রুত আগুন নেভাতে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু সেক্ষেত্রেও গড়িমসি করে যশোর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। সন্ধ্যা রাতে (৭টার দিকে) তারা আগুন নেভাতে যায়। ততক্ষণে দেড় ঘণ্টা ধরে পুড়তে থাকে বাড়িঘর। এতে তাদের আনুমানিক ৩০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে রাত ১০ টা ৫০ মিনিটে যশোর ফায়ার সার্ভিস অফিসের টেলিফোনে ফোন দিলে দায়িত্বরত নাজমুল ইসলাম বলেন, ফায়ার সার্ভিস কখনো আগুন লাগার খবর পেয়ে গাফিলতি করে না। তাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে সেটা ঠিক না। আর হটলাইন থেকে তাদের জানানোর বিষয়েও তিনি অবহিত নন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগুন লাগার খবর পেয়ে ৬ টা ৪৫ মিনিটে তাদের গাড়ি স্টেশন থেকে বের হয়। আর আগুনে ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে। এর আগে রাত ৯টার দিকে যশোর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ডিউটি ম্যান সাঈদ ইকবাল জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা সেখানে যান। সেখান থেকে ২০ লাখ টাকার মালামাল অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান আরবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহারুল ইসলাম। এ সময় তিনি এলাকাবাসীদের সাথে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা প্রশাসক কে বিষয়টি অবহিত করে কর্ত্যবে গাফিলতির জন্য ফায়ার সার্ভিসের বিরূদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণের সুপারিশ করেন একই সাথে ক্ষতিগ্রস্থদের আরবপুর ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন শাহারুল ইসলাম।

আরো সংবাদ