যশোরে চাঁচড়ার মুফা বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে সমাহিত হচ্ছিলেন!

নাঈম সাব্বির ঃ যশোরে চাঁচাড়া ইউনিয়নের শাড়াপোল নারায়নপুর এলাকার মফিজুল ইসলাম মুফা নামে এক ব্যক্তিকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করে লাশ ফেলে দেয়া হয়েছে কালিগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ি নামক স্থানে।
গত সোমবার রাতে মুফাকে তার নিজ বাড়ী থেকে ৬ জন হেলমেট পরা ব্যক্তি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যায়।

তারপর,তার পরিবারের সদস্যরা থানা ও ডিবি অফিস সহ বিভিন্নস্থানে খোঁজ নিয়ে কোথাও মুফাকে আবিস্কার করতে পারেননি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে আটকের কথা স্বীকার করা হয়নি।

নিহতের পরিবারের দাবি, রাত ৯ টার দিকে মুফা তার নিজ বাড়িতে ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, হটাৎ করে ৬ জন হেলমেট পরা ব্যক্তি পুলিশ পরিচয়ে মুফাকে কলার ধরে টেনে হিঁচড়ে বের করে আনে। প্রতক্ষ্যদর্শীরা বলছেন, এসআই হাসানুল তাকে আটক করেছে তবে আটকের কথা অস্বীকার করেছে হাসানুল।

এদিকে পরিবারের লোকজন পথচারী মারফত খবরপান ফুলবাড়ি তে একটি লাশ পড়ে আছে। তাদের মুখে লাশের বিবরণ শুণে পরিবারের লোকজন নিশ্চিত হন এটা মফিজুল ইসলাম ওরফে মুফা।

মফিজুলের শ্যালক হযরত আলী খানজাহান আলী 24.com কে বলেন, আমি মঙ্গলবার ফুলবাড়িতে পৌঁছে জানতে পারি,লাশ ঝিনাইদহ হাসপাতালে আছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লাশের কথা অস্বীকার করেন এবং থানায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। ঝিনাইদহ সদর থানা ও কালিগঞ্জ থানা কোথাও মুফাকে আটক বা লাশের কথা স্বীকার করেনি।

আজ বুধবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে চাঁচড়া ইউপি চেয়ারম্যান আজিজ আহমেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমরা ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পৌঁছে মুফার লাশ শনাক্ত করেছি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লাশটি বে-ওয়ারিশ লাশ হিসেবে দাফনের সব বব্যস্থা সম্পন্ন করে ফেলেছে। কিন্তু হটাৎ করে মুফার পরিবারের সদস্যরা চাঁচড়া ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছালে ভেস্তে যায় বেওয়ারিশ প্রক্রিয়া। লাশটি পরিবারের নিকট হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে। আজই মুফার মরদেহ যশোরে এনে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান।

মফিজুল ইসলাম মুফা চাঁচড়া ইউনিয়নের শাড়াপোল এলাকার লিয়াকত মুহুরির ছেলে। মুফা’র দুই স্ত্রী ও চারটি সন্তান রয়েছে। নিহত মুফার মুখের মধ্যে গুলি করা হয়েছে। ফলে মাথার পেছন থেকে হাড় ভেঙে বেরিয়ে গেছে।
তবে কালিগঞ্জ থানার ওসি, মিজানুর রহমান বলেন রাস্তা পার হতে গিয়ে দূর্ঘটনায় মৃত্যু হতে পারে তার।
কোতয়ালি মডেল থানা যশোর, থেকে জানানো হয়েছে মুফা ১২ টি মামলার আসামি ছিলেন যার মধ্যে দুটি মাদক দ্রব্যবিষয়ক মামলা। কিন্তু মুফার পরিবারের পক্ষ থেকে দুটি মামলার কথা স্বীকার করা হয়েছে।