যশোরে প্রেমে ব্যর্থ হয়ে – পরপারে পাড়ি জমালো দু যুবক!


যশোর প্রতিনিধি  : প্রেমের প্রত্যাখাত হওয়ায় যশোরে কীটনাশক পান করে ও গলায় ফাঁঁস দিয়ে দুই কলেজ ছাত্র আত্মহত্যা করেছে নিহতরা হলো, যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া করিচিয়া এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে ও রুদ্রপুর মুক্তিযোদ্ধা ডিগ্রি কলেজের অর্নাস দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাকির হোসেন (২০) এবং একই উপজেলার এড়েন্দা গ্রামের সমির রায়ের ছেলে ও যশোর মডেল পলিটেকনিক কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র অমিত রায় (২০)। নিহতের লাশের রোববার সকালে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

নিহতর পিতা শহিদুল ইসলাম জানান, রাকিব তার কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী রুদ্রপুর গ্রামের মিজানুর রহমানের মেয়ে নাজনীন আক্তারের সাথে স্কুলে পড়াশোনার করার সময় সম্পর্ক হয়। বিষয়টি মেয়ের পরিবার জানতে পেরে সম্প্রতি নাজনীনকে রাকিবের সাথে কথা বন্ধ করে দেয়। শনিবার সন্ধ্যায় রুদ্রপুর বাজারে মেয়ের পিতা মিজানুর রহমানের সাথে রাকিব দেখা করে নাজনীনের সাথে কথা বলার জন্য কাকুতি মিনতি করে। মিজানুর এসময় তাড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে রাকিব তার সামনেই কীটনাশক পান করে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সন্ধ্যার পর যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। ভর্তির পরই রাতে রাকিবের মৃত্যু হয়। ডাক্তার তৌহিদুল হক তার মৃত্যু ঘোষণা করেন।

রাকিবের স্বজনরা জানান, রাকিবের মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে মেয়ে নাজনীন আক্তার, তার পিতা মিজানুর রহমান এবং মা শনিবার রাতেই বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে।

অপরদিকে অমিত রায় শনিবার বিকালে নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। নিহতের মামা বিকাল রায় জানান, কি কারনে অমিত গলায় ফাঁঁস দিয়েছে আমরা জানিনা৷ শনিবার দুপুরে কলেজ থেকে বাড়িতে এসে মায়ের কাছে ভাত খেতে চায়৷ কিছু সময় পর মা ভাত নিয়ে ঘরে গিয়ে দেখে ঘরের আড়ার সাথে অমিত ঝুলিয়ে আছে। মায়ের চিৎকারে স্থানিয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে পৌনে ছয়টার দিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসে৷ হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক আব্দুল্লা আল মামুন মৃৃত ঘোষনা করে বলেন, হাসপাতালে আনার আগেয় মৃৃত্যু হয়েছে। তবে, স্থানীয়রা জানিয়েছে, কলেজের একটি মেয়ের সাথে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমজ সম্পর্ক রয়েছে। তারই জের ধরে সে আত্মহত্যা করেছে।