আজ - শুক্রবার, ২২শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৫ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি, (গ্রীষ্মকাল), সময় - দুপুর ২:২২

যশোর উপশহর ই ব্লকের মসজিদ স্কুল মাদ্রাসা ডুবছে ড্রেনের পানিতে।

যশোরের অন্যতম পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত উপশহরের বিশাল একটি অংশ এখন চরম নাগরিক অবহেলা ও স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে উপশহরের ই-ব্লক, এফ-ব্লক, সেক্টর-৭, সেক্টর-৮ এবং এস-ব্লক এলাকা সংলগ্ন সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার চরম বেহাল দশায় দিন কাটছে হাজারো মানুষের। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে এবং ড্রেনের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন নিশ্চিতের দাবিতে এবার রাজপথে নেমেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

‘ই-ব্লক নাগরিক সুরক্ষা কমিটি’র ব্যানারে আয়োজিত এক স্বতঃস্ফূর্ত মানববন্ধনে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, দুর্ভোগ নিরসনে স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে সরকারের এমন কোনো দপ্তর বাকি নেই যেখানে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে লিখিত আবেদন বা স্মারকলিপি দেওয়া হয়নি। অথচ দফায় দফায় স্মারকিলিপি জমা দেওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীন ও বধির ভূমিকা দেখে মনে হয়, এই জনপদে কোনো মানুষ বাস করে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো এলাকা প্লাবিত হয়ে দীর্ঘস্থায়ী জলজট সৃষ্টি হয়। ই-ব্লকের রাস্তাগুলো যেন একেকটি ছোটখাটো ডোবায় পরিণত হয়েছে, যেখানে পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত ও কাদার সৃষ্টি হওয়ায় যান চলাচল তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে চলাই দায় হয়ে পড়েছে। নোংরা ও বর্জ্য মিশ্রিত পানি সড়ক উপচে মানুষের বসতবাড়ির ভেতরে এবং স্থানীয় মসজিদের আঙিনায় ঢুকে পড়ছে, যার ফলে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। এলাকার একমাত্র মাদ্রাসা, চারটি স্কুল ও একটি কলেজের শিক্ষার্থীরা পড়েছে চরম বিপাকে; বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর খেলার মাঠ এখন পানিতে থৈ থৈ করছে। এই জমে থাকা নোংরা পানি প্লাস্টিক ও সার কারখানার বর্জ্যে ভরাট হয়ে যাওয়ায় তা মশার অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। ফলে ডেঙ্গুসহ নানা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ভুগছেন এলাকার শিশু ও বৃদ্ধরা। ইতিপূর্বে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অসম্পূর্ণ ড্রেনেজ কাজ এবং ড্রেনের মাঝে অপরিকল্পিত কালভার্ট নির্মাণের কারণেই মূলত এই স্থায়ী কৃত্রিম বন্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে বাসিন্দারা নিশ্চিত করেছেন।

ভুক্তভোগী নাগরিকরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনের আগে ভোটের আশায় রাজনৈতিক নেতারা এসে এই অঞ্চলের জলাবদ্ধতা দূর করার বড় বড় প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ফুটিয়েছিলেন। কিন্তু ভোটের বৈতরণী পার হওয়ার পর এখন আর কোনো নেতার দেখা মিলছে না, কেউ ফিরেও তাকাচ্ছে না এই অবহেলিত জনপদের দিকে। স্থানীয় পৌরসভা, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, যশোর হাউজিং এস্টেট এমনকি পরিবেশ অধিদপ্তর পর্যন্ত লিখিত প্রতিকার চেয়েও কোনো ফল মেলেনি। সবশেষে বাধ্য হয়ে এবং দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায়, অত্র এলাকার সড়ক সংস্কার, ড্রেন পুনর্নির্মাণ ও স্থায়ী জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সরাসরি হস্তক্ষেপ ও সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন উপশহরবাসী

আরো সংবাদ
যশোর জেলা
ফেসবুক পেজ
সর্বাধিক পঠিত
-->