যশোর খয়েরতলা বস্তি ও নুরপুরে রমরমা মাদক ব্যবসা

নিজস্ব প্রতিবেদক> যশোর সদরের স্টেশন খয়েরতলা বস্তি কোয়ার্টার ও নুরপুর গ্রামে মাদকদ্রব্যের রমরমা ব্যবসা চলছে। কোয়ার্টার বস্তির মেঝে বুড়ি ও নুরপুরের আলী আহমেদের নেতৃত্বে ৫সদস্যের সিন্ডিকেট এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের টিকিটও ছুঁতে পারছে না।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে স্টেশন খয়েরতলা কোয়ার্টার ও নুরপুরে মাদকের ছড়াছড়ি চলছে। মূলত এখানে ইয়াবা ট্যাবলেট ও গাঁজার ব্যবসা হয়। এলাকার আলী আহমেদ স্টেশন খয়েরতলা বাজারে ফার্নিচার ব্যবসার আড়ালে চালাচ্ছে মাদক ব্যবসা। তার নেতৃত্বে মেঝে বুড়ি, মন্টু, রহমান, ইয়ারুল, জামাল মাদক বিক্রি ও সেবনের সাথে জড়িত। এরমধ্যে মন্টু, রহমান ও ইয়ারুল ডাকাতিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ নুরপুরে মাদক সরবরাহ করছে। চলতি বছরের মার্চ মাসের দিকে গোয়েন্দা পুলিশ মেঝে বুড়িকে ৭৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ রেল বস্তি কোয়ার্টার এলাকা থেকে আটক করে। এঘটনায় ২৫০ পিস দিয়ে পুলিশ কোতয়ালি থানায় মামলা দেয়ার পর সে চার মাস কারাগারে থাকে। এরপর বের হয়ে পুনরায় ব্যবসায় নেমে পড়েছে। ওই সময় মেঝে বুড়ি কয়েকজনের নাম প্রকাশ করে। এরমধ্যে তার গডফাদার ফার্নিচার দোকানের মাালিক আলী আহমেদসহ মন্টু, ইয়ারুল ও রহমানের নাম রয়েছে। নাম প্রকাশ পাওয়ার পর পুলিশ তাদের আটকে তৎপর হলে পরবর্তীতে তদবিরে মোটা অংকের টাকা দিয়ে এরা আটক থেকে রক্ষা পায়। বর্তমানে এরা পুলিশকে ম্যানেজ করে পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছে ইয়াবা ট্যাবলেট ও গাঁজার ব্যবসা। শুধু তাই নয়, মাদক ব্যবসার কারণে এলাকাটি অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠেছে। এখানে হত্যা, মারামারিসহ নানা অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। গত ১১ আগস্ট নুরপুর গ্রামের একটি বাড়িতে খুন হয় তায়েনুর রহমান নামে এক বেসরকারি হাসপাতাল কর্মচারী। এরআগে ২ আগস্ট স্টেশন রেল কোয়ার্টার বস্তিতে সজিব নামে এক যুবক আত্মহত্যা করে। মুলত মাদক ব্যবসাকে ঘিরে এখানে অনৈতিক কারবারের নিরাপদ ঘাঁটি গড়ে উঠেছে। অনেকে নিরাপদ মনে করে শহর থেকে মাদক সেবন ও খুচরা মাদক বিক্রির জন্য এই এলাকা বেছে নিয়েছে। শহর থেকে প্যান্ট শার্ট ক্যাপ পরা সাংবাদিক পরিচয়দানকারী এক বিতর্কিত নারী মোটরসাইকেলে রাত ১০টার পর গিয়ে মাদক ব্যবসা ও সেবনে জড়িয়ে পড়ে বলেও গুঞ্জন রয়েছে। বব চুল কাটা এই নারী প্রেমের অভিনয় করেও ফাঁদে ফেলে লোকজনের সাথে ব্লাকমেইল করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, মাদক ব্যবসাকে আরো নিরাপদ করে তুলতে মন্টু, রহমান ও ইয়ারুল নিজেদের মানবাধিকার সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ধব্জাধারী বলেও বুলি আওড়িয়ে থাকে। ফলে তাদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়না। যে কারণে দাপটের সাথে তারা ওই নারীকে নিয়ে ব্লাকমেইলিংসহ অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এই চক্রের সদস্য জামালকে গত ১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর স্টেশন খয়েরতলা রেল বস্তি থেকে মদ্যপ অবস্থায় একটি গোয়েন্দা সংস্থা আটক করে পুলিশে দেয়।