আজ - সোমবার, ১৭ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১১ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি, (বর্ষাকাল), সময় - রাত ১২:১৭

যশোর জেলা পরিষদের কেটে রাখা গাছে ঘটছে দুর্ঘটনা।

যশোর-নড়াইল সড়কের ঝুকিপূর্ণ গাছ অপসারণের দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় লোকজনসহ পথচারীরা। অর্ধেক কেটে রাখা গাছে বিপদ ঘটাবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছিলেন। শেষ পর্যন্ত তাদের সেই আশঙ্কা সত্যি হয়েছে। এই সড়কে সোমবার সকালে বাস উল্টে যে দু’জন নিহত হয়েছেন সেটি হয়েছে ওই ঝুঁকিপূর্ণ গাছের কারণে। রাস্তার পাশে পড়ে থাকা গাছের গুড়ির সাথে ধাক্কা লেগে বাসটি উল্টে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এ ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বলছেন অর্ধেক কেটে রাখা গাছ এখন তাদের গলার কাটায় পরিণত হয়েছে।
অপরদিকে, অর্ধেক কেটে রাখা গাছগুলো অপসারণের জন্য যশোর জেলা পরিষদের কাছে লিখিত আবেদন করেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ওই গাছগুলোর কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে আবেদনে।
স্থানীয়রা জানান, রাস্তা সম্প্রসারণের কাজের জন্য গত তিনমাস ধরে যশোর শহরের নীলগঞ্জ সেতু থেকে বাঘারপাড়া উপজেলার করিমপুর পর্যন্ত রাস্তার পাশে থাকা বিভিন্ন গাছ কাটতে থাকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাকিব হাসান। ইতিমধ্যে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ৫০০ গাছের মধ্যে প্রায় ৩০০ টি কাটার কাজ শেষ করে। বাকি ২০০ টির মধ্যে ২০-৩০ টি গাছের কিছু অংশ কাটা হয়েছে। আবার কোনো কোনো গাছের গোড়া খুঁড়ে রেখেছে কাটার উদ্দেশ্যে। এরমধ্যে পরিবশেবাদী একটি সংগঠন উচ্চ আদালতে এ গাছ কাটা বন্ধ চেয়ে রিট করে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গাছ কাটার কাজ বন্ধ করে দেয় স্থানীয় প্রশাসন। এক পর্যায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান অসমাপ্ত রাখতে বাধ্য হয়েছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান গাছের গুড়ি রাস্তার ওপর আবার কোথাও কোথাও রাস্তার পাশে ফেলে সব কাজ বন্ধ করায় চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। যে কারণে স্থানীয়রা প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠেছে।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, যেকোনো সময় বড় বড় গাছগুলো উপড়ে রাস্তার ওপর পড়তে পারে। বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যানকেসহ অনেককে বলেও কোনো লাভ হয়নি বলে দাবি তাদের। এ কারণে বাস দুর্ঘটনায় দু’জন মানুষ মারা গেছেন বলে দাবি করেন তারা। এ দায়ভার কার বলেও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে ঠিকাদার রাকিব হাসান বলেন, আকস্মিকভাবে কাজ বন্ধ করে দেয়ায় তারা বাধ্য হয়েছেন ঝুকিপূর্ণ গাছ ওভাবেই রাখতে। তারা জেলা পরিষদের কাছে গত রোববার লিখিত আবেদন করেছেন। জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে অনুমতি পেলে তারা ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো অপসারণ করতে পারবেন বলে জানান তিনি।
যশোর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা আসার পর কাজ বন্ধ করা হয়েছে। এখন তাদের কিছুই করার নেই। সেগুলো অপসারণ করার অনুমতি দেয়ার এখতিয়ার তাদের নেই। ঝুকিপূর্ণ বিষয় বিবেচনা করে জেলা প্রশাসন পারে অনুমতি দিয়ে গাছগুলো অপসারণের।

 

আরো সংবাদ