যশোর সদর ৩ আসনে জনসমর্থনের পাল্লাভারী শাহিনের (পর্ব-১)

শাহিন কেন পাবেন ! নাবিল কেন নয়? টিটো’র কি দোষ?

যশোর সদরের ১৫ টি ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় জনতার সাথে সংযুক্ত হয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে জানতে চাই তাদের মতামত ও অভিজ্ঞতা। অনুসন্ধানি প্রতিবেদনের ১ম পর্ব আজ…

মামুন মুনতাসির ও আতাউল্লাহ্ মীম:   যশোর জেলা আ’লীগ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিন চাকলাদার আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর সদর -৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য হবার জন্য মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। গুঞ্জনও ছড়াচ্ছে তৃণমূল থেকে গণভবন পর্যন্ত। খানজানহান আলী ২৪/৭ নিরবিচ্ছিন্ন নজর রেখেছে এবার তৃণমূলে, কান পেতেছে ১৫ টি ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের মুঠোফোনেও। এর আগে মনোনয়ন বোর্ডের ইঙ্গিত কিছুটা শাহিন চাকলাদারের দিকে দেখতে পেয়েছিল টিম খানজানআলী ২৪/৭ নিউজ।

জরিপে এবার দেখতে চায় শাহিন চাকলাদারকে কত শতাংশ মানুষ চাচ্ছেন এবং বর্তমান এমপি কাজী নাবিল আহমেদকে কত শতাংশ চাচ্ছেন। সাবেক সাংসদ খালেদুর রহমান টিটোকে কত শতাংশ মানুষ চাচ্ছেন। কিংবা শাহিনকেই কেন চাচ্ছেন নাবিলকে কেন নয়? টিটো কে কেন নয়? বা নাবিলকে আবার কেন শাহিন কেন নয়?বা টিটো কে কেন নয়?

এই বিষয় গুলো সামনে রেখে চলে অনুসন্ধান সদর উপজেলার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগ করে ও কথা বলে এ প্রশ্নের সমাধান করতে চাই টিম খানজাহানআলী ২৪/৭ নিউজ।

অনুসন্ধানের শুরুতেই বিব্রতকর পরিস্থিতি তে পড়তে হয় অনুসন্ধানি দল কে। ৬ অক্টোবর রাত ৮:১৩ মিনিট, তিক্ত অভিজ্ঞতাও অর্জন হয় সেখান থেকে। সদর উপজেলার উপশহর ইউনিয়ন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও চেয়ারম্যান এহসানুর রহমান লিটু বলেন, সদর উপজেলা থেকে সকল প্রকার সরকারি সুযোগ সুবিধা তারা পান পরিপূর্ণ ভাবে, জেলা আ’লীগ সম্পাদকের নিকট থেকেও সকল প্রকার নাগরিক যুযোগ সুবিধাও পান। তিনি আরো জানান উপজেলা পরিষদের বিরূদ্ধেও তার কোন অভিযোগ নেই বলে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন লিটু।

এবার প্রশ্ন করতে চাই, শাহিন চাকলাদার মনোনয়ন পাক এ ব্যাপারে জনসমর্থন কেমন? কিন্তু অর্ধেক প্রশ্ন করতেই তিনি বিরূপ আচরণ শুরু করেন এবং বলেন: না না আমি ফোনে এ বিষয়ে কোন কথা বলতে পারবো না, ফোনে কিছু বলব না ভাই। তাকে আবার অনুরোধ করে তার সমর্থন সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি আবারও একই কথা বলেন,তিনি বলেন এটা সামনা সামনি বলবো ফোনে বলতে পারবোনা। এটা রেকর্ডিং এর যুগ ফোনে কোন কথা বলবনা ভাই। পুণঃরায় তাকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলা হয় আমরা তো সাংবাদিক সব সময় সামনা সামনি আসা আমাদের পক্ষেও সম্ভব হয়না যেহেতু আমি ঢাকাতে অবস্থান করছি। তিনি তখন বলেন আমি বুঝবো কি করে আপনি সাংবাদিক? আমি ফোনে কোন কথা বলবনা ভাই। তখন তাকে বলা হয় আপনি আমাদের নিউজ দেখন না? তিনি তারপরও বলেন, না না সবই ঠিক আছে ফোনে এইসব কথা বলা যাবেনা উপজেলা পরিষদ থেকে যা যা দেয় আমারা শতভাগ ১৫ টি ইউনিয়ন তা পাই। আবার তাকে অনুরোধ করা হয় জেলা আ’লীগ সম্পাদক শাহিন চাকলাদার সম্পর্কে কিছু বলার জন্য। প্রতিত্তোরে তিনি বলেন না না না আমি মোবাইলে কারো পক্ষে বিপক্ষে কোন কথা বলব না, আপনি পরিষদে আসেন সব বলে দিবো আপনাকে।

প্রথম ধাপেই এমন বিব্রতকর পরিস্থিতি নিয়ে আমরা কথা বলেছি বিশ্লেষকদের সাথে, তারা যেমনটি বলেছেন ” এখানে সাংবাদিক কিনা বা অন্য কোন সংস্থা কিনা সেটা যাচাই করা মূখ্য নই- শাহিন চাকলাদার একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং জনপ্রতিনিধি তাছাড়া এমপি মনোনয়নও আশা করছেন তিনি, তার সম্পর্কে একজন চেয়ারম্যান হিসাবে যা অভিজ্ঞতা আছে তা অন্তন সংক্ষেপে হলেও বলাটাই সময়ের দাবি” রেকর্ডিং এর যুগ তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে কেন একজন জনপ্রতিনিধি সম্পর্কে স্পষ্ঠ জানতে চাওয়া হয়েছে কোন আন্ডারওয়াল্ড ব্যবসার লেনদেন করতে চাওয়া হয়নি যে তিনি রেকর্ডিং এর ভয় পাচ্ছেন। চেয়ারম্যান লিটুর এ আচরণের নিন্দা জানিয়ে তারা বলেন তিনি বোধকরি দুই নৌকায় পা রেখেছেন। তথ্য সহায়তা না করে গণমাধ্যমের সাথে জনপ্রতিনিধিদের এ ধরনের আচরন ইতিবাচক সংকেত বহন করেনা বলে মন্তব্য করেন বিশ্লেষকরা ।

কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মশিউর রহমান সাগর বলেন উপজেলা পরিষদ থেকে তিনি পূর্ণ সহায়তা পান কিন্তু তার ইউনিয়নে হতদরিদ্র মানুষের পরিমাণ অস্বাভাবিক হওয়ায় তাদের চাওয়া পাওয়া ৮০ শতাংশ পূরণ করতে সক্ষম হয়েছেন, বাকি ২০ শতাংশ কেও জেলা আ’লীগ সম্পাদক শাহিন চাকলাদারের মাধ্যমে যতটুকু পারি সহযোগিতা করছি। খালেদুর রহমান টিটো, নাবিল আহমেদ, এবং শাহিন চাকলাদার এই তিন জনের মধ্য থেকে কার জন্য মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন এবং কেন করেন? এসময় সাগর বলেন আমি শাহিন চাকলাদারের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছি, ২০০৫ থেকে দূর্যোগ থেকে শুরু আজ ২৭টি বছর সর্বস্তরের নিপিড়িত জনগণের সাথে আছেন এবং জণগন উনার প্রতি অত্যন্ত খুশি, উনার সাথে কথা বলা যায়, ডাকলে পাওয়া যায়, বিপদে পাশে দাঁড়ান সাহয্য করেন সে কারনে শুধু আমিই না গোটা কাশিমপুরের মানুষ তার জন্য দোয়া করে। নাবিল বা টিটো কে কেন সমর্থন করছেন না? জবাবে সাগর বলেন, টিটো ভাই জনগণের সাথে মিশতে পারেন না জনগণ তার জবাব দিয়েছে আর নাবিল আহমেদ অলৌকিক ভাবে এমপি হয়েছেন কিন্তু আজ পর্যন্ত কোন দলীয় মানুষ তো দূরের কথা জনগণের সাথেই তার কোন সংযোগ নাই। প্রতি গ্রামে হয়ত ৫ জনের বেশি লোক খুঁজে পাবেন না। তারাও আবার বেতনভুক্ত সমর্থক। তিনি আরো বলেন শাহিন চাকলাদারকে নিমেনেশন দিলে শুধু যশোর সদর না বাকী ৫ টি আসনও উপকৃত হবে। আজও শাহিন ভাই দলের কোন মানুষ কষ্টে আছে জানতে পারলে ছুটে যান বাঁজ পাখির মত সেটা দিন বা রাত যাই হোক। শাহিন ভাইকে নমিনেশন দিলে বাংলাদের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ভোটে জয়লাভ করবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কচুয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউপি আ’লীগ সম্পাদক লুৎফুর রহমান জানান, আমি এই ইউনিয়নের ৪১ বছর ধরে সাধারন সম্পাদক এবং ২ বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান। আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে শাহিন চাকলাদারের মত একজন সক্রিয় নেতা আমি খু্ব কমই পেয়েছি। শাহিন চাকলাদার কে আমি শতভাগ সমর্থন করছি। এবং আমরা ১৫ টি ইউপি’র চেয়ারম্যান একত্রে প্রধান মন্ত্রীর নিকট শাহিন চাকলাদের মনোনয়ন চেয়ে স্মারকপত্রও প্রেরণ করেছি।

চুরামনকাঠি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মুন্না বলেন, আমি এই মুহুর্তে ৫০০ লোক নিয়ে বসে মিটিং করছি যারা সবাই শাহিন ভাইয়ের সমর্থন করে। এ কারনে এমপি নাবিল গ্রুপের মোহিত নাথের পোষ্য সন্ত্রাসীরা আমাকে বার বার হত্যা চেষ্টাও করেছে। আমি বিএনপির আমলে রিমান্ডে পর্যন্ত গিয়েছি আওয়ামিলীগ সমর্থক বলে আমার উপর এত প্রেসার ছিলো। জেলা আ’লীগ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার সম্পর্কে মুন্না বলেন এই ৫ বছরে একটা ছেলেকে পুলিশে বা কোন সরকারী চাকরি দিতে পারিনি সব পায় বিএনপির লোকজন তা ছাড়া সব সুবিধা পেয়েছি। আপনি শাহিন চাকলাদারের কাছ থেকে ব্যক্তিগত সাপোর্ট পান কিনা? এসময় মুন্না বলেন না সাপোর্ট দেয়না। খালেদুর রহমান টিটো, নাবিল আহমেদ, ও শাহিন চাকলাদার কার মনোয়ন পাওয়া উচিৎ বলে মনে করেন? জবাবে মুন্না বলেন টিটো আ’লীগের কেউ না। নাবিল সাহেব আমার ইউনিয়নে একটা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি করেছে সবার নামে ৪/৫ টা করে হত্যা মামলা রয়েছে এবং ১১ জনের মধ্যে ১০ জন বিএনপি ১ জন আ’লীগ সমর্থক। এমপি সাহেব কে আমি! মুবাইল করিছি ধরিনি আমার মুবাইল, বলতি চাইলাম সব খুনি চোর ডাকাতিগের কমিটিতি নেছেন কেন”। সুন্দর ভাল চাকলাদার (শাহিন চাকলাদার) । চাকলাদারের সমর্থন করি এই জন্যি যে ডাকলি পাওয়া যায়। বিশাল বিপদে পড়লি চাকলাদার চইলে আসে নিজি। নাবিল সাহেবরে ১৫ আগস্টে দাওয়াত দিলাম কলে পরে আসপানে, কবে আসপেন আপনি আর সব চোর ডাকাত ফাইব পাশ দিয়ে কমিটি করিছেন কেন ওরা ডাকলি ১০ টা লোকও তো আসপে না। এসব শুইনে কাইটে দিলো ।

ভাই নেত্রীকে বলতে চাই, আমার মা মইরে যাচ্ছে, ক্যান্সার হয়েছে, অসুখ বিসুখ হয়েছে, নেতার কাছে গিলি ১০০ / ৫০০ টাকা দেবে ঐরাম এমপি চাইনে ওর চেয়ে চাকলাদার (শাহিন চাকলাদার) হাজার গুণি ভালো।

( চলবে……..)

আমাদের অনুরোধ আমাদের প্রতিনিধি কে  তথ্য না দেন আপত্তি নেই ,অন্তত নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে এমন আচরণ কোন গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে করবেন না। গণমাধ্যম আক্রান্ত হলে আক্রান্ত হয় গণতন্ত্র।
———- সম্পাদক।