রাখাইনে পুলিশ ফাঁড়িতে আবারও হামলা, নিহত ৭১

খানজাহান আলী নিউজ: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ৩০টি পুলিশ ফাঁড়ি ও একটি সেনাঘাঁটিতে সমন্বিত হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে নিহত হয়েছে অন্তত ৭১ জন। তাদের মধ্যে ১২ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং বাকি ৫৯ জন ‘রোহিঙ্গা মুসলিম বিদ্রোহী’ বলে দেশটির সরকার ও সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ১টা থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত রাখাইনের মং তাওসহ কয়েকটি স্থানে এ হামলা চালানো হয়। সংঘর্ষ এখনও চলছে।’দ্য আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি’ (এআরএসএ) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে এবং আরও হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে। গত বছরের অক্টোবর মাসে রাখাইন রাজ্যের সীমান্ত চৌকিতে হামলায় ৯ পুলিশ সদস্য নিহত হয়। ওই হামলারও দায় স্বীকার করেছিল এআরএসএ।
শুক্রবার সকালে মিয়ানমার সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, রোহিঙ্গা বিদ্রোহী ও গ্রামবাসী সমন্বিতভাবে ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালায়। এতে অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছে। শুক্রবার ভোর ৩টার দিকে প্রায় দেড়শ হামলাকারী রাখাইন রাজ্যের খামারা এলাকায় একটি সেনা ক্যাম্পেও ঢোকার চেষ্টা করে। তবে সেনা সদস্যদের প্রতিরোধের মুখে তারা পিছিয়ে যায় বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।
সেনাবাহিনীর দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, এই হামলায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
গত অক্টোবরে ‘এআরএসএ’র হামলায় ৯ পুলিশ নিহত হওয়ার পর রাজ্যের রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর সহিংস অভিযান চালায় দেশটির সেনাবাহিনী। ওই দমন অভিযানে সেনা সদস্যদের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা মুসলিমদের নির্বিচারে হত্যা, গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া, ধর্ষণ ও গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। সেই সময় আনুমানিক ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। ওই অভিযানে দেশটির সেনাবাহিনী মানবতাবিরোধী অপরাধে করেছে বলে জাতিসংঘ অভিযোগ করেছিল।
বৃহস্পতিবারের হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে রাখাইনের পরিস্থিতি নিয়ে দেশটির নেত্রী অং সান সু চির কাছে জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন সংস্থাটির সাবেক মহাসচিব কফি আনান। এরপর ইয়াংগুনে এক সংবাদ সম্মেলনে মুসলমান রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর বলপ্রয়োগের পথ ছেড়ে যৌক্তিক সমাধানের পথে আসার জন্য মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।