রাজধানীতে খুন খারাবি বাড়ছে – সম্পাদকীয়

রাজধানীতে চলতি মাসের শুরুতেই মাত্র ১১ ঘন্টার ব্যবধানে দুই জোড়া খুন হয়েছে। ১ নভেম্বর সন্ধ্যায় কাকরাইলে খুন হন মা ও ছেলে। এই খবরের রেশ কাটতে না কাটতেই পরদিন সকালে খবর পাওয়া যায় বাড্ডায় খুন হয়েছেন বাবা ও মেয়ে। দুটি হত্যাকান্ডই পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ থেকে ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। বিভিন্ন সময় গ্যাং কালচারে প্রাণ যাচ্ছে অনেকের। খেলার ও পড়ার সাথীরা পরস্পরের প্রতি ক্রমেই অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে। সমাজ ও মনোবিশেষজ্ঞরা করা বলছেন, যৌথ পরিবার থেকে একক পরিবারে যাওয়া, কর্মক্ষেত্রে অসুস্থ প্রতিযোগিতা, মানবিক পরিবেশ হারিয়ে যাওয়া, তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের সঙ্গে যাপিত জীবনের অসামঞ্জস্যতা সমাজকে অস্থির করে অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে বলেই জীবন সহিংস রূপ পাচ্ছে।

বাংলাদেশ পুলিশ সদর দফতরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর (১৭) অক্টোবর মাস পর্যন্ত সারা দেশে তিন হাজার খুন ও ১৫ হাজারের বেশি নারী- শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি মামলা সংখ্যা বিবেচনায় নথিভুক্ত। এর বাইরে আরও অনেক ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটে যেগুলো নথিভুক্ত হয় না। রোজকার চলার পথের এই অসহিষ্ণুতার প্রকাশ দিন দিন মানুষকে পরস্পরের কাছ থেকে দূরে নিয়ে যাচ্ছে বলেও মত দেন মনোবিশেষজ্ঞরা। মানুষের সুকুমার বৃত্তিগুলো বেড়ে ওঠার ওপর নির্ভর করে তৈরি হয়। বর্তমানে ঘরে বাইরে, রাস্তায়, কাজের জায়গায় অসহিষ্ণুতার উপাদানগুলো সক্রিয় আছে। ভুলে গেলে চলবে না মানসিক গঠনের জন্য মানবিক পরিবেশ দরকার। সেটি আমরা ধরে রাখতে পারিনি।

আমরা ক্রমশ লোভ, ভোগবাদী, স্বার্থপর হয়ে যাচ্ছি এবং উগ্রতা প্রদর্শন করছি। আমাদের মানসিক অশান্তি নানা কারণে তৈরি হচ্ছে। চারপাশের অযৌক্তিক প্রতিযোগিতা, অস্থিরতা মানুষকে অধৈর্য করে তুলছে। আমরা সভ্যতার বিচারে আবারও পিছনের দিকে হাঁটছি কি না, সেটা এখন বড় প্রশ্ন, সমাজে সুস্থতার চর্চা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা, গণতন্ত্রের চর্চার অভাব হলে এ রকমই হওয়ার কথা। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সেন্স অব কমিউনিটি গড়ে তোলা জরুরি বলে মন্তব্য করেন সমাজ বিজ্ঞানীরা। আমরা চাই স্বস্তি ফিরুক জনজীবনে।