শোক-অশ্রু আর ফুলেল শ্রদ্ধায় পিলখানায় শহীদদের স্মরণ

ওয়ালিউল হাসনাত: শোক-অশ্রু আর ফুলেল শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে পিলখানা ট্রাজেডির শহীদদের স্মরণ করে পালিত হয়েছে পিলখানা হত্যা দিবস। এ উপলক্ষ্যে  রোককার সকালে বনানী সামরিক কবরস্থানে পিলখানায় নিহত সেনা কর্মকর্তাদের কবরে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির পক্ষে তার উপসামরিক সচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী ইফতেখারুল আলম ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন শ্রদ্ধা নিবেদন বরেন। এ ছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ, বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরার, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এরপর নিহত সেনা কর্মকর্তাদের স্ত্রী-সন্তানসহ স্বজনেরা কবরে ফুল দিয়ে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে চারদিক। নিহতদের স্মৃতি স্মরণ করে স্বজনদের আর্তনাদে চোখের জল ধরে রাখতে পারছিলেন না উপস্থিত কেউই। অন্যদিকে পিলখানায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে আজ সোমবার বিকাল পৌনে পাঁচটায় বিজিবি সদর দপ্তরের বীর উত্তম ফজলুর রহমান খন্দকার মিলনায়তনে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালটা শুরু হয়েছিল বার্ষিক বিশেষ আয়োজন দিয়ে। কিন্তু শেষ হলো রক্ত, লাশ আর বারুদের গন্ধে। সেদিন পিলখানায় বিডিআরের (বর্তমানে বিজিবি) বিদ্রোহী জওয়ানেরা নৃশংসভাবে হত্যা করেন ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে। হত্যাযজ্ঞ আর বীভৎসতায় বিমূঢ় হয়ে পড়েছিল গোটা জাতি।  রোববার সেই মর্মন্তুদ ঘটনার নয় বছর পূর্ণ হলো। এই ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়ার দুটি ধাপ শেষ হয়েছে।