সাংবাদিক কেবল হত্যা- আইনি মারপ্যাঁচে বিচার শেষ হয়নি ১৭ বছরেও

যশোর প্রতিনিধি: যশোরে সাংবাদিক শামছুর রহমান কেবল হত্যাকাণ্ডের ১৮ তম বার্ষিকী  ১৬ জুলাই। ২০০০ সালের এ দিনে জনকণ্ঠ যশোর অফিসে কর্মরত অবস্থায় আততায়ীর গুলিতে নিহত হন তিনি। নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের পর ১৭ বছর পার হলেও আইনি মারপ্যাঁচে এখনও শেষ হয়নি এ মামলার বিচার। এ জন্য ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন নিহতের পরিবার এবং যশোরের সাংবাদিকরা। যদিও সরকার চাইলেই এ হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব বলে মন্তব্য আইনজীবীদের।
আদালত সূত্র জানায়, ২০০১ সালে শামছুর রহমান হত্যা মামলায় সিআইডি ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। সে সময় তৎকালীন জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর কয়েক আসামির আগ্রহে মামলার বর্ধিত তদন্ত করে শামছুর রহমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সাংবাদিক নেতা ফারাজী আজমল হোসেনকে নতুন করে আসামি করা হয়। একই সঙ্গে মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীকে বাদ দিয়ে সাক্ষী করা হয় আসামিদের ঘনিষ্ঠজনদের। এতে একদিকে মামলার বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়; অন্যদিকে দুর্বল হয়ে যায় চার্জশিট। এর পর বিতর্কিত ওই বর্ধিত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর ২০০৫ সালের জুনে যশোরের বিশেষ জজ আদালতে এই মামলার চার্জ গঠন হয়। ওই বছরের জুলাই মাসে বাদীর মতামত ছাড়াই মামলাটি খুলনার দ্রুত বিচার আদালতে স্থানান্তর করা হয়। এ অবস্থায় মামলার বাদী শামছুর রহমানের স্ত্রী সেলিনা আকতার লাকি বিচারিক আদালত পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ২০০৫ সালের সেপ্টেম্বরে
হাইকোর্টে আপিল করেন।
আপিল আবেদনে তিনি বলেন, মামলার অন্যতম আসামি খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী হিরক পলাতক রয়েছে। এ ছাড়া মামলার অন্য আসামিদের সঙ্গে খুলনার সন্ত্রাসীদের সখ্য রয়েছে। ফলে তার পক্ষে খুলনায় গিয়ে সাক্ষী দেওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বাদীর এই আপিল আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট মামলাটি কেন যশোরে ফিরিয়ে দেওয়া হবে না তার জন্য সরকারের ওপর রুলনিশি জারি করেন। এর পর মামলার আসামি ফারাজী আজমল হোসেন উচ্চ আদালতে একটি রিট করেন। এখন সেই রিটের নিষ্পত্তি না হওয়ায় মামলার সব কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।
এ বিষয়ে শামছুর রহমানের ভাই ও জেইউজে সভাপতি  সাজেদ রহমান বলেন, একাধিকবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিটি গুরুত্ব দিয়ে তোলা হয়। এ ছাড়া তারা একই দাবিতে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপিও দিয়েছেন। কিন্তু এ নিয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
উচ্চ আদালতের নির্দেশের কারণে শামছুর রহমান হত্যা মামলার বিচার কাজ বন্ধ হয়ে আছে উল্লেখ করে যশোরের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম পিটু জানান, তাদেরও প্রত্যাশা আপিলের দ্রুত নিষ্পত্তি হয়ে মামলার কার্যক্রম আবার শুরু হবে। এ ব্যাপারে পদক্ষেপের জন্য তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরে যোগাযোগ করবেন বলেও জানান।
প্রসঙ্গত, এ মামলার চার্জশিটভুক্ত ১৬ আসামির মধ্যে খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী মুশফিকুর রহমান হিরক পলাতক রয়েছে। এ ছাড়া মামলার তিন আসামি খুলনার ওয়ার্ড কমিশনার আসাদুজ্জামান লিটু র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে, কোটচাঁদপুর উপজেলা চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন কালু স্ট্রোক করে এবং যশোর সদরের চুড়ামনকাটির আনারুল প্রতিপক্ষের হামলায় মারা গেছেন। বাকিরা জামিনে রয়েছেন।
এদিকে শামছুর রহমানের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে যশোর প্রেস ক্লাব ও যশোর সাংবাদিক ইউনিয়ন  দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ১৬ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টায় প্রেসক্লাবে উপস্থিতি ও কালো ব্যাজ ধারণ; সকাল ১০টায় শোক র‌্যালি ও শহীদের কবর জিয়ারত এবং সাড়ে ১১টায় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে স্মরণসভা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা  ইকবাল সোবহান চৌধুরী।

সোমবার দুপুরে জেইউজে’র নির্বাহী কমিটির সভায় এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। জেইউজে সভাপতি সাজেদ রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন সহ সভাপতি প্রদীপ ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন, যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল করিম রুবেল, কোষাধ্যক্ষ মারুফ কবীর, নির্বাহী সদস্য শফিক সায়ীদ ও মিরাজুল কবীর টিটো।

শহীদ সাংবাদিক শামছুর রহমান কেবল হত্যাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য সভা থেকে জেইউজে’র সকল সদস্যের প্রতি আহবান জানিয়েছেন জেইউজে সভাপতি সাজেদ রহমান ও সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন।