আজ - শুক্রবার, ৯ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি, (হেমন্তকাল), সময় - সকাল ৯:৪০

সাতক্ষীরার সেই জামায়াত নেতার সন্তান এখন ছাত্রলীগের কান্ডারী হবেন!

রহিম মুন্সী: সাতক্ষীরার আশাশুনিতে নাশকতা মামলার আসামি এক জামায়াত নেতার ছেলে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী হয়েছেন। মো. হুমায়ুন কবির রাসেল নামের ওই প্রার্থী নিজেও মাদক মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি বলে জানা গেছে। এ নিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জানা যায়, আশাশুনি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির রাসেলের বাবা জামায়াত নেতা আব্দুল আজিজ নাশকতা মামলার আসামি। ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি উপজেলা সদরের হাড়িভাঙ্গা ও শ্রীউলা ইউনিয়নের মাড়িয়ালার গাছ কেটে রাস্তায় মাটি তুলে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রতীকী কবর তৈরি করেছিলেন তিনি। এছাড়া সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রে নাশকতা সৃষ্টির অংশ হিসেবে গত বছরের ২২ অক্টোবর এসআই আব্দুর রাজ্জাক বাদী হয়ে আব্দুল আজিজকে আসামি করে আশাশুনি থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। এরপর থেকে রাসেলের বাবা ও চাচা পলাতক। এলাকাবাসী জানায়, রাসেলের পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যই জামায়াত সমর্থক। অথচ রাসেল আশাশুনি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হওয়ার জন্য মোটা অঙ্কের অর্থ নিয়ে জেলা ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতাদের কাছে লবিং করছেন। আশাশুনি উপজেলার ছাত্রলীগের ত্যাগী, পরীক্ষিত এবং আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্যদের বাইরে রেখে যদি রাসেলকে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদে আনা হয়, তাহলে ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মী পদত্যাগ করবেন বলে জানা গেছে। এদিকে হুমায়ুন কবির রাসেল মাদকের মামলায় কয়েক মাস কারাগারে ছিলেন। আশাশুনি উপজেলার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একাধিক চিংড়ি ঘের দখলের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব বিষয়ে হুমায়ুন কবির রাসেলের সঙ্গে কথা বলতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেয়া হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে আশাশুনি উপজেলা ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি হুমায়ুন কবির সুমনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাসেল ভালো ছেলে। তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। এ ধরনের অভিযুক্ত ব্যক্তি ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে এলে সংগঠনের ক্ষতি হবে কিনা জানতে চাইলে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রেজাউল ইসলাম রেজা জানান, নাশকতা মামলার আসামির পরিবারের সদস্য এবং মাদকসেবী বা মাদক মামলায় জড়িত কেউ ছাত্রলীগের নেতাকর্মী হতে পারবে না।

আরো সংবাদ