সারিয়াকান্দিতে বোরোর বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত চাষিরা

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি : সারিয়াকান্দির বোরো চাষিবরা এবার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বোরো চাীিদের ভিড়ে বীজ ব্যবসায়ীদের দোকান এখন মুখরিত। উপজেলা কৃষি অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বোরো ও চলতি আমন মৌসুমে প্রতিকূল আবহাওয়া এবং বন্যার কারণে চাষিদের ব্যাপক ক্ষতির কারণে আসন্ন ইরি-বোরো মৌসুম বোরো ধান চাষের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছেন। এরই মধ্য চাষিরা বীজতলা তৈরিতে নেমেছেন। আগামীতে উপজেলা ১২ ইউনিয়ন ও একটি পৌর এলাকায় কমপক্ষে সাড়ে ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এজন্য বীজতলায় লাগবে কমপক্ষে ৫শ মেট্রিক টন ধান বীজ। এজন্য চাষিরা ২৫০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করবেন। গত ২ সপ্তাহ পূর্ব থেকে বীজতলা তৈরি কাজ শুরু করা হয়েছে।  এরই মধ্য প্রায় ২০০ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের বোরো ছাড়াও উচ্চ ফলন জাতের বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। সেই সব জমির কাঁদা পানির মধ্য পড়ে থাকা সোনালী ধান থেকে সবুজ কচি পাতা বেরুতে শুরু করেছে। আগামী সপ্তাহ দু’য়েকের মধ্যে  বাকী জমিতে বীজতলা তৈরির কাজ শেষ হবে। ৫০ ভাগ বীজ আসে কৃষকদের ঘর থেকে আর বাকী ৫০ ভাগ বীজ সংগ্রহ করা হয় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) সহ অন্যান্য বীজ কম্পানী থেকে। চাষিরা জানান, বীজের দাম এবার চড়া। গত বছর ৩৩ টাকা কেজি ধান বীজ বিক্রি হলেও এবার সরকারী প্রতিষ্ঠান বিএডিসি বাজারে সরবারহ  করা সেই বীজ ক্রয় করতে হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দরে।

ফুলবাড়ী মাঝবাড়ী গ্রামের চাষী মজিবর রহমান জানান, এবার ধানের দাম খুবই ভাল। সেই জন্য যতœ সহকারে প্রায় ১১ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করবেন। এরই মধ্য তিনি প্রায় বিঘা খানিক জমিতে বীজতলা তৈরি করেছেন।  ফুলবাড়ী হাটের বীজ বিক্রেতা শাহজাহান আলী বলেন, এবার একটু পূর্ব থেকেই চাষিরা বীজ ক্রয় করে বীজতলা তৈরী করছেন। কারণ প্রচন্ড শীতে কমল চারাগাছে কোন ক্ষতি না হয় সেই জন্যই শীতের পূর্বেই চারাগাছ তৈরি করছেন। তবে দাম বেশি হওয়ায় চাষীরা ঘরের বীজে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন এবার। এব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ শাহাদুজ্জামান বলেন, গত বোরো ফসলে  লেটব্লাইট, ব্লাষ্ট- খোলপঁচা রোগ দেখা দেওয়ায় ফলনে বিরুপ প্রভাব পড়ে।  সেই জন্য শোধন করে বীজ ফেলা হলে ওই সব বালাই থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। আমরা এখন সে পরামর্শ দিচ্ছি চাষীদের। বিএডিসি’র উপ-সহকারী পরিচালক গোলাম ছরোয়ার বলেন, ভালো বীজে ভালো ফলন বলেই আমরা কৃষকদের ন্যায্য মূল্যে চাহিদা মতো বীজ সরবরাহ করছি