সিটি কলেজ ছাত্রলীগের সেই আহত রাকিব অবশেষে মারা গেলেন!

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরে ছুরিতে আহত ছাত্রলীগ নেতা রাকিব হাসান (২৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আজ সোমবার সকালে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান।

নিহত রাকিব (ফাইল ফটো)

এঘটনার প্রতিবাদে এবং খুনিদের আটক ও বিচারের দাবিতে সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রলীগ ও এলাকাবাসী যশোর-নড়াইল সড়কের নীলগঞ্জ সেতুর কাছে অবরোধ করে রাখেন। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে একটা পর্যন্ত সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ থাকে। সেখানে রাস্তার ওপর টায়ার জ্বালিয়ে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিলও হয়। পরে পুলিশ কর্মকর্তাদের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
গত শুক্রবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে শহরের নীলগঞ্জ সেতুর পাশে রাকিব আক্রান্ত হন। তিনি ছাত্রলীগ সরকারি সিটি কলেজ শাখার যুগ্ম-সম্পাদক ও শহরের নীলগঞ্জ সাহাপাড়ার জাকির হোসেনের ছেলে।
আহতের মা মিঞ্জিরা বেগম ও মামা মন্টু মিয়া জানান, রাকিব হাসান যশোর সরকারি সিটি কলেজ থেকে মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়েছেন। নীলগঞ্জ ব্রিজের ওপর নসিমনের টোল আদায়কারী ওহিদুল, কালু ও সাগরের সঙ্গে তার বিরোধ ছিল। শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় শান্তি-শৃংঙ্খলা কমিটি এ নিয়ে শালিস-বৈঠকও করে। এরপর রাত সাড়ে সাতটার দিকে রাকিব যখন নীলগঞ্জ ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে ছিলেন, তখন ওহিদুল, কালু ও সাগর ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথা, পেট ও পায়ে এলোপাতাড়ি কোপায়। খবর পেয়ে রাকিবকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থা খুবই গুরুতর হওয়ায় ডাক্তাররা তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। খুলনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে তিনি মারা যান।
যশোর সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ইকবাল খন্দকার বলেন, ‘রাকিব আমার সংগঠনের নেতা ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের এখনই আটক করতে হবে। খুনিদের আটক ও বিচারের দাবিতে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত অবরোধ করে টায়ার জ্বালানো হচ্ছে। খুনিরা আটক না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ অব্যাহত থাকবে।’
জানতে চাইলে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রওশন ইকবাল শাহী বলেন, ‘রাকিব হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের অনতিবিলম্বে আটক এবং বিচার করা না হলে জেলা ছাত্রলীগ কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে। রাকিবের লাশ খুলনা থেকে যশোর আসার পথে রয়েছে। লাশ দাফন হওয়ার পর পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’
অবরোধ উঠে যাওয়ার পর কোতয়ালী থানার ওসি একেএম আজমল হুদা দুপুর দেড়টার দিকে বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন শান্ত। ছাত্রলীগ নেতা রাকিব হাসান হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আটকের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে রেখেছিল নেতাকর্মীরা। ১৫-২০ মিনিট অবরোধ ছিল। খবর শুনে আমি ঘটনাস্থলে এসেছি। আমার সাথে তাদের কথা হয়েছে। আমি তাদের আশ্বস্ত করেছি, খুনিদের অনতিবিলম্বে আটক করা হবে। এরপর তারা সড়ক অবরোধ তুলে নিয়েছে।’
এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী নীলগঞ্জ সেতুর কাছে যশোর-নড়াইল সড়ক অবরোধ করে। তারা সেখানে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। রাকিবের খুনিদের গ্রেফতার দাবিতে নানা স্লোগান দিতে থাকে। বিক্ষোভ চলাকালে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বহু মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন।