‘হেফাজতে মৃত্যু’ আইন সংশোধন চায় পুলিশ

সামরিক বাহিনীর আদলে মেডিকেল কোর গঠনের দাবি

নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন সংশোধনের প্রস্তাব করেছে পুলিশ বাহিনী। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। সোমবার পুলিশ সপ্তাহ-২০১৮ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে কল্যাণ প্যারেডে পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে এ প্রস্তাব তোলা হয়।

এর আগে ২০১৭ সালের পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধনের পর কল্যাণ প্যারেডে পুলিশের পক্ষ থেকে আইনটি বাতিলের দাবি তোলা হয়েছিল। তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেটি নাকচ করে দিয়েছিলেন। এমন বাস্তবতার পর আইনটি সংশোধনের জোরালো দাবি ওঠে। প্রধানমন্ত্রী এ দাবির বিষয়টি স্বরাষ্ট্র সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের খতিয়ে দেখার নির্দেশনা দিয়েছেন। রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে কল্যাণ প্যারেডে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ আইন পুলিশের অধিকার খর্ব করছে বলে অনেক দিন ধরেই বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।

কল্যাণ প্যারেডে উপস্থিত বিভিন্ন স্তরের পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে এসব তথ্য। তাদের কাছে থেকে আরও জানা গেছে, সামরিক বাহিনীর মতো পুলিশ বাহিনীতে আলাদা মেডিকেল কোর গঠন করারও দাবি জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী এ দাবির প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেছেন। বর্তমানে পুলিশ বাহিনীতে আলাদা কোনো মেডিকেল কোর নেই। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম রহমান কল্যাণ প্যারেডে এ দাবি তোলেন।

কল্যাণ প্যারেডে একজন নারী কনস্টেবল প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো পুলিশ সদস্য নিহত হলে তার পরিবারকে যেন রেশন ভাতা দেয়া বন্ধ না করা হয়। আর একজন এসআই বলেন, সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মোটরসাইকেলের প্রয়োজন পড়ে। মোটরসাইকেল কিনতে সহজ শর্তে ঋণের প্রয়োজনীতার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন তিনি।

কল্যাণ প্যারেডে একজন নারী কনস্টেবল, একজন এসআই, একজন পরিদর্শক এবং একজন সহকারী পুলিশ সুপার এবং একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন। এসব দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, শান্তি, স্থিতি ও দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনীর সদস্যরা সর্বদা নিয়োজিত থাকেন। ফৌজদারি কার্যবিধি ও প্রচলিত অন্যান্য আইন দায়িত্ব পালনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যকে ‘সেফ গার্ড’ প্রদান করে। অথচ নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন-২০১৩ পুলিশের অধিকার চরমভাবে ক্ষুণœ হচ্ছে। এ আইনের চরম অপব্যবহার হচ্ছে। নির্যাতনের অভিযোগ এনে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হচ্ছে। এ কারণে ২০১৭ সালের পুলিশ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আইনটি বাতিলের দাবি জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী এ দাবি নাকচ করে দেয়ার পর এবার কল্যাণ প্যারেডে আইনটি বাতিল না হলেও অন্তত সংশোধনের দাবি তোলেন বনানী থানার ওসি বিএম ফরমান আলী। এ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্র সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন।

পুলিশের হেফাজতে নির্যাতনের শিকার আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী ২০০৯ সালে জাতীয় সংসদে বেসরকারি বিল হিসেবে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) বিল উত্থাপন করেছিলেন। নির্যাতন ও অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক অথবা অমর্যাদাকর আচরণ অথবা শান্তির বিরুদ্ধে জাতিসংঘ সনদের কার্যকারিতার জন্য এ আইন করা হয়। ২০১৩ সালে আইন প্রণয়নের পর ২০১৫ সালে পুলিশের পক্ষ থেকে আইনের ১৪টি ধারা ও উপধারা সংশোধন চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। প্রস্তাবে আইনের সাতটি ধারা বিলুপ্ত করার কথা বলা হয়। পাশাপাশি একটি নতুন ধারা যুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছিল।