আজ - রবিবার, ২৩শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৭ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি, (বর্ষাকাল), সময় - দুপুর ২:৫৫

​মোহিথ নাথের এই মিশন, যশোর বুকে রক্তক্ষরণ।(রক্তক্ষরণ -১)

নাঈম সাব্বির (স্পেশাল করসপন্ডেন্ট,পলিটিক্স)

ধর্ষন ঘটনার শালিস করতে যেয়ে ১ লক্ষ টাকা দাবির প্রেক্ষিতে গনরোস এবং গণপিটুনির শিকার হন চুড়ামন কাঠির যুবলীগ নেতা মেহেদি হাসান রুনু। গনপপিটুনিকে সদর উপজেলার চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার গ্রুপের হামলা বলে প্রচার চালাচ্ছেন সদর উপজেলা আ’লীগ সভাপতি মহিথ কুমার নাথ।  সোমবার যুবলীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক মঈনুদ্দিন মিঠুকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষন এটা এক ব্যক্তির হাতে গড়া নাটক এমন তথ্যে অনুসন্ধানে মাঠে নামে খানজাহান আলী২৪ ডটকম,  আমাদের  অনুসন্ধান কখনো রাজনিতী কেন্দ্রীক নয়, কিন্তু ব্যক্তি অনুসন্ধানে কখনো কখনো রাজনিতীর দরজায় কড়া নাড়তে হয়।   অনুসন্ধানের দিকে হাঁটতে  হাঁটতে অনেকটা বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়েছিলো আমাদের। মুখ আর মুখোশের ভাজে কত প্রকার মানুষ থাকে তা হয়ত সংখ্যা বিহীন, তবে সৈয়দ ওয়ালিউল্ল্যার লালসালু উপন্যাসটি যুগে যুগে সত্য হয়ে আসছে এটা সবার জানা। বর্তমান যশোরের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের কারন অনুসন্ধানে মাঠে নেমে বেরিয়ে এলো মুখোশের আড়ালের সেই মুখ!

মোহিত কুমার নাথ, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি। রাজনৈতিক মতাদর্শে তিনি যশোর সদর ৩ আসনের সাংসদ নাবিল আহম্মেদের সমর্থক এবং গ্রুপটি নিয়ন্ত্রন করেন তিনি নিজে। তার আরেক জন সহোযোগী পুলিশের কাল তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ম্যানসেল।
মহিথ নাথ তার আন্ডারওয়ার্ল্ড এর কিছু ছেলেকে দিয়ে  মিঠুর উপর গুলি বর্ষন করান ৩০,০০০ টাকার বিনিময়ে। গুলিবর্ষন করে উক্ত সন্ত্রাসীরা ইছালী যুবলীগের এক নেতার আশ্রয়ে থেকে বিকালে মোহিথ নাথের সোনালী ব্যাংকের অফিসের পাশে তাদেরকে টাকা দিয়ে বলেন ডুব দিয়ে থাক।
একই দিন সন্ধ্যায় বসুন্দিয়া আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিলন পতিতা পল্লিতে সর্দারানির সাথে টাকা নিয়ে গন্ডগোলের কারনে ছুরিকাঘাত হন।অথচ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন ও মহিথ কুমার নাথ হাসপাতালে সাংবাদিকদের জানান চাকলাদার গ্রুপের সন্ত্রাসীরা তাকে মিছিলে আসার কারনে আহত করেছেন। সংবাদ সংগ্রহে নামলে কেঁচো খুড়তে সাপ বেরিয়ে আসে। বসুন্দিয়ায় মিলনের এলাকাবাসী জানান মিলন একজন বিবাহ পাগল এবং হীন মানষিকতার মানুষ, নারীদেহ ভোগে তার জুড়ি মেলা ভার। সে দুইটি বিবাহ ও করেছেন অথচ এলাকায় থাকেন না থাকেন শহরের ঝালায় পট্টি পতিতা পল্লিতে। এবার গন্তব্য সেই পতিতা পল্লিতে। জানতে চাইলে সর্দার রংগিলা জানান মিলন প্রত্যেকদিন এখানে এসে বিভিন্ন মেয়েদের সাথে ঝামেলা করে।  পলি নামের একটি মেয়েকে বিবাহের প্রস্তাব দেয় কিন্তু পলিকে ভালোবাসে শংকরপুরের একটি ছেলে(নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) সেই ঝামেলাতেই মিলন আক্রান্ত হয় জানান সর্দারান রংগিলা, তিনি আরও জানান মিলনের লিঙ্গ কর্তনের উদ্দশ্যে তাকে ছুরিকাঘাত করে সেই যুবক।
এই সাদা কালো ঘটনাগুলোকে মহিথ নাথ রং লাগিয়ে তা পরিবেশন করছে সংবাদ মাধ্যমে। কেউ কেউ দাবি করেছেন মহিথ নাথকে গ্রেফতার করলে যশোরে অনেক ঘটনার রহস্য বেরিয়ে আসবে। উল্লেখ্য মোহিথ নাথ এখনো দক্ষিনবঙ্গের আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রন করেন।  মহিথ নাথের হাতে অনেক বড় বড় কিলার আছে যারা খুব সহজে টাকার বিনিময়ে মানুষ খুন করতে পারে। যশোরের যে রক্তের হলি খেলা শুরু হয়ছে  এটা তারই দৃশ্যপট, বলছে স্থানীয়রা।
সম্প্রতি যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মনোয়ার হোসেন ইমন হত্যায় তাকে দায়ী করা হলে হটাৎ করেই যশোরে রক্তপাত শুরু হয়। ইমন হত্যাকান্ড রাজনৈতিক সহিংসতা পর্যভূসিত করতে এমনটি করতে পারেন মোহিত কুমার নাথ, যেহেতু ইমন শাহীন চাকলাদারের অনুসারী ছিলেন সে কারনেই তাকে বিব্রত করতে অপপ্রচার করছেন মোহিত নাথ।

চোখ রাখুন মোহিথ নাথের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও তার উদ্দেশ্য নিয়ে গঠিত অনুসন্ধানী ধারাবাহিক প্রতিবেদন  রক্তক্ষরণে…….. 

ইমন হত্যার নেপথ্যে এমপি নাবিল,মোহিত নাথ :: দাবী ছাত্রলীগের।

(চলবে)

আরো সংবাদ