আজ - বুধবার, ১০ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১২ই মহর্‌রম, ১৪৪৪ হিজরি, (বর্ষাকাল), সময় - রাত ২:৩৯

​শিক্ষকের বেদম মারপিটে ছাত্র হাসপাতালে! 

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি  : ঠাকুরগাঁওয়ের সদর উপজেলার গিলাবাড়ী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মারপিটে ৯ম শ্রেণীর স্কুল ছাত্র গুরুতর আহত হয়েছে। আহত ছাত্র বর্তমানে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আহত ছাত্রের নাম জয়নাল আবেদিন(১৬)। সে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের গিলাবাড়ী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ও গিলাবাড়ী এলাকার দজিবুদ্দিনের ছেলে। জয়নাল আবেদিন জানায়, শুক্রবার বিকেলে তারা স্কুল মাঠে একটি ফুটবল খেলার আয়োজন করে। খেলা শেষে রাতের বেলা ২০/২৫ জন বন্ধু ও বড় ভাই মিলে স্কুল মাঠে পিকনিক করে।এই ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক শাহাজান ই হাবিব, সম্প্রতি ১৬ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল সাড়ে নয়টায় স্কুল শুরুর আগেই অফিস পিয়ন জাহাঙ্গীরকে দিয়ে ছাত্র জয়নাল আবেদীনকে স্কুলে ডেকে আনে। স্কুলে আসার পরপরই তার উপর চলে এলোপাথাড়ারি বেতের আঘাত।এই অবস্থায় আহত স্কুলছাত্র বাড়িতে এসে কাতরাতে থাকে। টের পেয়ে তার বাবা দজিব উদ্দিন ও বড় ভাই দুলাল তাকে ১৬ সেপ্টেম্বর শনিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এদিকে আহত স্কুল ছাত্রের পিতা দজিব উদ্দিন অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক পূর্বের জের ধরে তার ছেলেকে এভাবে পিটিয়েছে। প্রধান শিক্ষক শাহজান ই হাবিব ইউপি চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায়, দজিব উদ্দিন ও একই এলাকার বুদারুর সাথে ০৭ শতক জমি নিয়ে বিরোধ ছিল।সেই বিরোধ চেয়ারম্যান শাহজাহান ই হাবিব মীমাংসা করে দেয়ার জন্য ০৭ লক্ষ টাকা দাবি করেন। কিন্তু দজিব উদ্দিন এত টাকা দিতে না পারায়, চেয়ারম্যান দিনের পর দিন তার লোকজন দিয়ে চুরি, জমি সংক্রান্ত মামলা, নারী নির্যাতন মামলা সহ সাতটি মামলা দিয়ে তাদের আসামী করে।এতে করে পরিবারটি মামলা চালাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। ইতিমধ্যে হারিয়েছে প্রায় ৭/৮ বিঘা জমি সহ হালের গরুগুলোও। দজিব উদ্দিনের দাবি শুধুমাত্র রাজনৈতিক বিরোধের জেরে চেয়ারম্যান শাহজাহান তাদের এই ক্ষতি করেছে এবং তারই জেরে ১৬ সেপ্টেম্বর শনিবার তার ছেলে জয়নাল আবেদীনকে স্কুলে বেধরক পিটিয়েছে। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন মোহাম্মদপুর ইউপি চেয়ারম্যান সোহাগ। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক ও সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহানই হাবিব এর কাছে জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে বলেন, জয়নাল আমার বিদ্যালয়ের ছাত্র হলেও সে এলাকার একজন ‘ডান্ডু’ সেবি এবং বিক্রেতা।সে এলাকার অল্পবয়সী ছেলেদের বিপথে ফেলে।তাছাড়া সে তার সহপাঠীদের নিয়ে স্কুলের বারান্দায় কাউকে অবহিত না করে রাতভর পিকনিক খেয়ে বিদ্যালয়টি অপরিচ্ছন্ন করে রাখে। এজন্য জয়নালকে মারপিট করে শাসন করা হয়েছে। তবে জমি সংক্রান্ত বিরোধের কথা অস্বীকার করেন তিনি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় এখন উত্তেজনা বিরাজ করছে।

আরো সংবাদ
যশোর জেলা
ফেসবুক পেজ
সর্বাধিক পঠিত