যশোরের চৌগাছায় দুটি বাস ভাংচুর করা হয়েছে। একই সাথে একটি বাসের চালককে ছুরিকাঘাত করা হলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় মল্লিকবাড়ী নামক স্থানে এই ঘটনা ঘটে বলে বাসমালিক ও শ্রমিকরা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয় বাসের শ্রমিকরা জানান, আজ বুধবার বিকাল সাড়ে ৩ টার দিকে চৌগাছা-যশোর বাসস্ট্যান্ডে চৌগাছা ফার্মেসির মালিক জাকির হোসেনের সাথে ইজিবাইক চালানোকে কেন্দ্র করে বাসচালক মাসুমের কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয়ই হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়লে উপস্থিত শ্রমিকরা তাদের থামিয়ে দেন।
শ্রমিকরা জানান, এই ঘটনার সূত্র ধরে সন্ধ্যায় যশোর থেকে ছেড়ে আসা রাজবাড়ি ব-১১-০০২০ ও যশোর ব-০২-০০০২ নম্বরধারী যাত্রবাহী বাস দুটি পর্যায়ক্রমে মল্লিকবাড়ী নামক স্থানে পৌঁছালে দুটি বাসের উপর হামলা চালানো হয়। একপর্যায় বাসের জানালা, দরজা ও সামনের গ্লাস ভাংচুর করা হয়। জামলতা গ্রামের জাকির হোসেনের নেতৃত্বে আলমগীর হোসেন লাঠি ও লোহার রড নিয়ে এই ভাংচুর চালায়। একপর্যায় তাদের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ স্থানীয় সন্ত্রাসীরা এই ভাংচুরে অংশ নেয় । বাসের ভাংচুর ঠেকাতে এগিয়ে আসলে বাসচালক মাসুমকে ছুরিকাঘাত করে তারা। আহত মাসুমকে স্থানীয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে।
বাসের মালিক রমজান ও আশারফ হোসেন আশা জানান, তাদের কমপক্ষে দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তারা জানান, ইজিবাইক চালানো নিয়ে সমস্যা হলে মালিকসমিতির নেতৃবৃন্দকে জানাতে পারে। তাই বলে বাস ভাংচুর করা আদৌ ঠিক হয়নি।
এ ব্যাপারে চৌগাছা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি জসিম উদ্দীন জানান, ইজিবাইক চালকদের সাথে দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন জানেন। তাদের দাবীর প্রেক্ষিতে মালিক পক্ষ প্রশাসনের সহযোগিতায় সিদ্ধান্ত নেন যে ইজিবাইক চালকরা নিমতলা ও সলুয়া পর্যন্ত তাদের ইজিবাইক চালাতে পারবে। এতে মালিক পক্ষ কোন বাঁধা দেবে না। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রায়শই ইজিবাইক চালকরা চুড়ামনকাটি পর্যন্ত ইজিবাইক চালাচ্ছে এটা ঠিক নয়। তিনি বলেন, যে ঘটনা ঘটেছে তা অনাকাংখিত। আমরা চাই সড়কে সহবস্থান বজায় থাকুক।
এ ব্যাপারে থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, এ ঘটনায় অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, নিয়ম মেনেই সড়কে চলাচল করতে হবে। যারা নিয়ম ভঙ্গ করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।