আজ - শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৯শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি, (গ্রীষ্মকাল), সময় - রাত ১:৩২

যশোর মনিরামপুর থানার ওসির বিরুদ্ধে মামলা।

মণিরামপুরে পাঁচাকড়ি গ্রামের গৃহবধূ নাওয়াল জামান বরিষা হত্যাকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আত্মহত্যা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার অভিযোগে ওসি মনিরুজ্জামান, এসআই আতিকুজ্জামান ও নিহতের শ্বশুর বাড়ির লোকজনসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে যশোর আদালতে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার যশোর সদরের ভায়না ফতেপুর গ্রামের বাসিন্দা ও নিহতের পিতা মাহমুদুজ্জামান বাদী হয়ে এ মামলা করেছেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শম্পা বসু অভিযোগটি গ্রহণ করে আদেশের জন্য রেখে দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী দেবাশীষ দাস।

আসামিরা হলো, নিহত নাওয়াল জামান ওরফে বরিষার স্বামী মণিরামপুরের পাঁচাকড়ি গ্রামের আরশীল কবীর, তার পিতা আজমত হোসেন, মা আসমা বেগম, একই গ্রামের মনিরুল ইসলাম ও স্ত্রী শিল্পি বেগম, এনায়েত মোল্লার স্ত্রী হাসিনা বেগম এবং উজ্জল আহম্মেদের স্ত্রী ইরানী ফারজানা।

মামলার অভিযোগে জানা গেছে, নাওয়ালকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেন কবীর। যা মেনে নেয়নি নাওয়ালের পরিবার। মেনে না নেয়ায় বিভিন্ন সময় নাওয়ালকে কবীরের পরিবার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকে। বিষয়টি মোবাইল ফোনের মাধ্যে পরিবারকে জানান নাওয়াল। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৩ টায় মাহামুদুজ্জামানের পরিবারকে জানানো হয় নাওয়াল গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। নাওয়ালের শ্বশুরবাড়ি যেয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্নসহ মুখ ও থুতনীতে জখমের চিহ্ন দেখা যায়। তার  গলায় কোন ফাসের দাগ ছিলোনা। এছাড়া আশপাশের লোকজনের কাছে শুনে অনুমান করেন নাওয়ালকে তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন মারপিট করে হত্যা করে পরে আত্মহত্যা বলে প্রচার করছে।

বিষয়টি বুঝতে পেরে পরদিন নিহত নাওয়ালের মা নওশাবা তানবীন পরদিন মেয়েকে হত্যার ঘটনায় মণিরামপুর থানায় একটি অভিযোগ দেন।

থানা কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত না করে আসামিদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে হত্যার পর্যাপ্ত তথ্য প্রমাণ থাকা সত্বেও হত্যা মামলা হিসেবে রুজু না করে  আত্মহত্যার প্ররোচণার মামলা রেকর্ড করেন। আত্মহত্যার প্ররোচণার মামলারটি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এসআই আতিকুজ্জামনকে।

এসআই আতিকুজ্জামান এর আগে আসামিদের এলাকায় নেহালপুর ক্যাম্প ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শুধুই তাই নয়, নাওয়ালকে যখন প্রেমের ফাঁদে ফেলে আসামিরা অপরহরণ করেছিল তখন এসআই আতিকুজ্জামান তাদের সহযোগিতা করেছিলেন। বর্তমানে সকল আসামিরা ময়না তদন্তের রিপোর্টকে হত্যার পরিবর্তে আত্মহত্যায় রুপান্তরিত করার প্রচেষ্টা করছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সাথে থানায় রেকর্ড হওয়া মামলাটি এএসপি পদমর্যাদার একজন পুলিশ কর্মকর্তা দিয়ে তদন্তের মাধ্যমে তদন্ত রিপোর্ট জমা দানের নির্দেশ দানের আবেদন জানানো হয়েছে।

আরো সংবাদ
যশোর জেলা
ফেসবুক পেজ
সর্বাধিক পঠিত
-->