আজ - রবিবার, ১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৩ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি, (শীতকাল), সময় - রাত ১২:৫১

আবেগঘন বিদায় সংবর্ধনায় সম্মানিত হলেন ‘ভালো ম্যাম’ আলেয়া খাতুন

“ভালো ম্যাম”—এই নামেই তাঁকে সবাই চিনতেন। রূপদিয়া শহীদ স্মৃতি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আলেয়া খাতুন শুধু একজন দায়িত্বশীল শিক্ষকই ছিলেন না, ছিলেন শিক্ষকতার আদর্শ প্রতিচ্ছবি। সহকর্মী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক—সবার মুখে মুখে ছিল এই একটি নাম: ‘ভালো ম্যাম’। তিনি ৪০ বছর এই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন।
তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটলো এক হৃদয়স্পর্শী বিদায় সংবর্ধনার মাধ্যমে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃহস্পতিবার আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি ছিল শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং আবেগের মেলবন্ধন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৃণাল চৌধুরী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা শিক্ষা অফিসার মাহ্ফুজুল হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র তথ্য অফিসার রেজাউল করিম, যশোর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম সাইফুল আলম, বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সেলিম রেজা, সদস্য ফয়সাল আজিজ, সাবেক প্রধান শিক্ষক জায়েদা বেগম, আলী আকবর, অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা আপতাব আহম্মেদ নান্নু, হাসান বুক ডিপোর পরিচালক জসিম উদ্দিন, সিনিয়র শিক্ষক সেলিনা খাতুন, হাচানুর রহমান শাকিল, আব্দুল গাফফার।
তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে আলেয়া খাতুনের শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান, তাঁর সততা, শৃঙ্খলাবোধ ও ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি মমত্ববোধের কথা। তাঁরা বলেন, “তিনি ছিলেন শিক্ষকতার আদর্শ প্রতিচ্ছবি। বিদ্যালয়ের প্রতি তাঁর ভালোবাসা, অধ্যবসায় ও ছাত্রীদের প্রতি দায়িত্ববোধ তাকে সকলের হৃদয়ে চিরস্থায়ী করে তুলেছে।”
অনুষ্ঠানজুড়ে শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চোখে ছিল কৃতজ্ঞতার শ্রদ্ধা ও বিদায়ের বেদনা। প্রাক্তন ও বর্তমান সহকর্মীরা স্মৃতিচারণায় তুলে ধরেন তাঁর মানবিক আচরণ, দায়িত্বশীলতা ও সহানুভূতির কথা। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও তাঁর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে শুভেচ্ছাবার্তা উপস্থাপন করে।
অনুষ্ঠানে মানপত্র পাঠ করেন সহকারী শিক্ষক দিবাকর রায় এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহকারী শিক্ষক শহিদুজ্জামান মিলন। তাঁদের প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে আবেগ ও সৌজন্যের এক অনন্য পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বিদায়ী শিক্ষিকার হাতে স্মারক ক্রেস্ট, উপহার ও ফুলেল শুভেচ্ছা তুলে দেওয়া হয়। এ সময় বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং তাঁর অবসরজীবনের জন্য সুস্থতা, শান্তি ও আনন্দময় সময় কামনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অভিভাবক প্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সকলেই একবাক্যে স্বীকার করেন— ‘ভালো ম্যাম’-এর অবদান কখনো ভুলে যাওয়ার নয়। তিনি শুধু একজন শিক্ষক নন, একজন প্রেরণা, একজন ভালো মানুষ।

আরো সংবাদ
যশোর জেলা
ফেসবুক পেজ
সর্বাধিক পঠিত
-->