আজ - বৃহস্পতিবার, ১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৮শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি, (গ্রীষ্মকাল), সময় - রাত ১২:১৮

যশোর চুড়ামনকাঠি ঝাউদিয়া বাজারে জিয়া স্টোরে পেট্রোল বিক্রয় হচ্ছে ২ শ টাকা লিটার

যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটির ঝাউদিয়া বাজারে জিয়াউর রহমান জিয়ার মুদি দোকানে বাড়তি দামে অকটেন-পেট্রোল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। যেখানে ফিলিং স্টেশনে ঠিকমতো তেল পাওয়ার সুযোগে মুদি দোকানি জিয়া প্রতি লিটার অকটেন পেট্রোল ২০০ টাকায় বিক্রি করছেন। স্থানীয় সাজিয়ালী ক্যাম্পের পুলিশ ওই দোকানিকে সতর্ক করলেও তিনি কর্ণপাত করছেন না। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দেয়ার পর থেকেই পাম্পে ঠিকমতো অকটেন পেট্রোল মিলছেন না। মোটরসাইকেল চালকরা ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকার তেল পাচ্ছেন। সংকটের এই মুহূর্তে ঝাউদিয়া বাজারের মুদি দোকানি জিয়া ‘ঝোপ বুঝে কোপ মারা’ শুরু করেছেন। তিনি অবৈধভাবে পেট্রোল-অকটেন বোতলে ভরে খোলা বাজারে বিক্রি করছেন ২০০ টাকা লিটারে। অনেকেই পাম্পে লাইনে না দাঁড়িয়ে তার কাছ থেকে বাড়তি দামে তেল কিনছেন। অভিযোগ উঠেছে, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এসব তেল জিয়ার মুদি দোকানে পৌঁছায়। এছাড়াও জিয়ার কয়েকটি মোটরসাইকেল রয়েছে। বিভিন্ন পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে তার লোকজন অকটেন পেট্রোল সংগ্রহ করছেন। পরে ওই তেল বোতলে ভরে বেশি দামে বিক্রি করছেন জিয়া। ঝাউদিয়া, চান্দুটিয়া, নলডাঙ্গা এলাকার অনেকেই তার কাছ থেকে ২০০ টাকা লিটারে তেল কিনছেন। চান্দুটিয়া গ্রামের দুইজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বৃহস্পতিবার তিনি জিয়ার দোকান থেকে ৪০০ টাকায় দুই লিটার পেট্রোল কিনেছেন। একই গ্রামের সাইফুল ইসলাম নামে এক মোটরসাইকেল চালক জানান, জিয়ার মুদি দোকান থেকে এক লিটার পেট্রোল ২০০ টাকায় কিনেছেন। আড়ুয়া দৌগাছিয়া গ্রামের এক মোটরসাইকেল চালক জানান, তেল সংকট শুরু হওয়ার পর থেকেই জিয়া ২০০ টাকা লিটারে অকটেন পেট্রোল বিক্রি করে আসছেন। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পাচ্ছে না। ভুক্তভোগীরা বাধ্য হয়ে ২০০ টাকা লিটার দরে তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছে। ঝাউদিয়া বাজারের এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, স্থানীয় সাজিয়ালী ক্যাম্পের পুলিশ সদস্যরা গত শনিবার জিয়ার মুদি দোকানে এসেছিলেন। তারা বেশি দামে অকটেন পেট্রোল বিক্রির সত্যতা পান। পুলিশ জিয়া ও তার ছেলে শাকিল হোসেনকে বেশি দামে অকটেন-পেট্রোল বিক্রি না করতে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু জিয়া কর্নপাত না করে ২০০ টাকা লিটারে অকটেন-পেট্রোল অবাধে বিক্রি করে যাচ্ছে। এই বিষয়ে মুদি দোকানি জিয়া মুঠোফোনে জানান, সংকটের কারণে পাম্প থেকে ঠিকমতো অকটেন-পেট্রোল পাওয়া পাচ্ছে না। ২০০ টাকা লিটারে বিক্রির অভিযোগটি সঠিক না। তাকে হয়রানি করার জন্য মিথ্যা অভিযোগ রটানো হচ্ছে। চুড়ামনকাটির সাজিয়ালী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই আব্দুর রউফ জানান- জিয়ার মুদি দোকানে ২০০ টাকা লিটার অকটেন-পেট্রোল বিক্রির তথ্য জানার পর এএসআই শফিকের নেতৃত্বে একটি টিম সেখানে যায়। এসময় তার দোকানে দুই লিটার পেট্রোল পাওয়া যায়। সামান্য বেশি দামে তেল বিক্রির কথা স্বীকার করে জিয়ার ছেলে শাকিল। বেশি দামে তেল বিক্রি না করার জন্য তাদের পিতা-পুত্রকে সতর্ক করা হয়েছিল। তার মুদি দোকানের দিকে নজরদারি রাখা হবে।

আরো সংবাদ
যশোর জেলা
ফেসবুক পেজ
সর্বাধিক পঠিত
-->