আজ - মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৬শে রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি, (শরৎকাল), সময় - রাত ৮:১৬

চুয়াডাঙ্গা রেল স্টেশনে পকেট মারের পকেটে মিললো আই ফোন সহ ৩ টি দামি মোবাইল।

 

চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ ও জনাকীর্ণ রেলস্টেশন এলাকায় চুরির ও পকেটমার চক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে এক পেশাদার পকেটমারকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ। চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের বিশেষ ও সার্বিক দিকনির্দেশনায় আজ শুক্রবার (২২ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্থানীয় সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সহায়তায় এই সফল অভিযানটি পরিচালিত হয়। সদর থানাধীন আরামপাড়া গ্রাম সংলগ্ন গমপট্টি এলাকা থেকে ধৃত আসামিকে অবরুদ্ধ করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত যুবকের নাম ফারুক হোসেন (৩৪)। তিনি জামালপুর জেলার ইসলামপুর থানার কাছিমা মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বাচ্চু মিয়ার পুত্র বলে জানা গেছে। ঈদকে সামনে রেখে রেলস্টেশন ও আশপাশের জনবহুল এলাকায় পকেটমার ও ছিনতাইকারী চক্রের দৌরাত্ম্য রুখতে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের এই ঝটিকা অ্যাকশন সর্বস্তরের মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।

পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল থেকেই চুয়াডাঙ্গা রেলস্টেশন ও তার আশপাশের এলাকায় সদর থানার একটি চৌকস দল বিশেষ ছদ্মবেশে টহল দিচ্ছিলেন। চুয়াডাঙ্গা সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শরিফুজ্জামানের নেতৃত্বে সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রমেন কুমার সরকার, এএসআই রনজু আহম্মেদ এবং সঙ্গীয় ফোর্সের সমন্বয়ে গঠিত আভিযানিক দলটি গমপট্টি এলাকায় ফারুকের সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করেন। এ সময় স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের সহায়তায় চারপাশ থেকে অবরুদ্ধ করে তাঁকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে উপস্থিত সাধারণ জনগণের সামনে ধৃত ফারুক হোসেনের দেহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তল্লাশি করে একটি অত্যন্ত দামি আইফোন-১৪ মডেলের আইফোনসহ মোট ৩টি বিভিন্ন ব্রান্ডের নামী-দামী ও বিলাসবহুল স্মার্টফোন এবং পকেট কেটে হাতিয়ে নেওয়া নগদ ৩০ হাজার টাকা উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে যে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত ফারুক হোসেন পেশাদার পকেটমার চক্রের সাথে তার দীর্ঘদিনের সক্রিয় সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। প্রাক-ঈদের এই সময়ে ট্রেন যাত্রী ও সাধারণ পথচারীদের অসাবধানতার সুযোগ নিয়ে সুকৌশলে মোবাইল ও টাকা হাতিয়ে নেওয়াই ছিল এই চক্রের মূল কাজ। এই অপরাধমূলক ও দণ্ডনীয় ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেপ্তারকৃত আসামি ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি নিয়মিত ফৌজদারি মামলা রুজু করা হয়েছে এবং আজ দুপুরের পর সমস্ত আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাঁকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা শহরকে সম্পূর্ণ অপরাধমুক্ত রাখতে এবং এই চোর ও পকেটমার সিন্ডিকেটের মূল উপড়ে ফেলতে নেপথ্যে থাকা চক্রের অন্য সক্রিয় সদস্যদের সুনির্দিষ্টভাবে সনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশের বিশেষ আভিযানিক কার্যক্রম ও নজরদারি বর্তমানে জোরদার রাখা হয়েছে।

 

 


 

আরো সংবাদ
যশোর জেলা
ফেসবুক পেজ
সর্বাধিক পঠিত
-->