আজ - রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১২ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি, (বর্ষাকাল), সময় - দুপুর ১:৪৮

যশোর স্বেচ্ছাসেবক দলের সমাবেশে গণ মানুষের ঢল।

আজ যারা হুমকি দিচ্ছেন, তাদের পরিষ্কার জানিয়ে দিতে চাই জাতীয়তাবাদী দল কোনো হুমকিতে ভয় পায় না। আমাদের হুমকি দিয়ে লাভ নেই, কারণ আমরা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে জানি। তিনি বলেন, বিরোধী দলে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোকে আহ্বান জানাব , ধ্বংসাত্মক পথ ছেড়ে গঠনমূলক রাজনীতিতে যুক্ত হন। এই রাষ্ট্রকে আমরা নতুন করে গড়ে তুলব, পরিবর্তন আনব। তবে মনে রাখতে হবে, আমাদের কাছে এমন কোনো ‘আলাদিনের চেরাগ’ নেই যা ঘষে দিলেই রাতারাতি সবকিছু বদলে যাবে। গণহত্যার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে যশোর শহরের চৌরাস্তা মোড়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত গণসমাবেশে প্রধান অতিথি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের জঞ্জাল পরিষ্কার করতে কিছুটা সময় তো লাগবেই। স্বৈরাচারী শাসকমহল এবং গণহত্যার পেছনে জড়িতদের বিচার অবশ্যই হতে হবে। তবে এই সরকার কোনো ‘ধর তক্তা মার পেরেক’ নীতিতে বিশ্বাসী নয়। আইনি ও সাংবিধানিক নিয়ম মেনেই স্বচ্ছ বিচার হবে, যেন আন্তর্জাতিকভাবে বা ভবিষ্যতে সেই বিচার নিয়ে কোনো প্রশ্ন না ওঠে। দেশ আজ সুশৃঙ্খল পথে এগোচ্ছে। আমরা জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করব এবং একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করব। শনিবার বিকেলে চৌরাস্তা মোড়ে আয়োজিত এ সমাবেশে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় নেতারা অংশ নেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক  ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী এমপি।

প্রধান বক্তা কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী এমপি বলেন, শেখের বেটি পালায় না—এই উক্তি থাকলেও আজ বাস্তবতা সবার জানা, কিন্তু দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কখনো পালিয়ে যাননি। তিনি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, মরতে হলে দেশের মাটিতেই মরবো এবং তিনি শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত দেশের মাটিতেই অবস্থান করেছেন। তিনি বলেন, আজ একটি বিরোধী দল কখন কী বলে, তা বোধগম্য নয়। তাদের সংসদের ভেতরে এক কথা, আর বাইরে আরেক কথা। তারা অভিযোগ করে, বিএনপি নাকি সংস্কার চায় না। তিনি আরও বলেন, তাদের মুখে ছিল সংস্কারের কথা, কিন্তু অন্তরে ছিল শুধুই নির্বাচনের ক্ষুধা। পিআর নির্বাচনের দাবি তুলে তারা পদে পদে বাধা সৃষ্টি করেছে। মুখে যা-ই বলুক না কেন, তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল যেকোনোভাবে একটি নির্বাচন হাতিয়ে নেওয়া। এখন আবার তারা দাবি করছে বিএনপি নাকি ‘জুলাই সনদ’ মানছে না। এটাও কেবল তাদের মুখের কথা, তাদের অন্তরে আসলে কী লুকিয়ে আছে, তা কেবল তারাই ভালো জানেন। তিনি বলেন, একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে আজ তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়েছে। দেশনায়ক তারেক রহমান হিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না, তিনি সুস্থ ও ইতিবাচক রাজনীতির ধারক। সবশেষে বলেন, তারেক রহমানের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখুন এবং ঐক্যবদ্ধভাবে অমিতের হাতকে শক্তিশালী করুন । কারণ অমিতের হাত শক্তিশালী হওয়া মানেই তারেক রহমানের হাত শক্তিশালী হওয়া। একটি বৈষম্যহীন ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সবাইকে রাজপথে ঐক্যবদ্ধ থাকার উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ অতিথি  অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিতে পারা এবং অবশেষে শেখ হাসিনার পতন প্রত্যক্ষ করা আমাদের মতো ভাগ্যবানেরাই পেরেছে। দেশবাসী ১৮ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত আকাঙ্ক্ষাগুলো এই সরকারের হাত ধরে বাস্তবায়িত দেখতে চায়। জননেতা তারেক রহমানকে দেশবাসী প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছেন এবং তিনি দেশ গঠনে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তার এই প্রচেষ্টা প্রতিটি ঘরে সুখের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য। যশোরে ৬৮ জন বীর যোদ্ধাসহ যারা দেশের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। আমাদের সহযোদ্ধাদের হত্যার বিচার পেতে হলে আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থান এবং ছাত্র আন্দোলনে যশোরের বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ভূমিকা অতুলনীয়। তারা নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও রাজপথে ছিলেন। আমরা তখন বলেছিলাম, যেদিন মানুষ আপনাকে ধিক্কার জানাবে সেদিন পালাবার সুযোগও পাবেন না। পুরো দেশবাসী তার বাস্তব প্রমাণ দেখেছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে টিকিয়ে রাখতে হলে তারেক রহমানকে সফল করার বিকল্প নেই। তারেক রহমান সফল হলেই নতুন প্রজন্ম আলোর পথ দেখাতে পারবে।  তিনি বলেন, জনগণ আমাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা পালনের সুযোগ দিন।  আমরা যদি ব্যর্থ হই, তাহলে বাংলাদেশের জনগণ অবশ্যই সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে । বিএনপি জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে সবগুলো পদক্ষেপই বাস্তবায়ন করা হবে। কিন্তু একটি বিরোধী দল অপেক্ষা করতে চাইছে না।

জেলা আহবায়ক মোস্তফা আমির ফয়সাল বলেন, জামায়াতের কর্মীরা জান্নাতের টিকিট দেয়ার নাম করে আবাসিক হোটেলে নিয়ে যাচ্ছেন। যা সাধারণ মানুষ মেনে নেবেনা। তিনি আরও বলেন, হাসিনাসহ তার সকল সহযোগী ও নিপীড়নকারীদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করতে হবে।

বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াসিন আলী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনছারুল হক রানা, জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক কামরুজ্জামান বাপ্পীসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সদস্য সচিব রাজিদুর রহমান সাগর।

উল্লেখ্য,  যশোর শহরের প্রাণকেন্দ্র চৌরাস্তা মোড়ে  স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করেই সমাবেশে জেলার বিভিন্ন উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন থেকে মিছিল নিয়ে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। তারা মিছিল নিয়ে সমাবেশ স্থলে আসেন। শহরজেুড়ে শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে। সন্ধায় শান্তিপূর্নভাবে এ গণ সমাবেশ শেষ হয়।

আরো সংবাদ
যশোর জেলা
ফেসবুক পেজ
সর্বাধিক পঠিত
-->