আজ - রবিবার, ১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৩ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি, (শীতকাল), সময় - রাত ১২:৫৯

রোগী সেজে যশোর মনিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুদকের অভিযান।

মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত খাবারের ব্যাপক অনিয়ম পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। হাসপাতালে আগত রোগীদের দেয়া হচ্ছে নিম্নমানের খাবার। এছাড়া মূল্য কারচুপির অভিযোগও রয়েছে। রোববার  দুপুরে হাসপাতালে অভিযান চলাকালে এসব অনিয়মের তথ্য পায় দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় যশোর শাখা।

জানা গেছে, সকালের নাস্তায় বরাদ্দের অর্ধেকেরও কম পাউরুটি দেয়া হয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের। পর্যাপ্ত স্যালাইন মজুদ থাকলেও বাইরে থেকে কিনতে হয় রোগীদের। মানসম্মত মশুরি ডাল ( চিকন ১শ’ ৪০ টাকা কেজি দরে) সরবরাহের কথা থাকলেও দেয়া মোটা দানার (৮০ টাকা কেজি দর) মশুরি ডাল, মাছও দেয়া হয় বরাদ্দের অর্ধেক, খাওয়ার অনুপযোগী নিম্নমানের চাল ও লবণ খাওয়ানো হয় রোগীদের। আর ওয়াস রুমের চিত্রটি বর্ণনাতীত। রোগীদের পরীক্ষা-নীরিক্ষার জন্য যোগসাজসে বাইরে পাঠানো হয়।

এসব নানা অভিযোগ উঠেছে যশোরের মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাবার সরবরাহকারী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। জরুরি বিভাগে ডিগ্রীধারি চিকিৎসকের দেখা পাওয়া যায়নি। মাসুদুর রহমান স্যাকমো (উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার) দিয়ে চলছে চিকিৎসা সেবা। আউট সোর্সিং-এ নিয়োজিত হাবিবুল্লাহ বিলাহীর দিয়ে রোগীদের কাটা সেলাইয়ের কাজ করানোর অভিযোগ উঠেছে।

দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় উপসহকারী পরিচালক চিরঞ্জীব নিয়োগী বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তিন সদস্যের একটি টিম ছদ্মবেশে সকাল থেকেই অভিযান চালানো হয়। প্রথমে রোগী সেজে খুলনা যাওয়ার কথা বলে মোবাইল করা হয় অ্যাম্বুলেন্স চালক এখলাসের কাছে। তিনি রোগী বহনের সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করেই নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন। তাকে সরকারি নিয়মের কথা বললে অ্যাম্বুলেন্স চালক সাফ জানিয়ে দেয়, ‘ওসব সরকারি নিয়ম এখানে চলে না’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, দৈব চয়নের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও’র (আবাসিক মেডিকেল অফিসার) উপস্থিতিতে রোগীদের জন্য কড়াইতে রান্নার কয়েকটি মাছের টুকরো পরিমাপ করা হয়। রোগীদের ১শ’ ১৮ গ্রাম মাছের টুকরো বরাদ্দ থাকলেও পাওয়া গেছে ৬০ থেকে ৮০ গ্রাম। পাউরুটি ১শ’৫২ গ্রাম বরাদ্দের বিপরীতে দেওয়া হয় মাত্র ৫৬ গ্রাম।

রোগীদের পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য বাইরের ল্যাবে পাঠানো হয়। রোগী বাইরে নেয়ার জন্য নয়ন হোসেন নামের এক দালালকে আটক করা হয়। তিনি নিজেকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন একটি ডায়াগনস্টিকের ম্যানেজার বলে দাবি করেন।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন দুদকের ডিএডি তৌহিদুল ইসলাম ও এএসআই রমেচা খাতুন।

খাদ্য সরবরাহকারী ঠিকাদার ইসমাইল হোসেন জানান, ১২ বছর আগের মূল্য তালিকা অনুযায়ি খাবার সরবরাহ চলমান রয়েছে। যে কারণে খাবারের মান ঠিক রাখা যাচ্ছে না। মামলার ভয়ে খাবার সরবরাহ থেকে ছেড়ে আসতে পারছেন না বলে দাবি করেন তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফয়েজ আহমদ ফয়সাল বলেন, বিষয়গুলো আমলে নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আটকের ব্যাপারে মুচলেকায় ছেড়ে দিয়েছেন বলে তিনি জানান।

যশোর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা জানান, তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরো সংবাদ
যশোর জেলা
ফেসবুক পেজ
সর্বাধিক পঠিত
-->