আজ - মঙ্গলবার, ৩১শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৯ই রজব, ১৪৪৪ হিজরি, (শীতকাল), সময় - রাত ২:৪৮

নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সংলাপে বসার আল্টিমেটাম

স্টাফ রিপোর্টার  : দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপের মাধ্যমে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া। অন্যথায় দাবি আদায়ে আগামী ১ অক্টোবর থেকে সারাদেশে সভা-সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে তারা। একইসঙ্গে দাবি আদায়ে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের কমিটি গঠন করে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধভাবে নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ গণজাগরণের কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে দেশবাসীর প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চের কাজী বশিরউদ্দিন মিলনায়তনে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নাগরিক সমাবেশের ঘোষণাপত্রে এই কথা বলা হয়। তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এই ঘোষণা দেন। এদিকে, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার এই নাগরিক সমাবেশের মধ্য দিয়ে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গঠনের প্রক্রিয়া একধাপ এগিয়ে গেল বলে দাবি বিএনপির। সমাবেশে যোগ দিয়ে দলটির নেতারা এই দাবি করেন। তবে যারা স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ছিল এবং আছে- তাদের সঙ্গে কোনো ঐক্য করবেন না বলে ঘোষণা দেন যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী।   নাগরিক সমাবেশের ঘোষণাপত্রে শেখ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, আমরা এই নাগরিক সমাবেশ থেকে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি যে- সরকার আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। একইসঙ্গে তফসিল ঘোষণার পূর্বে বর্তমান সংসদ ভেঙে দেবেন। এই ঘোষণাপত্রে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে- এই গণদাবি আদায়ের লক্ষ্যে প্রতিটি জেলা, উপজেলায়, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে মুক্তিসংগ্রামের চেতনায় বিশ্বাসী সকল রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি, শ্রেণি-পেশা ও নাগরিক সমাজের সমন্বয়ে ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য’র কমিটি গঠন করুন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধভাবে নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ গণজাগরণের কর্মসূচি অব্যাহত রাখুন। আগামী ১ অক্টোবর থেকে জাতীয় নেতৃবৃন্দ দেশব্যাপী সভা-সমাবেশে যোগ     দেবেন বলেও সমাবেশ থেকে ঘোষণা করা হয়। ঘোষণাপত্রে আরো বলা হয়, জনগণের সার্বিক মুক্তির লক্ষ্যে আজ আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। আমাদের জাতীয় ঐক্যের লক্ষ্য হবে-শুধুমাত্র একটি দল বা জোটকে ক্ষমতাচ্যুত করে, অপর একটি দল বা জোটকে ক্ষমতাসীন করা নয়। আমাদের জাতীয় ঐক্যের মূল উদ্দেশ্য হবে-সংবিধান অনুযায়ী সকলের জন্য সুযোগের সমতা, কল্যাণমুখী অর্থনীতি এবং জনগণের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রের আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগের যুগোপযোগী সংস্কার করা।

বিকেল তিনটার কিছু আগে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন নাট্যমঞ্চের সমাবেশস্থলে আসেন। তার আগেই গণফোরামের নেতা-কর্মীরা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন। বিকেল সোয়া তিনটার দিকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দলটির স্থায়ী কমিটির আরও তিন সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ ও আবদুল মঈন খান সমাবেশ উপস্থিত হন। এ সময় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও সেখানে এসে উপস্থিত হন। পরে সমাবেশের প্রধান অতিথি যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী উপস্থিত হন। তিনি বলেন, আমরা-যুক্তফ্রন্ট-স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি সবাই ঐক্য চাই। আমরা মুক্ত গণতন্ত্র চাই। এই সরকারের পতন চাই। সকল রাজবন্দির মুক্তি চাই। বি. চৌধুরী বলেন, ভবিষ্যতে একটি স্বেচ্ছাচারী গণতন্ত্র বিরোধী আরো একটি অনুরূপ সরকার আসবে- তা বন্ধ করতে হবে। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের কোনো সরকার না আসে, সেজন্য রক্ষাকবজ তৈরি করতে হবে। রক্ষাকবজ অর্থাৎ ক্ষমতার ভারসাম্যের কথা বলেছি। পিছু হটা যাবে না। আমরা চাই-অপশাসন দূর হয়ে যাক, গণতন্ত্র ফিরে আসুক। এ সময় সরকারকে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়ার আহ্বান জানিয়ে সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, গণতন্ত্রকামী সকল শক্তির প্রতি আহবান- এখন রুখে দাঁড়ানোর সময়, প্রতিবাদ-প্রতিরোধ গড়ার সময়। রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ করতে সরকারের অনুমতি না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান বলেন, আমরা সভা-সমাবেশ করব। আপনাদের অনুমতির আর তোয়াক্কা করব না। জনগণের অনুমতি নিয়ে সমাবেশ করব। সভাপতির বক্তব্যে ড. কামাল হোসেন বলেন, আমরা জনগণের ভোটাধিকারসহ মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার ও সাংবিধানিক অধিকারসমূহ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কার্যকর গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। জনগণ এতে ব্যাপক সাড়া দিয়েছে। মৌলিক বিষয়ে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।

এখন সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করার সময় এসেছে। আমি বিশ্বাস করি-আমাদের প্রচেষ্টা সফল হবে ইনশাল্লাহ। তিনি বলেন, আপনারা নিজ নিজ এলাকায় ফিরে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলুন, মুক্তির বার্তা নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ান, জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করুন। আমি দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই, অতীতে জনগণের বিজয়কে কেউ ঠেকাতে পারে নাই, ভবিষ্যতেও পারবে না ইনশাল্লাহ। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশে এখন যে দুঃশাসন চলছে-এই দুঃশাসন আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এর স্বপ্নকে ভেঙে খান খান করে দিয়েছে। আমাদের আশা-আকাক্সক্ষাগুলোকে ধুলিসাৎ করে দিয়েছে। জেলখানা থেকে আমাদের কাছে আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া খবর পাঠিয়েছেন- যেকোনো মূল্যে জাতীয় ঐক্য তৈরি করে এই দুঃশাসন থেকে দেশকে মুক্ত করতে হবে। আমার (বেগম জিয়া) কী হবে না হবে- সেটা ভাবার দরকার নেই। এই জগদ্দল পাথরকে সরাতে হবে। এ সময়ে নেতা-কর্মীরা ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই’ বলে স্লোগান দেয়। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আসুন আমরা ন্যূনতম কর্মসূচির ভিত্তিতে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দাবি-দাওয়া আদায়ে একটা আন্দোলন শুরু করি। সেই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দিকে মুক্তি দিতে এবং অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দিতে এই সরকারকে বাধ্য করতে হবে। এ জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জাতীয় ঐক্যের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য ড. কামাল হোসেনকে ধন্যবাদ জানিয়ে ফখরুল বলেন, আজকের এই সভার মধ্য দিয়ে বৃহত্তর ঐক্যের পথে আমরা ইতোমধ্যে একধাপ এগিয়ে গেছি। আশা করব, তাদের (বি. চৌধুরী-ড. কামাল) নেতৃত্বে অতি দ্রুত সেই ঐক্যকে অর্জন করে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারব। বিকেল তিনটায় নাগরিক সমাবেশ শুরুর আগেই গোটা মিলনায়তনে নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে পূর্ণ হয়ে যায়।

ফলে পুরো নাগরিক সমাবেশ একটি জনসভায় রূপ নেয়। মিলনায়তনের বাইরে লোকজন যাতে বক্তব্য শুনতে পারে সেজন্য পুরো প্রাঙ্গণে মাইক টাঙ্গানো হয়। ‘এক দাবি এক লক্ষ্য, দেশের স্বার্থে জাতীয় ঐক্য’, ‘নবীন-প্রবীণ আয়রে ভাই, দেশ বাঁচাতে ঐক্য চাই’, ‘একাত্তরের চেতনা, জাতীয় ঐক্য আরেক বার’, ‘নব্বইয়ের আকাক্সক্ষা জাতীয় ঐক্য আরেকবার’  ইত্যাদি স্লোগান ও মুহুর্মুহু করতালিতে মিলনায়তন ছিল সরব। সমাবেশের পূর্বাহ্নে উদীচীর শিল্পী সুরাইয়া পারভিন ও মায়শা সুলতানার কন্ঠে ‘আমাদের ন্যায্য অধিকার যত, আমাদের ফিরিয়ে দাও’- শীর্ষক গণসঙ্গীত পরিবেশিত হয়। নাগরিক সমাবেশে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি  আসম আবদুর রব বলেন, দেশটা গুম, খুন ও বেওয়ারিশ লাশের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। আজকে খনিতে কয়লা নেই, ব্যাংকে টাকা নেই। দেশটা লুটের মালে পরিণত হয়েছে। এটা থেকে আমাদের মুক্তি পেতে হবে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রকে নৈতিকভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে। এ জন্য আমরা মুক্তিযুদ্ধ করিনি। এ থেকে উত্তরণে এখন জাতীয় ঐক্য দরকার, নির্দলীয় সরকার দরকার। সরকারকে বলছি-কোনো রাজবন্দিকে কারাগারে রাখতে পারবেন না। সবাইকে মুক্তি দিতে হবে। এই মুহূর্তে দরকার জাতীয় ঐক্যের সরকার। অবশ্যই আপনাদের পদত্যাগ করতে হবে। নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ওই লুটেরা ভোট চোরদের বাদ দিয়ে বাকি যত মানুষ আছেন আমরা সকলে মিলে এক বাক্যে আওয়াজ তুলছি- আমরা স্বচ্ছ নির্বাচন চাই। সেই নির্বাচন দিতে হবে। এ জন্য আমাদের যুক্তফ্রন্ট কর্মসূচি দিয়েছি। আমরা এবং ড. কামাল হোসেনের জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া মিলে ৫ দফা দাবি এবং ৯ দফা লক্ষ্য ঘোষণা করেছি। যার মধ্যে আপনাদের দাবি আছে। তিনি বলেন, এখানে বিএনপির নেতারা আছেন। আমি দেখেছি শেষপর্যন্ত তারা ১৫ দফা দাবির কথা বলেছেন, যেটা আমাদের দাবির সাথে প্রায় মিলে যায়।

তাই এই ঐক্য তো হয়েই গেছে। লাখো কোটি জনতা এই ঐক্য চায়। কারো ক্ষমতা নাই এই ঐক্য, এই ঐক্যের শক্তি, এই বিজয়কে রুখতে পারে। মান্না বলেন, আমরা সরকারকে বলছি- ধান্ধাবাজি ছাড়েন। আপনারা (সরকার) বলছেন- একটা নির্বাচনকালীন সরকার করবেন, যাতে কেবলমাত্র সংসদে যারা প্রতিনিধিত্ব করেন তারা থাকবেন। আমরা পরিষ্কার ঘোষণা করতে চাই-ওই শং মার্কা সংসদ দিয়ে কোনো সরকার গঠিত হবে না। যারা নির্বাচনকালীন সরকারে আসবেন আমাদের দাবি তারা কোনো নির্বাচন করতে পারবেন না। একসাথে দুইটা সংসদ চলবে না, এটা (বর্তমান সংসদ) বাতিল করতে হবে, নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে এবং নির্বাচনের সময়ে বিচারিক ক্ষমতা দিয়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। না দিলে তার জন্য ঢাকাসহ সারাদেশ (জনসমাগম ঘটিয়ে) সয়লাব করে দিতে হবে। নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি মানুষ ঘরে ছিল। আমরা যাই কিছু চেষ্টা করেছি মানুষ রাস্তায় নামেনি। আর এবার যখন নির্বাচন হবে তখন ঘরের মানুষ রাস্তায় আসবে, দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে যাবে- সেই কাজ করতে হবে। সেজন্য এই বৃহত্তর ঐক্যের আহবান। মান্না বলেন, আমরা কর্মসূচি দিয়েছি। উনাদের (বিএনপি) কর্মসূচি আমরা দেখিছি। এই কর্মসূচি মিলে আমরা যৌথভাবে সারাদেশের মানুষের সামনে আসবো। দেশের মানুষের কাছে আমাদের একটাই বক্তব্য- ভোটের অধিকার, মৌলিক অধিকার, নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবার জন্য আমরা এক হয়েছি। ‘কার্যকর গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলুন’-শীর্ষক এই নাগরিক সমাবেশ পরিচালনা করেন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আ ব ম মোস্তফা আমীন।

সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, আব্দুল মঈন খান, বিকল্পধারার মহাসচিব আবদুল মান্নান, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক  জুনায়েদ সাকী, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মো. মনসুর, শিক্ষাবিদ মোমেনা খাতুন প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। এতে উপস্থিত ছিলেন-বিএনপির নিতাই রায় চৌধুরী, জেএসডির আবদুল মালেক রহমান, বিকল্পধারার মাহী বি চৌধুরী, ওমর ফারুক, ২০ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় পার্টির (জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, আহসান হাবিব লিংকন, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, খেলাফত মজলিসের আহমদ আবদুল কাদের, মাওলানা মজিবুর রহমান, এনপিপির ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, জাগপার খন্দকার লুৎফর রহমান, আসাদুর রহমান খান, জমিয়তের মাওলানা নুর হোসেইন কাশেমী, আবদুর রব ইউসুফী প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। এই নাগরিক সমাবেশকে কেন্দ্র করে মহানগর নাট্যমঞ্চের আশপাশে ব্যাপক পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। তবে কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেনি। ২০১৬ সালের ৫ আগস্ট দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া গঠনের ঘোষণা দেন। বিদ্যুৎ বিভ্রাট : সমাবেশস্থল দুপুর ২টা থেকে নেতা-কর্মীদের পদচারণামুখর হলেও ২টা ৩৮ মিনিট থেকে মহানগর নাট্যমঞ্চে বিদ্যুৎ চলে যায়। তখন নেতা-কর্মীদের অন্ধকারে বসে থাকতে দেখা গেছে। এরপর বিকেল ২টা ৫৮ মিনিটে বিদ্যুৎ এলে সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়।

আরো সংবাদ
যশোর জেলা
ফেসবুক পেজ
সর্বাধিক পঠিত