আজ - শনিবার, ৩১শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১২ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি, (শীতকাল), সময় - সন্ধ্যা ৭:২৩

যশোরে মাদ্রাসা ছাত্রকে পিটিয়ে হাত ভেঙ্গে দেওয়ার ঘটনায় শিক্ষক আটক।

ক্লাস থেকে ডেকে নিয়ে শিশু শিক্ষার্থী রাইয়ানকে (৭) আছাড় মেরে হাত ভেঙে দেওয়া এবং দুই ঘণ্টা একটি ঘরে হাত বেঁধে আটকে রেখে মারপিট করার ঘটনায় আবদুস সামি (২৭) নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে পুলিশে দেওয়া হয়েছে।

তিনি যশোর শহরের চোপদারপাড়ার শেখ জালাল উদ্দিনের ছেলে এবং শহরের চাঁচড়া রেলগেট তেঁতুলতলা এলাকার তানযীমুল উম্মাহ প্রি-হিফয মাদ্রাসার শিক্ষক।

এই ঘটনায় শিশুর পিতা ওই মাদ্রাসার দুই শিক্ষককে আসাসি করে মামলা করেছেন। অপর আসামি হলেন প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম।

শহরের নাজির শংকরপুর মধ্যপাড়ার রাসেল আহমেদ এজাহারে উল্লেখ করেছেন, তার ছেলে রাইয়ানকে ওই মাদ্রাসার হিফয বিভাগে দুই বছর আগে ভর্তি করেন।

গত ১১ নভেম্বর সকল পৌনে ৯টার দিকে শিক্ষক আব্দুর রশিদ শিশুদের পড়াচ্ছিলেন। সে সময় অপর শিক্ষক আব্দুস সামি সেখানে যান এবং তার ছেলেকে হাত ধরে টেনে আছাড় মারেন। সাথে সাথে তার একটি হাত ভেঙে যায়।

ওই অবস্থায় তাকে সেবা না দিয়ে চতুর্থ তলার একটি ঘরে আটকে রাখে এবং হাত বেঁধে ব্যাডমিন্টন খেলার রেকেট দিয়ে মারপিট করেন।

২ ঘণ্টা পর তার ছেলের হাত ফুলে গেলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। তাকে সংবাদ দেওয়া হয় খেলতে যেয়ে পড়ে তার ছেলের হাত ভেঙে গেছে। তিনি হাসপাতালে গিয়ে তার ছেলের হাতে ব্যান্ডেজ দেখতে পান এবং প্রকৃত ঘটনা জানতে পারেন। ওই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ আছে তাদের কাছে।

পরে পরিবারের সাথে আলাপ আলোচনা করে শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। দায়িত্ব অবহেলার কারণে প্রধান শিক্ষককে আসামি করা হয়েছে।

মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই শিক্ষক সামি পালিয়ে যান। ১২ নভেম্বর মাদ্রাসায় এ বিষয়ে অভিভাবকরা তাদের সাথে বসেন। কিন্তু সামি হাজির না হলে পরদিনও বসা হয়।

বিষয়টি তাদের ঢাকাস্থ পরিচালনা বোর্ডও জানে। ১৪ নভেম্বর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও ছাত্রের অভিভাবকেরা চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়িতে এক শালিসে বসেন।

সেখানে ওই ছাত্রের অভিভাবকরা ক্ষতিপূরণ বাবদ ৩২ লাখ টাকা দাবি করেন। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ দশম শ্রণি পর্যন্ত সব ধরনে ফ্রি ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও শিশুর অভিভাবকরা মানেন নি। সেখানে অভিযুক্ত শিক্ষক সামিকে হাজির করা হয়।

সকলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভিভাবকরা আইনি ব্যবস্থা নেন এবং কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। আর অভিযুক্ত শিক্ষক সামিকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই শুভ কুমার রায় জানিয়েছেন, আটক শিক্ষককে শনিবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আরো সংবাদ
যশোর জেলা
ফেসবুক পেজ
সর্বাধিক পঠিত
-->