
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার কুয়াদা এলাকায় এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কের জেরে গভীর রাতে লঙ্কাকাণ্ড ঘটে গেছে। অভিযুক্ত যুবককে হাতেনাতে আটক করে গণধোলাই দিয়েছে উত্তেজিত জনতা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারামারি ও উত্তেজনায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুয়াদা এলাকার এক বাসিন্দা প্রায় এক বছর আগে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে পাড়ি জমান। অভিযোগ উঠেছে, স্বামীর অনুপস্থিতির সুযোগে তার স্ত্রীর সঙ্গে মনিরামপুরের জামজামি গ্রামের মৃত নিছার আলীর ছেলে ইউসুফ (২৯)-এর অবৈধ প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত চার মাস ধরে তাদের এই গোপন অভিসার নিয়ে এলাকায় কানাঘুষা চলছিল।
শনিবার দিবাগত রাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে ইউসুফ ওই নারীর ঘরে প্রবেশ করলে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পায়। এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে তাদের আপত্তিকর অবস্থায় ধরে ফেলে। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে শত শত মানুষ সেখানে জড়ো হয়।
এ সময় স্থানীয় ইজিবাইক চালক জামালের সঙ্গে অভিযুক্ত ইউসুফের তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত যুবককে আটক করে গণধোলাই দেয়।
ঘটনায় নতুন মোড় নেয় যখন অভিযুক্ত ইউসুফের নিজের স্ত্রী স্বামীর চারিত্রিক স্খলন নিয়ে মুখ খোলেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন:
“গত চার মাস ধরে আমার স্বামী প্রবাসীর স্ত্রীর কাছে যাতায়াত করত। আমি নিজে একাধিকবার হাতেনাতে ধরে নিষেধ করেছি, কিন্তু সে আমার কোনো কথা শোনেনি।”
আটক ইউসুফ পেশায় ট্রলি চালক হলেও এলাকাবাসীর দাবি, সে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। পরকীয়ার পাশাপাশি তার এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
স্থানীয় মাতব্বর ও প্রভাবশালীরাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। তবে প্রবাসীর অনুপস্থিতিতে এমন বিশ্বাস ঘাতকতা এবং সামাজিক অবক্ষয় নিয়ে এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে চলছে তীব্র সমালোচনা।