
যশোরে ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় বাড়ি ও কৃষিজমি দখলের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সদর উপজেলার রূপদিয়া চাচড়া গ্রামের লোকমান মোড়লের ছেলে মো. শহিদুল ইসলাম। সোমবার বেলা ১২টায় স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে নিয়ে যশোর প্রেসক্লাবে তিনি এই সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, স্থানীয় যুবদল ও জামায়াতের কয়েকজন নেতার ইন্ধনে তাকে ও তার পরিবারকে নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে মিথ্যা মামলায় তাকে কারাভোগ করতে হয়েছে। এমনকি এসব নির্যাতনের মানসিক চাপে তার বাবা স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
ভুক্তভোগী মো. শহিদুল ইসলাম জানান, যশোর সদর উপজেলার রূপদিয়া চাচড়া গ্রামে তার পিতার কাছ থেকে কবলা দলিলমূলে জমি ক্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। বাড়ির সঙ্গে লাগোয়া ৩৯ শতক ফসলি জমিও তিনি নিয়মিত ভোগদখলে রেখেছেন। সম্প্রতি ওই জমিটি সরকারি ১/১ খতিয়ানে কালেক্টরেটের নামে রেকর্ডভুক্ত হলে তিনি সরকারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
তিনি আরও জানান, আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় স্থানীয় একটি দখলবাজ চক্র তার জমি হাতিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা শুরু করে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, যুবদল নেতা ইনামুল হক ও মহাসীন, জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম ও জাকির ছাড়াও ওই এলাকার শফিকুল ইসলাম, আব্দুল হাকিম, ইদ্রিস আলী, সিরাজ মেম্বার, আব্দুল খালেকসহ আরও কয়েকজন তার বাড়ি ও জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালায়। তাদের সাথে ছিলেন আপন ভাই আজিজুল।
এ ঘটনায় তিনি পুনরায় আদালতে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। আদালত বিবাদীদের জমিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন। এরপরও বিবাদীরা শহিদুল ইসলাম ও তার পরিবারকে হত্যার হুমকি দিতে থাকে। ওই সময় থেকেই তারা তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করতে থাকে। টাকা না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয় এবং ওই মামলায় তাকে জেলও খাটতে হয়।
এছাড়া, শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ওই সময় বিবাদীরা কৌশলে তার বাবার কাছ থেকে তিনটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। যা ভবিষ্যতে তার জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।