আজ - শনিবার, ৩০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৩ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি, (গ্রীষ্মকাল), সময় - বিকাল ৪:৪২

যশোর বাঘারপাড়া বিএনপির দুই গ্রুপের কুপাকুপিতে আয়ুব গ্রুপের সাইদুর আহত।

যশোরের বাঘারপাড়ায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা টিএস আইয়ুবের অনুসারীদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ উঠেছে বাঘারপাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার নাড়িকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের পুনিয়ার বটতলা গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। হামলায় অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত জয়রামপুর গ্রামের সাদিকুল ইসলামকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া আব্দুল হালিমকে বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

আহত সাদিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি নেতা টিএস আইয়ুবের রাজনীতি করার কারণেই দীর্ঘদিন ধরে তিনি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমানের বিরাগভাজন হয়ে আসছেন। এর আগেও তাকে একাধিকবার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, টিএস আইয়ুবের মনোনয়ন বাতিলের দিনও তাদের ওপর হামলা চালিয়ে কয়েকজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছিল। তার অভিযোগ, শুক্রবার বিকেলে জয়রামপুর গ্রামের আজিজুর, সোহাগ, আকতার, আবু সাইদ, হাসান, ইবাদুল, জসিম, মনির, আজমীর ও আইতুল্লাহসহ ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলার নেতৃত্বে মশিয়ার রহমান নিজে উপস্থিত ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। এসময় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বেধড়ক মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করেন সাদিকুল ইসলাম।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান। তিনি বলেন, “গত জাতীয় নির্বাচনে তারা ধানের শীষের প্রার্থীর হয়ে কাজ করেছে, আর সাদিকুলরা জামায়াতের পক্ষে অবস্থান নেয়। মূল বিরোধের সূত্রপাত তখন থেকেই। ওই এলাকার ইবাদুল নামের একজনের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছিল। সেই ঘটনার জের ধরেই শুক্রবার দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ হয়েছে।”

তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি এলাকায় উপস্থিত ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ বিষয়ে বাঘারপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ শাহাজালাল আলম বলেন, “ঘটনার পরপরই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

এদিকে, স্থানীয় অপর একটি পক্ষবলছে,  নাড়িকেলবাড়িয়া হাটের ইজারা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দুই পক্ষের বিরোধ চলছিলো। সাদিকুল পক্ষ বর্তমানে হাটটি পরিচালনা করছেন। বিপরীত পক্ষ মেনে নিতে পারছেন না। সেই জেরেই এ হামলা চালানো হয়েছে।

আরো সংবাদ
যশোর জেলা
ফেসবুক পেজ
সর্বাধিক পঠিত
-->