আজ - শনিবার, ৩১শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১২ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি, (শীতকাল), সময় - সন্ধ্যা ৭:২৩

সাবেক স্বামীর মিথ্যা অপপ্রচার ও হত্যার হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন।

সাবেক স্বামীর মিথ্যা অপপ্রচার ও প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে বুধবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জেরিন সুলতানা নামে এক নারী। তিনি মাগুরার বামনখালী গ্রামের শেখ হাফিজুর রহমানের মেয়ে। বর্তমানে যশোর সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের নওদাগ্রাম এলাকায় বসবাস করছেন। সংবাদ সম্মেলনে জেরিন সুলতানা বলেন- ২০০৯ সালের ১৪ অক্টোবর যশোরের চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের হাউলী গ্রামের মৃত জড়ান বিশ্বাসের ছেলে জহিরুল ইসলামের সঙ্গে মুসলিম শরীয়াহ মোতাবেক আমার বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিবাহকালে ষাট হাজার টাকা মোহরানা ধার্য করা হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি ১৬ বছর বয়সী ছেলে রয়েছে। তবে পারিবারিক বনিবনার অভাবে ২০২৩ সালের ১ অক্টোবর আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। বিবাহ বিচ্ছেদের পর থেকে আমি জীবিকা নির্বাহের তাগিদে পাইকারি ও খুচরা থ্রি-পিস, শাড়ি ও অন্যান্য বস্ত্র ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমার সাবেক স্বামী জহিরুল ইসলাম বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে এবং সরাসরি আমার বাসায় এসে আমাকে গুম, খুন ও গুরুতর জখম করার হুমকি দিয়ে আসছে। সম্প্রতি হাউলী গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষের সঙ্গে আরেক পক্ষের বিরোধ চলমান রয়েছে, যার সঙ্গে আমি কোনোভাবেই জড়িত নই। অথচ সেই বিরোধের জের ধরে গত ২৬ ডিসেম্বর বিকাল আনুমানিক ৫টার সময় হাউলী গ্রামে আলী কদর, জিয়া রহমান ও আমার সাবেক স্বামী জহিরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সেখানে ইচ্ছাকৃতভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর বক্তব্য প্রদান করা হয়। গত ২৬ ডিসেম্বর আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়। আমি থানায় মামলা করতে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত আদালতে নালিশি মামলা দায়ের করতে বাধ্য হই। এছাড়াও আমার প্রাক্তন স্বামীর সাথে ইউপি সদস্য আলীকদরের সুসম্পর্ক থাকায় বিভিন্ন কুচক্রী পরামর্শ হাওলী গ্রামে বসবাস করা অবস্থায় আমার সামনেও করতেন। আলীকদর ও তার সহযোগীদের দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে গ্রামের যে পাঁচ থেকে ৬ জন গুরুতর আহত হয়েছে বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে তারা। যেখানে আমি ও মহিন কোনভাবেই বিষয়টির সাথে জড়িত নই। ২০২০ সালে চৌগাছা থানার তৎকালীন ওসি রিফাত খান রাজিবের সাথে আঁতাত করে মহিনকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো হয়। পরবর্তীতে ইয়াবা হারানোর নাটক সাজিয়ে ৭ লক্ষ টাকা আদায় করে। এই পরিকল্পিত ঘটনাগুলো যা আমার সামনেই ঘটে। আমার প্রাক্তন স্বামী জহিরুল ইসলাম প্রতিবন্ধী হওয়ায় এই জিয়া ও আলী কদর হওলী গ্রামে বসবাস করার সময় কুপ্রস্তাব দিতো। রাজি না হওয়ায় আমার স্বামীর কাছে আমার বিষয়ে বাজে কথা বলতেন। বর্তমানে আমি একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমার সম্মান- সামাজিক মর্যাদা ও জীবনের নিরাপত্তা আজ চরমভাবে হুমকির মুখে। তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে তার এবং পরিবারের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।

আরো সংবাদ
যশোর জেলা
ফেসবুক পেজ
সর্বাধিক পঠিত
-->