আজ - শনিবার, ৩১শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১২ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি, (শীতকাল), সময় - রাত ৮:৪৭

গাজীপুরে বিকালে ফুটপাতের চাঁদাবাজি লাইভ রাতে সাংবাদিক তুহিন কে কু পিয়ে হ ত্যা।

দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ-এর গাজীপুর প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান তুহিন (৩৮) বৃহস্পতিবার বিকেলে চান্দনা চৌরাস্তায় ফুটপাতের চাঁদাবাজি নিয়ে ফেসবুক লাইভ করেন। লাইভ শেষে রাত ৮টার দিকে আবারও একটি ভিডিও পোস্ট করেন ফেসবুকে, সেখানে দেখা যায় তিনি রাস্তার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল নিয়ে মন্তব্য করছেন।
কিছুক্ষণ পরেই মসজিদ মার্কেটের সামনে এক চায়ের দোকানে বসে ছিলেন তিনি। এ সময় অতর্কিতে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাকে ঘিরে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে। তার মৃত্যুস্থল ছিল শহরের ব্যস্ততম স্থানগুলোর একটি।
নিহত তুহিন ছিলেন ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার ভাটিপাড়া গ্রামের সন্তান। পরিবার নিয়ে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় বসবাস করতেন।
বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন খান জানান, ‘পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। হত্যাকাণ্ডের মোটিভ জানার চেষ্টা চলছে এবং খুনিদের ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে।’
পুলিশের সামনেই নির্যাতন, থেতলে দেওয়া হলো সাংবাদিকের পা।
এই হত্যার আগের দিন, বুধবার বিকেল ৫টার দিকে গাজীপুর সদর থানার কাছেই দৈনিক বাংলাদেশের আলো পত্রিকার সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন সৌরভ নির্মমভাবে মারধরের শিকার হন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, কয়েকজন দুর্বৃত্ত আনোয়ারকে রাস্তায় ফেলে ঘুষি, লাথি, লাঠি এবং শেষে পাথর ও ইট দিয়ে মারছে। এক দুর্বৃত্ত তার বুকের ওপর লাফিয়ে উঠছে।
চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো—এ নৃশংসতা ঘটছে পুলিশের উপস্থিতিতে। পরে পুলিশই তাকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার পায়ে মারাত্মক জখম এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত রয়েছে।
আনোয়ারের মা আনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, ‘এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের মধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা আজ কতটা নিরাপদ?
এই দুটি ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত হামলা নয়, বরং সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশের ওপর বড় ধাক্কা। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দ্রুত বিচার ও অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে এটি অন্যদের জন্য ভয়ের বার্তা হয়ে দাঁড়াবে।
গাজীপুরে যদি সবার চোখের সামনে, পুলিশের সামনেই এমন ঘটনা ঘটে—তবে সাংবাদিকেরা কোথায় নিরাপদ?

আরো সংবাদ
যশোর জেলা
ফেসবুক পেজ
সর্বাধিক পঠিত
-->